Dhaka রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৬০ বছর পর ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে কোনো অ-দ্রাবিড় রাজনৈতিক দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো তামিলনাড়ুতে।

রোববার (১০ মে) উৎসবমুখর পরিবেশে সমর্থকদের উল্লাস ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। তিনি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং টিভিকে-র জোটসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

44

বিজয় বলেন, তিনি জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না এবং ‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ’ গড়ে তুলতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তার সরকারের কাজ মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে যুক্তিসঙ্গত সময়ও চান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। আমিই একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র হব।’ তার এই মন্তব্যকে জোটসঙ্গীদের চাপমুক্ত থেকে সরকার পরিচালনার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভাষণে বিজয় জানান, স্বচ্ছতার স্বার্থে তিনি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা বিবেচনা করছেন।

ভাষণে তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ু সরকারের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজ্যের মোট ঋণ ১০ লাখ কোটি রুপির বেশি হয়ে গেছে। সরকারি কোষাগার প্রায় খালি করে ফেলা হয়েছে এবং অসহনীয় বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেই আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হবে। সবকিছু মূল্যায়নের পর আমরা একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করব। আমি স্বচ্ছ সরকার পরিচালনা করতে চাই, জনগণকে প্রকৃত অবস্থা জানাতে চাই এবং সেখান থেকেই এগোতে চাই। সেটাই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব।’

প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, ‘আজ আপনারাই সেই কারণ, যার জন্য আমি বলতে পারছি ‘আমি সি জোসেফ বিজয়’। আমি কোনো ত্রাণকর্তা নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ, যিনি সাধারণ জীবনযাপন করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করব না। যা সম্ভব, শুধু সেটাই করব। অনেকেই ভাবতে পারেন অসম্ভব মনে হওয়া কাজ আদৌ সম্ভব কি না। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ যখন আমার পাশে দাঁড়ায়, তখন আমি বিশ্বাস করি সবকিছুই সম্ভব। সেই আত্মবিশ্বাস আমার আছে।’

নিজের পারিবারিক পটভূমির কথা তুলে ধরে বিজয় বলেন, ‘একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে হিসেবে, যিনি সিনেমায় সফল হতে কঠোর সংগ্রাম করেছেন, আমি দারিদ্র্য আর ক্ষুধার অর্থ খুব ভালোভাবেই জানি। আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের পরিবারেরই একজন। আপনারাও আমাকে সেভাবেই দেখেছেন বলেই সিনেমায় এত বড় জায়গা দিয়েছেন। সবকিছু ছেড়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি আপনাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে। আর আপনারা আমাকে ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করেছেন।’

তামিলনাড়ুর জনগণকে ‘নতুন শাসনব্যবস্থা ও নতুন সূচনার’ জন্য এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজয় বলেন, ‘আজ থেকে ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ শুরু হলো।’

বক্তব্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ‘ভার্চুয়াল যোদ্ধাদের’ ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তাকে সমর্থন দেওয়া তরুণ ভক্তদেরও কৃতজ্ঞতা জানান, যারা তাকে ‘বিজয় মামা’ বলে ডাকেন।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত জোটসঙ্গী নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিজয়। তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, কে সি ভেনুগোপাল, তামিলনাড়ু কংগ্রেস নেতা কে সেলভাপেরুনথাগাই, প্রবীণ চক্রবর্তী, সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি, থোল থিরুমাভালাভান, ডি রাজাসহ জোটের অন্য নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

এবারের নির্বাচনে ৫১ বছর বয়সী ‘থালাপতি’ বিজয়ের দল টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে নিয়েছিল। সরকার গঠনে ন্যূনতম ১১৮ আসনের ‘ম্যাজিক মার্কের’ জন্য তিনি পরে কংগ্রেস ও বামদের দ্বারস্থ হন। তাদের পাশাপাশি পরে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগেরও (আইইউএমএল) সমর্থন পায় টিভিকে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য বিজয়কে কয়েকদিন ধরে একাধিকবার গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ৫, ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচচি’র (ভিসিকে) ২, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া-মার্কসিস্ট (সিপিআইএম) ও আইইউএমএল-র দুইজন করে বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে সরকার গড়তে গভর্নরের ‘সবুজ সঙ্কেত’ পান।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয়ের এ সরকার তামিলনাড়ুতে প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকেবিহীন প্রথম সরকার।

