Dhaka শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

নতুন প্রজন্মের ওপর আগামীর বাংলাদেশ নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সারাদেশে একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই তোমরা খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে সারা পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি সবাইকে খেলাধুলা করতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার তোমাদের পাশে আছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরাই। আমাদের সময় প্রায় শেষ। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, তোমাদেরকেই এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন বড় খেলোয়াড় হবে, বড় মানুষ হবে, নেতা হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে।

খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের… আজকের এই নতুন কুড়ি স্পোর্টস অনুষ্ঠানের… চিফ গেস্ট কারা? কারা বলেছি আমি? এই যে গ্যালারিতে ছোট বন্ধুরা বসে আছো তোমরা হচ্ছে আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পড়াশুনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বেসেডর হবে. তোমাদেরকেই বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ ইউ আর দি ফিউচার, তোমরাই ভবিষ্যৎ।

তারেক রহমান বলেন, এখন পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে, আর খেলতে হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে সেই ব্যবস্থা আমরা করব, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব, যে খেলতে চায় সে খেলায়াড় হবে সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।

সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বক্তৃতা দিতে ডায়াসে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী। গতানুগতিক বক্তৃতার পথে না হেঁটে হাত উঠিয়ে বললেন, ‘আমার সামনে একটা কাগজ আছে। বক্তৃতার। কিন্তু আমি এটা দেখে বলবো না। তোমাদের সাথে গল্প করব।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার পেছনের গল্পটাও শোনালেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বছর চারেক আগে আমার সাথে লন্ডনে দেখা করতে গিয়েছিল আজকের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তাকে নিয়ে একটা হোটেলে খেতে বসেছি। সাথে ছিল তোমাদের আন্টি (জোবাইদা রহমান)। সে স্পোর্টসের হওয়ায় বললাম স্পোর্টস নিয়ে কী প্ল্যান আছে বলো। তখনই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের চিন্তাটা আসে।’

তারপর নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর পরিকল্পনার গল্প শোনালেন তারেক রহমান, ‘এখন এই যে আজকের এই অনুষ্ঠানটা, এই যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস, এটার আইডিয়াটা কীভাবে আসলো সেই গল্পটা আমি তোমাদেরকে বলব। বেশি বড় গল্প না, ছোট গল্প, শুনবে?’

তিনি বলে গেলেন, ‘এটা প্রায় চার, সাড়ে চার বছর আগের কথা। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে। সাড়ে চার বছর আগের কথা, আজকের এই যে আমাদের স্পোর্টস মিনিস্টার আমিনুল, এই আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে আমার সাথে দেখা করতে। তখন আমি লন্ডনে থাকতাম। তো আমিনুল এসেছে, আমার সাথে কথা বলছে। তো ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছি। আমি গিয়েছি, আমার সাথে তোমাদের আন্টি গিয়েছেন। তো আমরা গল্প করছি, কথা বলছি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তারপরে আমরা কথা শুরু করলাম, যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি ওর সাথে স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম। যে স্পোর্টস নিয়ে আমরা কী কী করব, বিভিন্ন বিষয় আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে, আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করব বাংলাদেশে।’

‘আমরা শুরু করব, তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে’, নতুন কুড়ি স্পোর্টসে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলে চললেন, ‘আর এই নতুন কুড়ি স্পোর্টসে কারা থাকবে? এই যে তোমরা আজকের এই গ্যালারিতে বসে আছো, তোমাদের সাথে কিন্তু আরো প্রায় সবগুলো জেলা কিন্তু অনলাইনে কানেক্টেড, কিন্তু সারা বাংলাদেশ কিন্তু তোমাদের সাথে কানেক্টেড। সব বাংলাদেশের নতুন কুড়ির বন্ধুরা, ছোট বন্ধুরা। তোমাদের সকলকে আমি বলছি, শুধু সিলেটে যারা তারা না, পুরা বাংলাদেশকে আমি বলছি, সব বন্ধুদেরকে। এইটা হচ্ছে আজকে তোমাদের অনুষ্ঠান।’

এমন আয়োজনের কারণ কী বললেন তারেক রহমান, ‘কিন্তু কেন আমরা এই আইডিয়াটা ঠিক করলাম? কেন আমরা করতে চাচ্ছি? আমি চাই… এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে তোমাদের মধ্যে থেকে এই বাংলাদেশের, হবে না? ইনশাআল্লাহ!’

