Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাধবপুরে সংযোগ সড়ক না থাকায় ২০ বছরেও চালু হয়নি সেতুটি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : 

এক পাশে পাকা রাস্তা, অন্য পাশে সরু আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। মাঝখানে সরু খাল। তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু। দুই পাশের রাস্তার সঙ্গে ২০ বছরেও সংযোগ সড়ক পায়নি সেতুটি। মানুষের পদচারণা না থাকায় গায়ে শ্যাওলা জমে গেছে। সেতুটির রেলিংয়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। কেন বা কার স্বার্থে সেতুটি করা হয়েছে, তার উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বাঘাসুরা ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামে গেলেই দেখা মিলবে সেতুটির।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের শাহজিবাজার-বাঘাসুরা-ছাতিয়ান বাজার সড়কটির রূপনগর গ্রামের খালের উপর পুরাতন সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পনের বছর আগে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করে পুরাতন সেতুর পাশেই রাস্তা বিহীন অপরিকল্পিত নতুন সেতু নিমার্ণ করা হয়। যা বর্তমানে এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যানবাহনসহ পথচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। নির্মিত নতুন সেতুর একপাশে পাকা রাস্তা থাকলেও অন্য পাশে ধানের জমি, নেই কোন রাস্তা। তাই জনসাধারণের কোন কাজে আসেনি এই সেতুটি।

জানা গেছে, পুরাতন সেতুটি ভেঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণের সিডিউল থাকলেও স্থানীয় কিছু গ্রাম সরদারদের বাঁধার কারনে ঠিকাদার পুরাতন সেতু ভাঙ্গতে পারেনি। বাজেটের অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়ার অজুহাতে মনগড়া সেতু নির্মাণ করে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটির পাশেই থাকা পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছেন। নতুন সেতুর এক পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও অন্য পাশে এখনো রয়েছে ধানিজমি, তৈরি হয়নি কোনো সংযোগ সড়ক।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকজন প্রভাবশালী গ্রামবাসীর বাধার কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে বাজেট ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় পাশেই নতুন সেতু নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকার বাসিন্দা সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, নতুন ব্রিজ চালু না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাশের পুরোনো ব্রিজ দিয়ে হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ব্রিজটি চালুর দাবি জানাই।

অন্যদিকে জমির মালিক কবির মিয়া বলেন, আমি কখনো বিনামূল্যে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেইনি। জমিটি আমার কেনা। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী টাকা দিলে আমি জমি দিতে রাজি আছি।

বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জোসনা আক্তার বলেন, মাত্র দুই শতক জমি হলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব। এই জমির মূল্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা হবে। অথচ দুই লাখ টাকার জন্য ১২ লাখ টাকার ব্রিজ অকেজো পড়ে আছে। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, আমি এখানে যোগদানের প্রায় ১৯ বছর আগেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। তখনকার প্রকৌশলী কেন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেননি, সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। শুনেছি, পাশের জমির মালিক জায়গা দিতে রাজি হননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।

আবহাওয়া

মাধবপুরে সংযোগ সড়ক না থাকায় ২০ বছরেও চালু হয়নি সেতুটি

প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : 

এক পাশে পাকা রাস্তা, অন্য পাশে সরু আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। মাঝখানে সরু খাল। তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু। দুই পাশের রাস্তার সঙ্গে ২০ বছরেও সংযোগ সড়ক পায়নি সেতুটি। মানুষের পদচারণা না থাকায় গায়ে শ্যাওলা জমে গেছে। সেতুটির রেলিংয়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। কেন বা কার স্বার্থে সেতুটি করা হয়েছে, তার উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বাঘাসুরা ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামে গেলেই দেখা মিলবে সেতুটির।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের শাহজিবাজার-বাঘাসুরা-ছাতিয়ান বাজার সড়কটির রূপনগর গ্রামের খালের উপর পুরাতন সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পনের বছর আগে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করে পুরাতন সেতুর পাশেই রাস্তা বিহীন অপরিকল্পিত নতুন সেতু নিমার্ণ করা হয়। যা বর্তমানে এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যানবাহনসহ পথচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। নির্মিত নতুন সেতুর একপাশে পাকা রাস্তা থাকলেও অন্য পাশে ধানের জমি, নেই কোন রাস্তা। তাই জনসাধারণের কোন কাজে আসেনি এই সেতুটি।

জানা গেছে, পুরাতন সেতুটি ভেঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণের সিডিউল থাকলেও স্থানীয় কিছু গ্রাম সরদারদের বাঁধার কারনে ঠিকাদার পুরাতন সেতু ভাঙ্গতে পারেনি। বাজেটের অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়ার অজুহাতে মনগড়া সেতু নির্মাণ করে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটির পাশেই থাকা পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছেন। নতুন সেতুর এক পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও অন্য পাশে এখনো রয়েছে ধানিজমি, তৈরি হয়নি কোনো সংযোগ সড়ক।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকজন প্রভাবশালী গ্রামবাসীর বাধার কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে বাজেট ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় পাশেই নতুন সেতু নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকার বাসিন্দা সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, নতুন ব্রিজ চালু না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাশের পুরোনো ব্রিজ দিয়ে হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ব্রিজটি চালুর দাবি জানাই।

অন্যদিকে জমির মালিক কবির মিয়া বলেন, আমি কখনো বিনামূল্যে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেইনি। জমিটি আমার কেনা। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী টাকা দিলে আমি জমি দিতে রাজি আছি।

বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জোসনা আক্তার বলেন, মাত্র দুই শতক জমি হলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব। এই জমির মূল্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা হবে। অথচ দুই লাখ টাকার জন্য ১২ লাখ টাকার ব্রিজ অকেজো পড়ে আছে। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, আমি এখানে যোগদানের প্রায় ১৯ বছর আগেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। তখনকার প্রকৌশলী কেন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেননি, সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। শুনেছি, পাশের জমির মালিক জায়গা দিতে রাজি হননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।