আগের সরকারে থাকা দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (এআইডিএমকে) এবারের নির্বাচনে যথাক্রমে ৫৯ ও ৪৭টি আসন জিতেছে।

রোববার বিজয়ের সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার আরও ৯ সদস্যেরও শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এরা সবাই টিভিকের।

তাদের মধ্যে এআইএডিএমকে-র সাবেক নেতা কেএ সেনগোতাইয়ানও আছেন; যিনি দীর্ঘদিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রন ও জয়ললিতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

এআইএডিএমকে’র নেতা পালানিস্বামীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে বিজয় তাকে নতুন দলে নেন।

প্রাথমিক এ মন্ত্রিসভায় আধাভ অর্জুনা, নির্মল কুমার, টিভিকের সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ, রাজ মোহন, ড. টিকে প্রভু, অরুন রাজ, পি ভেঙ্কটারমন ও এক কীর্তনাও থাকছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

পরবর্তীতে জোটসঙ্গীদের ভেতর থেকেও বিজয় কয়েকজনকে তার মন্ত্রিসভায় স্থান দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্ব পেতে পারেন তা জানা যায়নি। বিজয়ের এই নতুন সরকারকে আগামী বুধবারের আগেই বিধানসভায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।

১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম তামিলনাড়ুর শাসনভার এমন কোনো দলের হাতে গেল যারা রাজ্যের প্রধান দুই দ্রাবিড় শিবিরের সদস্য নয়। বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে গোটা চেন্নাই জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তার সমর্থকরা এই জয়কে তামিল রাজনীতির এক ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে অভিহিত করছেন। শপথ গ্রহণ শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় এখন রাজ্য পরিচালনায় তাঁর নতুন মন্ত্রিসভা এবং কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। তবে রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৩ মের মধ্যে তাকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে।

আবহাওয়া

দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন আসাদুজ্জামান নূর

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

প্রকাশের সময় : ১২:০১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৬০ বছর পর ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে কোনো অ-দ্রাবিড় রাজনৈতিক দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো তামিলনাড়ুতে।

রোববার (১০ মে) উৎসবমুখর পরিবেশে সমর্থকদের উল্লাস ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। তিনি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং টিভিকে-র জোটসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

44

বিজয় বলেন, তিনি জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না এবং ‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ’ গড়ে তুলতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তার সরকারের কাজ মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে যুক্তিসঙ্গত সময়ও চান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। আমিই একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র হব।’ তার এই মন্তব্যকে জোটসঙ্গীদের চাপমুক্ত থেকে সরকার পরিচালনার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভাষণে বিজয় জানান, স্বচ্ছতার স্বার্থে তিনি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা বিবেচনা করছেন।

ভাষণে তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ু সরকারের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজ্যের মোট ঋণ ১০ লাখ কোটি রুপির বেশি হয়ে গেছে। সরকারি কোষাগার প্রায় খালি করে ফেলা হয়েছে এবং অসহনীয় বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেই আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হবে। সবকিছু মূল্যায়নের পর আমরা একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করব। আমি স্বচ্ছ সরকার পরিচালনা করতে চাই, জনগণকে প্রকৃত অবস্থা জানাতে চাই এবং সেখান থেকেই এগোতে চাই। সেটাই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব।’

প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, ‘আজ আপনারাই সেই কারণ, যার জন্য আমি বলতে পারছি ‘আমি সি জোসেফ বিজয়’। আমি কোনো ত্রাণকর্তা নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ, যিনি সাধারণ জীবনযাপন করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করব না। যা সম্ভব, শুধু সেটাই করব। অনেকেই ভাবতে পারেন অসম্ভব মনে হওয়া কাজ আদৌ সম্ভব কি না। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ যখন আমার পাশে দাঁড়ায়, তখন আমি বিশ্বাস করি সবকিছুই সম্ভব। সেই আত্মবিশ্বাস আমার আছে।’

