Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণাত্মক অবস্থা থেকে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে ২ বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (১৬ মে) বেলা ১২টায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা মনে করছেন, আমি অর্থমন্ত্রী অর্থের ভাণ্ডার নিয়ে বসে আছি। একটা একটা চেক লিখে দেব, আর টাকা চলে আসবে। বিষয়টা অত সহজ না। তারমধ্যে আমরা একটা খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অংকের একটা টাকা চলে গেছে তেল-গ্যাসের মধ্যে। প্রায় ৪ বিলিয়ন মানে ৪০ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে। এরআগে বিগত সরকারগুলো থেকে আমরা যেটা পেয়েছি সেটা ‘মাইনাস, মাইনাস অ্যান্ড মাইনাস’। এখানে যোগ কিছু নাই। সবগুলো ঋণাত্মক এখানে। তো এগুলো আবার ‘মেইকআপ’ করতে হচ্ছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে ঋণাত্মক অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে যা পেয়েছি, সেটা মাইনাস, মাইনাস, মাইনাস। এখানে যোগ কিছু নেই, সবগুলো ঋণাত্মক। অনেক বিল তারা পরিশোধ করে যায়নি। পাওয়ার সেক্টর, এনার্জি সেক্টরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এখন সেগুলোও পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। প্রথমে এখান থেকে বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে এগোবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে সরকার। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে।

মন্ত্রী বলেন, যারা হতদরিদ্র, যাদের চিকিৎসা করাতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি। যেহেতু সরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধতা আছে, সেজন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের কাছে পেশেন্ট পাঠাবো। তারা চিকিৎসা করবে। বিলটা সরকার দিয়ে দেবে। সুতরাং যারা হতদরিদ্র তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। কারণ সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে চায়।

আমির খসরু বলেন, আমরা যে ইউনিভার্সেল, প্রিভেন্টিভ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের কথা বলছি, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক অধিকার। যে অধিকার থেকে তারা এতদিন বঞ্চিত ছিল। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। আমরা সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের একটা বড় কর্মসূচি নিয়েছে। এবার আমাদের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছি। কারণ আমরা যে সর্বজনীন ‘হেলথ কেয়ার, প্রিভেনটিভ হেলথ কেয়ার ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের’ কথা বলছি এটা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। যে অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। এ অধিকার প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার অধিকার থাকে। এ স্বাস্থ্য সেবাকে আরো উপরের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। যারা হতদরিদ্র, যাদের দারিদ্র্যতার কারণে স্বাস্থ্য সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের উপরের স্তরের যে চিকিৎসাগুলো দরকার সেগুলোর জন্য আমরা ‘প্রাইভেট সেক্টরের অ্যারেজমেন্টে’ যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমরা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সাথে কথা বলছি। রোগীকে আমরা তাদের কাছে পাঠাব। তারা তাদের চিকিৎসা করবে। বিল সরকার দিয়ে দেবে। যারা হতদরিদ্র, দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করতে পারছে না, তাদের জন্য বাজেট বড় করা হচ্ছে। শুধু বাজেট দিয়ে কিছু হবে না, স্বাস্থ্যখাতে যারা আছেন তাদের সহযোগিতা লাগবে। সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্য সেবা জনগণ পায় কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বড় ভবন করলে কোনো উপকার হবে না, যারা ‘অপারেট’ করে তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাদের মধ্যে সততার অভাব যদি হয়, বরাদ্দ কোনো কাজে আসে না।

আমির খসরু বলেন, বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ হয়েছে, তার অধিকাংশ দুর্নীতির মাধ্যমে চলে গেছে। জনগণ কোনো স্বাস্থ্য সেবা পায়নি। তাই আমি বলছি যে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবার হবে, সেটা সকলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু বলেন, বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক হয়ে গেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে। দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দক্ষ জনবলের অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিতে হবে।

নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত ৭২টি গাড়ি পার্কিংকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বেজমেন্ট নির্মাণ করার কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

ফারাক্কা চুক্তিই বলে দেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না : মির্জা ফখরুল