পড়াশোনার সঙ্গে সবাইকে খেলাধুলা এবং লক্ষ্য ঠিক করার আহ্বান তার, ‘পড়ালেখা তো সবাইকে করতে হবে, পড়ালেখা কিন্তু মাফ করা যাবে না। কিন্তু পড়ালেখার পাশাপাশি প্রত্যেককে খেলতে হবে। খেলতে হবে, নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। মনে রাখবে, তোমাকে ঠিক করে নিতে হবে তুমি কী করবে এবং তুমি যখন নিজেকে ঠিক করে নিতে পারবে, নিজের লক্ষ্যকে স্থির করে নিতে পারবে, তখন তুমি সেই টার্গেট এচিভ করার জন্য সেই সামনের দিকে তোমাকে এগোতে হবে। ঠিক আছে?’

এই খুদেরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে বিশ্বাস তারেক রহমানের, ‘খেলার ক্ষেত্রে হোক, পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক, সরকার থেকে আমরা আমাদের দেশের যেই সামর্থ্য আছে, যতটুকু আমাদের ক্যাপাবিলিটি আছে, আমরা আমাদের ছোট বন্ধুদের পাশে আছি। কেউ খেলোয়াড় হবে, কেউ গায়ক হবে, কেউ মিউজিশিয়ান হবে, একেকজন একেকটা হবে। সরকার, রাষ্ট্র তোমাদের পাশে আছে। কারণ ওই যে একটু আগে বলেছি, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তোমরা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরা।’

তিনি বললেন, ‘তোমরা যত সুন্দরভাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে পারবে, তোমরা যত শক্তিশালীভাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে পারবে—যে খেলোয়াড় হতে চাও তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চাও তাকে গায়ক হতে হবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চাও তাকে মিউজিশিয়ান হতে হবে, যে আর্কিটেক্ট হতে চাও তাকে আর্কিটেক্ট হতে হবে, যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও তাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, যে ডাক্তার হতে চাও তাকে ডাক্তার হতে হবে। প্রত্যেককে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে, তাহলেই এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

দেশের সরকার প্রধান আরও বললেন, ‘পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে। আর খেলতে হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে, সেই ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ আমরা করবো। যে খেলতে চায় সে খেলোয়াড় হবে, সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাআল্লাহ করবো। ঠিক আছে? এই তোমাদের সাথে আমার কন্ট্রাক্ট। কিন্তু ওই যে প্রথমে যেটা বললাম, তোমাদের সকলকে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হতে হবে। অ্যাম্বাসেডর হতে হবে, হবে তো ইয়েস! তাহলে আজকে আমার কথা শেষ!’

সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তোমরাই প্রধান অতিথি।’

শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের লিখিত বক্তব্য পাঠ না করে বলেন, ‘আজকে বক্তৃতা দিতে ইচ্ছা করছে না। তোমাদের সঙ্গে কথা বলি।’ তিনি বলেন, ‘তোমরাই হচ্ছো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে, তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের বড় বড় ডাক্তার তৈরি হবে, তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাল্লাহ আন্তর্জাতিক লইয়ার হবে, তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবেৃ. তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে এই বাংলাদেশে। হবে ইনশাল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। তোমাদেরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রধানমন্ত্রী সবার কাছে জানতে চান- পারবে? জবাবে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলে, ‘হ্যাঁ‘। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েস, সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।‘

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে খেলোয়াড় হতে চাও তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চাও তাকে গায়ক হতে হবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চাও তাকে মিউজিশিয়ান হতে হবে, যে আর্কিটেক্ট হতে চাও তাকে আর্কিটেক্ট হতে হবে, যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও তাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, যে ডাক্তার হতে চাও তাকে ডাক্তার হতে হবে। প্রত্যেককে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শত তত শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এর পর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।

পরে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাড়ি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন। এরপর স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে আটটি ক্রীড়া ইভেন্টের প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদফতর। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে এলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে এলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে । আমি লন্ডনে থাকতাম, আমিনুল এসছে আমার সাথে কথা বলছে। ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়েছি, আমার সাথে তোমাদের আন্টি (জুবাইদা রহমান) গিয়েছেন, এখানে কয়সর বসে আছে, সেও ছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ… আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, যে স্পোর্টস নিয়ে আমরা কী কী করব? একপর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এমএ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদে আসছে আদর-পূজার ‘নাকফুলের কাব্য’

নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

নতুন প্রজন্মের ওপর আগামীর বাংলাদেশ নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সারাদেশে একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই তোমরা খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে সারা পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি সবাইকে খেলাধুলা করতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার তোমাদের পাশে আছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরাই। আমাদের সময় প্রায় শেষ। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, তোমাদেরকেই এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন বড় খেলোয়াড় হবে, বড় মানুষ হবে, নেতা হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে।

খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের… আজকের এই নতুন কুড়ি স্পোর্টস অনুষ্ঠানের… চিফ গেস্ট কারা? কারা বলেছি আমি? এই যে গ্যালারিতে ছোট বন্ধুরা বসে আছো তোমরা হচ্ছে আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পড়াশুনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বেসেডর হবে. তোমাদেরকেই বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ ইউ আর দি ফিউচার, তোমরাই ভবিষ্যৎ।

তারেক রহমান বলেন, এখন পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে, আর খেলতে হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে সেই ব্যবস্থা আমরা করব, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব, যে খেলতে চায় সে খেলায়াড় হবে সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।

সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বক্তৃতা দিতে ডায়াসে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী। গতানুগতিক বক্তৃতার পথে না হেঁটে হাত উঠিয়ে বললেন, ‘আমার সামনে একটা কাগজ আছে। বক্তৃতার। কিন্তু আমি এটা দেখে বলবো না। তোমাদের সাথে গল্প করব।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার পেছনের গল্পটাও শোনালেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বছর চারেক আগে আমার সাথে লন্ডনে দেখা করতে গিয়েছিল আজকের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তাকে নিয়ে একটা হোটেলে খেতে বসেছি। সাথে ছিল তোমাদের আন্টি (জোবাইদা রহমান)। সে স্পোর্টসের হওয়ায় বললাম স্পোর্টস নিয়ে কী প্ল্যান আছে বলো। তখনই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের চিন্তাটা আসে।’

তারপর নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর পরিকল্পনার গল্প শোনালেন তারেক রহমান, ‘এখন এই যে আজকের এই অনুষ্ঠানটা, এই যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস, এটার আইডিয়াটা কীভাবে আসলো সেই গল্পটা আমি তোমাদেরকে বলব। বেশি বড় গল্প না, ছোট গল্প, শুনবে?’

তিনি বলে গেলেন, ‘এটা প্রায় চার, সাড়ে চার বছর আগের কথা। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে। সাড়ে চার বছর আগের কথা, আজকের এই যে আমাদের স্পোর্টস মিনিস্টার আমিনুল, এই আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে আমার সাথে দেখা করতে। তখন আমি লন্ডনে থাকতাম। তো আমিনুল এসেছে, আমার সাথে কথা বলছে। তো ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছি। আমি গিয়েছি, আমার সাথে তোমাদের আন্টি গিয়েছেন। তো আমরা গল্প করছি, কথা বলছি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তারপরে আমরা কথা শুরু করলাম, যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি ওর সাথে স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম। যে স্পোর্টস নিয়ে আমরা কী কী করব, বিভিন্ন বিষয় আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে, আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করব বাংলাদেশে।’

‘আমরা শুরু করব, তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে’, নতুন কুড়ি স্পোর্টসে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলে চললেন, ‘আর এই নতুন কুড়ি স্পোর্টসে কারা থাকবে? এই যে তোমরা আজকের এই গ্যালারিতে বসে আছো, তোমাদের সাথে কিন্তু আরো প্রায় সবগুলো জেলা কিন্তু অনলাইনে কানেক্টেড, কিন্তু সারা বাংলাদেশ কিন্তু তোমাদের সাথে কানেক্টেড। সব বাংলাদেশের নতুন কুড়ির বন্ধুরা, ছোট বন্ধুরা। তোমাদের সকলকে আমি বলছি, শুধু সিলেটে যারা তারা না, পুরা বাংলাদেশকে আমি বলছি, সব বন্ধুদেরকে। এইটা হচ্ছে আজকে তোমাদের অনুষ্ঠান।’

এমন আয়োজনের কারণ কী বললেন তারেক রহমান, ‘কিন্তু কেন আমরা এই আইডিয়াটা ঠিক করলাম? কেন আমরা করতে চাচ্ছি? আমি চাই… এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে তোমাদের মধ্যে থেকে এই বাংলাদেশের, হবে না? ইনশাআল্লাহ!’

