অনলাইনে পরিচয়, বিয়ে করতে এসে প্রেমিকার বয়স কম দেখে ফিরে গেলেন চীনা যুবক

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : 

সাত মাস আগে অনলাইনে একটি মিউজিক গ্রুপে পরিচয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে বাংলাদেশি কিশোরীর সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন এম এ হাইশান (৩৯) নামের ওই যুবক। তবে সে আশা আর পূরণ হয়নি। প্রেমিকা রিয়া আক্তার (১৬) বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে না করেই ফিরে গেলেন ওই চীনা যুবক।

বুধবার (১০ জুন) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে কুমারখালীর রিয়ার সঙ্গে চীনের যুবক হাইশানের পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে পরিচয় ও কথাবার্তার একপর্যায়ে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

সেই প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে বুধবার (১০ জুন) সকালে চীনের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন হাইশান। তাকে রিসিভ করে কুমারখালী নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন রিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার উদ্দেশে তিনি কুমারখালী ত্যাগ করেন।

ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে গেছে। আর চীনা যুবকের সঙ্গে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে কথা বলছেন স্থানীয় প্রতিনিধি, স্বজন ও পুলিশের সদস্যরা। আশপাশে উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর একটি ভ্যানে করে চীনা যুবক চলে যান।

রিয়া আক্তার বলেন, প্রায় আট মাস আগে অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার বিকেলে আমাদের বাসায় আসেন, আমি আর আমার দাদি তাকে ঢাকা এয়ারপোর্টে আনতে গিয়েছিলাম। আমি এবার এসএসসি পরিক্ষার্থী, আমার বয়স কম থাকায় পরিবারসহ অনেকে বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছেন এজন্য আমরা বিয়ে করছি না। এম এ হাইশান বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন আমাদের বাসা থেকে। তবে আমি অপেক্ষা করবো যতদিন পর্যন্ত না আমার বিয়ের বয়স হয়। আর যদি না আসে তাহলে আমি আমার জন্য নতুন করে ভাববো।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়ের মা জানান, ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হওয়ার পর সে আমাকে বিষয়টি বলেছে। গতকাল সে বাংলাদেশে এসেছে। সাধ্যমতো আদর-খেদমত করা হয়েছে। মেয়ের বয়স না হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে দেব না।

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন না চীনা যুবক এম এ হাইশান। তবে অ্যাপসের গুগল ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে তিনি বলেন, আমি চীনের গানসু প্রদেশ থেকে এসেছি। আমি বাংলাদেশে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়ে করতে পারছি না। তিন মাসের সম্পর্ক। আমি চীনে ফিরে যাওয়ার পর আরও দেড় বছর সময় আছে। দেড় বছর পর আমি আবার ফিরে আমার প্রিয়তমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হব।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। চীন থেকে ওই ছেলে এসেছে আমাদের গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করতে। তার সম্পর্কে তো আমরা কিছু জানি না। তা ছাড়া তার ভাষাও আমরা বুঝি না। আশপাশের লোকজন তাকে দেখার জন্য আসছেন।

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে বুধবার ছেলেটি ঢাকা পৌঁছালে মেয়ে ও তার স্বজনেরা তাকে বুধবার বিকালে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল ও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির বিয়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নয়। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ফের ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, শুনেছি চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছে। তিনি বর্তমানে তার দেশে ফেরত গেছেন। আমরা সব সময় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আসলে পরিবার বুঝতে পেরেছে তাদের মেয়ের বয়স কম। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের পক্ষে কোনো অনুমতি দেইনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

অনলাইনে পরিচয়, বিয়ে করতে এসে প্রেমিকার বয়স কম দেখে ফিরে গেলেন চীনা যুবক

প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : 

সাত মাস আগে অনলাইনে একটি মিউজিক গ্রুপে পরিচয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে বাংলাদেশি কিশোরীর সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন এম এ হাইশান (৩৯) নামের ওই যুবক। তবে সে আশা আর পূরণ হয়নি। প্রেমিকা রিয়া আক্তার (১৬) বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে না করেই ফিরে গেলেন ওই চীনা যুবক।

বুধবার (১০ জুন) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে কুমারখালীর রিয়ার সঙ্গে চীনের যুবক হাইশানের পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে পরিচয় ও কথাবার্তার একপর্যায়ে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

সেই প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে বুধবার (১০ জুন) সকালে চীনের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন হাইশান। তাকে রিসিভ করে কুমারখালী নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন রিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার উদ্দেশে তিনি কুমারখালী ত্যাগ করেন।

ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে গেছে। আর চীনা যুবকের সঙ্গে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে কথা বলছেন স্থানীয় প্রতিনিধি, স্বজন ও পুলিশের সদস্যরা। আশপাশে উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর একটি ভ্যানে করে চীনা যুবক চলে যান।

রিয়া আক্তার বলেন, প্রায় আট মাস আগে অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার বিকেলে আমাদের বাসায় আসেন, আমি আর আমার দাদি তাকে ঢাকা এয়ারপোর্টে আনতে গিয়েছিলাম। আমি এবার এসএসসি পরিক্ষার্থী, আমার বয়স কম থাকায় পরিবারসহ অনেকে বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছেন এজন্য আমরা বিয়ে করছি না। এম এ হাইশান বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন আমাদের বাসা থেকে। তবে আমি অপেক্ষা করবো যতদিন পর্যন্ত না আমার বিয়ের বয়স হয়। আর যদি না আসে তাহলে আমি আমার জন্য নতুন করে ভাববো।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়ের মা জানান, ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হওয়ার পর সে আমাকে বিষয়টি বলেছে। গতকাল সে বাংলাদেশে এসেছে। সাধ্যমতো আদর-খেদমত করা হয়েছে। মেয়ের বয়স না হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে দেব না।

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন না চীনা যুবক এম এ হাইশান। তবে অ্যাপসের গুগল ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে তিনি বলেন, আমি চীনের গানসু প্রদেশ থেকে এসেছি। আমি বাংলাদেশে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়ে করতে পারছি না। তিন মাসের সম্পর্ক। আমি চীনে ফিরে যাওয়ার পর আরও দেড় বছর সময় আছে। দেড় বছর পর আমি আবার ফিরে আমার প্রিয়তমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হব।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। চীন থেকে ওই ছেলে এসেছে আমাদের গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করতে। তার সম্পর্কে তো আমরা কিছু জানি না। তা ছাড়া তার ভাষাও আমরা বুঝি না। আশপাশের লোকজন তাকে দেখার জন্য আসছেন।

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে বুধবার ছেলেটি ঢাকা পৌঁছালে মেয়ে ও তার স্বজনেরা তাকে বুধবার বিকালে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল ও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির বিয়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নয়। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ফের ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, শুনেছি চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছে। তিনি বর্তমানে তার দেশে ফেরত গেছেন। আমরা সব সময় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আসলে পরিবার বুঝতে পেরেছে তাদের মেয়ের বয়স কম। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের পক্ষে কোনো অনুমতি দেইনি।