ঋণাত্মক অবস্থা থেকে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে ২ বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (১৬ মে) বেলা ১২টায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা মনে করছেন, আমি অর্থমন্ত্রী অর্থের ভাণ্ডার নিয়ে বসে আছি। একটা একটা চেক লিখে দেব, আর টাকা চলে আসবে। বিষয়টা অত সহজ না। তারমধ্যে আমরা একটা খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অংকের একটা টাকা চলে গেছে তেল-গ্যাসের মধ্যে। প্রায় ৪ বিলিয়ন মানে ৪০ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে। এরআগে বিগত সরকারগুলো থেকে আমরা যেটা পেয়েছি সেটা ‘মাইনাস, মাইনাস অ্যান্ড মাইনাস’। এখানে যোগ কিছু নাই। সবগুলো ঋণাত্মক এখানে। তো এগুলো আবার ‘মেইকআপ’ করতে হচ্ছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে ঋণাত্মক অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে যা পেয়েছি, সেটা মাইনাস, মাইনাস, মাইনাস। এখানে যোগ কিছু নেই, সবগুলো ঋণাত্মক। অনেক বিল তারা পরিশোধ করে যায়নি। পাওয়ার সেক্টর, এনার্জি সেক্টরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এখন সেগুলোও পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। প্রথমে এখান থেকে বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে এগোবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে সরকার। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে।

মন্ত্রী বলেন, যারা হতদরিদ্র, যাদের চিকিৎসা করাতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি। যেহেতু সরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধতা আছে, সেজন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের কাছে পেশেন্ট পাঠাবো। তারা চিকিৎসা করবে। বিলটা সরকার দিয়ে দেবে। সুতরাং যারা হতদরিদ্র তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। কারণ সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে চায়।

আমির খসরু বলেন, আমরা যে ইউনিভার্সেল, প্রিভেন্টিভ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের কথা বলছি, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক অধিকার। যে অধিকার থেকে তারা এতদিন বঞ্চিত ছিল। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। আমরা সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের একটা বড় কর্মসূচি নিয়েছে। এবার আমাদের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছি। কারণ আমরা যে সর্বজনীন ‘হেলথ কেয়ার, প্রিভেনটিভ হেলথ কেয়ার ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের’ কথা বলছি এটা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। যে অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। এ অধিকার প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার অধিকার থাকে। এ স্বাস্থ্য সেবাকে আরো উপরের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। যারা হতদরিদ্র, যাদের দারিদ্র্যতার কারণে স্বাস্থ্য সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের উপরের স্তরের যে চিকিৎসাগুলো দরকার সেগুলোর জন্য আমরা ‘প্রাইভেট সেক্টরের অ্যারেজমেন্টে’ যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমরা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সাথে কথা বলছি। রোগীকে আমরা তাদের কাছে পাঠাব। তারা তাদের চিকিৎসা করবে। বিল সরকার দিয়ে দেবে। যারা হতদরিদ্র, দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করতে পারছে না, তাদের জন্য বাজেট বড় করা হচ্ছে। শুধু বাজেট দিয়ে কিছু হবে না, স্বাস্থ্যখাতে যারা আছেন তাদের সহযোগিতা লাগবে। সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্য সেবা জনগণ পায় কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বড় ভবন করলে কোনো উপকার হবে না, যারা ‘অপারেট’ করে তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাদের মধ্যে সততার অভাব যদি হয়, বরাদ্দ কোনো কাজে আসে না।

আমির খসরু বলেন, বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ হয়েছে, তার অধিকাংশ দুর্নীতির মাধ্যমে চলে গেছে। জনগণ কোনো স্বাস্থ্য সেবা পায়নি। তাই আমি বলছি যে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবার হবে, সেটা সকলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু বলেন, বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক হয়ে গেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে। দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দক্ষ জনবলের অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিতে হবে।

নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত ৭২টি গাড়ি পার্কিংকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বেজমেন্ট নির্মাণ করার কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।