পড়াশোনার সঙ্গে সবাইকে খেলাধুলা এবং লক্ষ্য ঠিক করার আহ্বান তার, ‘পড়ালেখা তো সবাইকে করতে হবে, পড়ালেখা কিন্তু মাফ করা যাবে না। কিন্তু পড়ালেখার পাশাপাশি প্রত্যেককে খেলতে হবে। খেলতে হবে, নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। মনে রাখবে, তোমাকে ঠিক করে নিতে হবে তুমি কী করবে এবং তুমি যখন নিজেকে ঠিক করে নিতে পারবে, নিজের লক্ষ্যকে স্থির করে নিতে পারবে, তখন তুমি সেই টার্গেট এচিভ করার জন্য সেই সামনের দিকে তোমাকে এগোতে হবে। ঠিক আছে?’

এই খুদেরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে বিশ্বাস তারেক রহমানের, ‘খেলার ক্ষেত্রে হোক, পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক, সরকার থেকে আমরা আমাদের দেশের যেই সামর্থ্য আছে, যতটুকু আমাদের ক্যাপাবিলিটি আছে, আমরা আমাদের ছোট বন্ধুদের পাশে আছি। কেউ খেলোয়াড় হবে, কেউ গায়ক হবে, কেউ মিউজিশিয়ান হবে, একেকজন একেকটা হবে। সরকার, রাষ্ট্র তোমাদের পাশে আছে। কারণ ওই যে একটু আগে বলেছি, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তোমরা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরা।’

তিনি বললেন, ‘তোমরা যত সুন্দরভাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে পারবে, তোমরা যত শক্তিশালীভাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে পারবে—যে খেলোয়াড় হতে চাও তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চাও তাকে গায়ক হতে হবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চাও তাকে মিউজিশিয়ান হতে হবে, যে আর্কিটেক্ট হতে চাও তাকে আর্কিটেক্ট হতে হবে, যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও তাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, যে ডাক্তার হতে চাও তাকে ডাক্তার হতে হবে। প্রত্যেককে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে, তাহলেই এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

দেশের সরকার প্রধান আরও বললেন, ‘পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে। আর খেলতে হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে, সেই ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ আমরা করবো। যে খেলতে চায় সে খেলোয়াড় হবে, সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাআল্লাহ করবো। ঠিক আছে? এই তোমাদের সাথে আমার কন্ট্রাক্ট। কিন্তু ওই যে প্রথমে যেটা বললাম, তোমাদের সকলকে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হতে হবে। অ্যাম্বাসেডর হতে হবে, হবে তো ইয়েস! তাহলে আজকে আমার কথা শেষ!’

সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তোমরাই প্রধান অতিথি।’

শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের লিখিত বক্তব্য পাঠ না করে বলেন, ‘আজকে বক্তৃতা দিতে ইচ্ছা করছে না। তোমাদের সঙ্গে কথা বলি।’ তিনি বলেন, ‘তোমরাই হচ্ছো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে, তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের বড় বড় ডাক্তার তৈরি হবে, তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাল্লাহ আন্তর্জাতিক লইয়ার হবে, তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবেৃ. তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে এই বাংলাদেশে। হবে ইনশাল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। তোমাদেরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রধানমন্ত্রী সবার কাছে জানতে চান- পারবে? জবাবে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলে, ‘হ্যাঁ‘। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েস, সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।‘

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে খেলোয়াড় হতে চাও তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চাও তাকে গায়ক হতে হবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চাও তাকে মিউজিশিয়ান হতে হবে, যে আর্কিটেক্ট হতে চাও তাকে আর্কিটেক্ট হতে হবে, যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও তাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, যে ডাক্তার হতে চাও তাকে ডাক্তার হতে হবে। প্রত্যেককে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শত তত শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এর পর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।

পরে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাড়ি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন। এরপর স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে আটটি ক্রীড়া ইভেন্টের প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদফতর। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে এলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে এলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে । আমি লন্ডনে থাকতাম, আমিনুল এসছে আমার সাথে কথা বলছে। ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়েছি, আমার সাথে তোমাদের আন্টি (জুবাইদা রহমান) গিয়েছেন, এখানে কয়সর বসে আছে, সেও ছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ… আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, যে স্পোর্টস নিয়ে আমরা কী কী করব? একপর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এমএ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।