নিজের পারিবারিক পটভূমির কথা তুলে ধরে বিজয় বলেন, ‘একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে হিসেবে, যিনি সিনেমায় সফল হতে কঠোর সংগ্রাম করেছেন, আমি দারিদ্র্য আর ক্ষুধার অর্থ খুব ভালোভাবেই জানি। আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের পরিবারেরই একজন। আপনারাও আমাকে সেভাবেই দেখেছেন বলেই সিনেমায় এত বড় জায়গা দিয়েছেন। সবকিছু ছেড়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি আপনাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে। আর আপনারা আমাকে ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করেছেন।’

তামিলনাড়ুর জনগণকে ‘নতুন শাসনব্যবস্থা ও নতুন সূচনার’ জন্য এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজয় বলেন, ‘আজ থেকে ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ শুরু হলো।’

বক্তব্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ‘ভার্চুয়াল যোদ্ধাদের’ ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তাকে সমর্থন দেওয়া তরুণ ভক্তদেরও কৃতজ্ঞতা জানান, যারা তাকে ‘বিজয় মামা’ বলে ডাকেন।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত জোটসঙ্গী নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিজয়। তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, কে সি ভেনুগোপাল, তামিলনাড়ু কংগ্রেস নেতা কে সেলভাপেরুনথাগাই, প্রবীণ চক্রবর্তী, সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি, থোল থিরুমাভালাভান, ডি রাজাসহ জোটের অন্য নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

এবারের নির্বাচনে ৫১ বছর বয়সী ‘থালাপতি’ বিজয়ের দল টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে নিয়েছিল। সরকার গঠনে ন্যূনতম ১১৮ আসনের ‘ম্যাজিক মার্কের’ জন্য তিনি পরে কংগ্রেস ও বামদের দ্বারস্থ হন। তাদের পাশাপাশি পরে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগেরও (আইইউএমএল) সমর্থন পায় টিভিকে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য বিজয়কে কয়েকদিন ধরে একাধিকবার গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ৫, ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচচি’র (ভিসিকে) ২, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া-মার্কসিস্ট (সিপিআইএম) ও আইইউএমএল-র দুইজন করে বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে সরকার গড়তে গভর্নরের ‘সবুজ সঙ্কেত’ পান।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয়ের এ সরকার তামিলনাড়ুতে প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকেবিহীন প্রথম সরকার।

আগের সরকারে থাকা দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (এআইডিএমকে) এবারের নির্বাচনে যথাক্রমে ৫৯ ও ৪৭টি আসন জিতেছে।

রোববার বিজয়ের সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার আরও ৯ সদস্যেরও শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এরা সবাই টিভিকের।

তাদের মধ্যে এআইএডিএমকে-র সাবেক নেতা কেএ সেনগোতাইয়ানও আছেন; যিনি দীর্ঘদিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রন ও জয়ললিতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

এআইএডিএমকে’র নেতা পালানিস্বামীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে বিজয় তাকে নতুন দলে নেন।

প্রাথমিক এ মন্ত্রিসভায় আধাভ অর্জুনা, নির্মল কুমার, টিভিকের সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ, রাজ মোহন, ড. টিকে প্রভু, অরুন রাজ, পি ভেঙ্কটারমন ও এক কীর্তনাও থাকছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

পরবর্তীতে জোটসঙ্গীদের ভেতর থেকেও বিজয় কয়েকজনকে তার মন্ত্রিসভায় স্থান দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্ব পেতে পারেন তা জানা যায়নি। বিজয়ের এই নতুন সরকারকে আগামী বুধবারের আগেই বিধানসভায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।

১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম তামিলনাড়ুর শাসনভার এমন কোনো দলের হাতে গেল যারা রাজ্যের প্রধান দুই দ্রাবিড় শিবিরের সদস্য নয়। বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে গোটা চেন্নাই জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তার সমর্থকরা এই জয়কে তামিল রাজনীতির এক ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে অভিহিত করছেন। শপথ গ্রহণ শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় এখন রাজ্য পরিচালনায় তাঁর নতুন মন্ত্রিসভা এবং কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। তবে রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৩ মের মধ্যে তাকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে।