বেসরকারি এতিমখানায় ১৪০ কোটি টাকার সরকারি ভাতা অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বেসরকারি এতিমখানায় বসবাসরত এতিম শিশুদের খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির সরকারি অনুদান হিসেবে ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা ছাড় করেছে সরকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন শিশুর অনুকূলে এই অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে।

সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অনুদান হিসেবে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এতিমখানাগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বেসরকারি এতিমখানা খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ মঞ্জুরের মাধ্যমে পুরো বরাদ্দ কার্যত বিতরণের আওতায় এসেছে।

বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানায় থাকা প্রতিটি এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ছয় মাসের অনুদান দেওয়া হবে। সে হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রতিটি শিশুর অনুকূলে মোট ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই অর্থ মূলত শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, এতিম শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে এ অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে থাকা শিশুদের খাদ্য ও জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিতরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, সময়মতো অনুদান বিতরণ হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো এতিম শিশুর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি সীমিত আর্থিক সক্ষমতায় পরিচালিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় নির্বাহেও এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নিবে : পানিসম্পদমন্ত্রী

বেসরকারি এতিমখানায় ১৪০ কোটি টাকার সরকারি ভাতা অনুমোদন

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বেসরকারি এতিমখানায় বসবাসরত এতিম শিশুদের খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির সরকারি অনুদান হিসেবে ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা ছাড় করেছে সরকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন শিশুর অনুকূলে এই অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে।

সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অনুদান হিসেবে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এতিমখানাগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বেসরকারি এতিমখানা খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ মঞ্জুরের মাধ্যমে পুরো বরাদ্দ কার্যত বিতরণের আওতায় এসেছে।

বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানায় থাকা প্রতিটি এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ছয় মাসের অনুদান দেওয়া হবে। সে হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রতিটি শিশুর অনুকূলে মোট ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই অর্থ মূলত শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, এতিম শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে এ অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে থাকা শিশুদের খাদ্য ও জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিতরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, সময়মতো অনুদান বিতরণ হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো এতিম শিশুর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি সীমিত আর্থিক সক্ষমতায় পরিচালিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় নির্বাহেও এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।