নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত।
সোমবার (১ জুন) ঈদের ছুটির পর সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে ঘটে যাওয়া ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি নিজে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও ঘটনাস্থলে গেছেন। মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও নতুন করে তদন্ত করবে। শিশুদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে তদন্তকে আরও কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে আরও বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর প্রতিবেদন তৈরির জন্য কিছু অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হয়েছে। আগামী ৩ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর বিস্তারিত জানানো হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের বক্তব্য, হাসপাতালের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব দিক বিবেচনায় তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
ঘটনার আইনি দিক পর্যালোচনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তদন্তের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টমর্টেম না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সরকারের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেমের চেষ্টা করা হলেও অভিভাবকেরা এতে সম্মতি দেননি।
তিনি বলেন, পোস্টমর্টেমের বিষয়ে অভিভাবকদের রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কেউই এতে সম্মত হননি। জোর করে করলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারতো।
এদিকে ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরদার মো. সাখাওয়াত বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার রয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আলাদা কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। তবে হাসপাতালের পরিবেশ ও রোগীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, ঘটনার ভিডিও আমি দেখেছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর তদারকি নিয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কীভাবে লাইসেন্স পেয়েছে এবং তারা নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত অভিযান ও তদারকি পরিচালনা করছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমে জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধির নাম 














