স্পোর্টস ডেস্ক :
অ্যান্টোয়ান সেমেনিওয়ার দুর্দান্ত ফ্লিক গড়ে দিল ব্যবধান। চলতি মৌসুমে ট্রেবলের আশা বাঁচিয়ে রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপের শিরোপা জিতে নিল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।
শনিবার (১৬ মে) লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেলসির বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুললে নেয় পেপ গার্দিওলার দল। সিটিজেনদের এই ঐতিহাসিক জয়ের একমাত্র নায়ক ঘানার উইঙ্গার আন্তনি সেমেনিও। তার করা দুর্দান্ত এক গোলেই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে যায়।
টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে ওঠা সিটির এটি ক্লাব ইতিহাসের অষ্টম এফএ কাপ শিরোপা। এর আগে চলতি মৌসুমে কারাবাও কাপ জেতা গার্দিওলার দলের এই জয়ে নিশ্চিত হলো দুর্দান্ত এক ‘ডাবল’।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্টে এটি সিটির অষ্টম শিরোপা, এর আগে সবশেষ জিতেছিল ২০২২-২৩ মৌসুমে। ২০১৮-১৯ ও ২০২২-২৩ মৌসুমের পর ফের এফএ কাপ ও লিগ কাপের ডাবল জিতল সিটি। ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর প্রথমবার ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল তারা। অবশ্য প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ভাগ্য এখন আর তাদের হাতে নেই।
অন্যদিকে ক্লাব ইতিহাসে এবার নিয়ে ১৭ বারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে উঠেছিল চেলসি। কিন্তু সবশেষ সাত আসরের মধ্যে চারবারই রানার্স-আপ হওয়ার স্তব্ধতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ব্লুজদের। ১৭ বারের ফাইনালে চেলসি জিতেছে আটবার, আর বাকি নয়বারই তাদের রানার্স-আপের ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
ফাইনালে মাঠের খেলায় বল দখল কিংবা লক্ষ্যে শট নেওয়া সব বিভাগেই চেলসির চেয়ে এগিয়ে ছিল ম্যান সিটি। ম্যাচের ৫৬ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে মোট ৯টি শট নেয় গার্দিওলার শিষ্যরা, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে সিটির ডিফেন্সের কড়া পাহারায় পুরো ম্যাচে মাত্র ৬টি শট নিতে পারে চেলসি, যার কেবল ১টি ছিল অন-টার্গেট।
ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণ জমাট রেখে ম্যানসিটিকে লম্বা সময় আটকে রেখেছিল চেলসি। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ব্লুদের জালে বল পাঠিয়েছিলেন আর্লিং হালান্ড। তবে অফসাইডের কারণে নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের গোলটি বাতিল হয়ে যায়। বিরতির ঠিক আগের মিনিটে হালান্ডের আরও একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা রুখে দেন চেলসির গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ।
অবশেষে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ১৮ মিনিট বাকি থাকতে ডেডলক ভাঙে ম্যানসিটি। ম্যাচের ৭২ মিনিটে বার্নার্ডো সিলভা বল বাড়ান হালান্ডের উদ্দেশ্যে। ডান দিক থেকে নরওয়েজিয়ান তারকা বল পাস করেন আন্তোয়ান সেমেনিওকে। চেলসি ডিফেন্ডার লেভি কলউইল গায়ের সঙ্গে লেগে থাকলেও দারুণ পায়ের কাজে বল নিয়ন্ত্রণে নেন সেমেনিও। এরপর কোনাকুনি শটে সানচেজকে পরাস্ত করে সিটিকে উল্লাসে ভাসান এই ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড।
গোল খাওয়ার পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। তবে সিটির ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া এনজো ফার্নান্দেজের শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত সেমেনিওর ওই এক গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
এফএ কাপ জয়ের পর সিটির মনোযোগ এখন প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার দৌড়ে। আগামী মঙ্গলবার তারা বোর্নমাউথের মাঠে খেলতে নামবে। লিগ শিরোপার এই কঠিন লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও কোচ গার্দিওলা তার সম্ভাব্য বিদায়ী মৌসুম অন্তত দুটি শিরোপা জিতে শেষ করছেন, এটি এখন নিশ্চিত।
রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই শিরোপার উল্লাসে মেতে ওঠেন ‘অনুশীলন ছাড়াই’ ফাইনালে খেলা সিটির খেলোয়াড়রা। আবেগ ছুঁয়ে যায় বের্নার্দো সিলভাকে। সিটির খেলোয়াড় হিসেবে শেষবার ওয়েম্বলিতে খেললেন তিনি।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























