Dhaka মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘৭ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন, ১২ মার্চের মধ্যে বোনাস দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বেতন আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একইসঙ্গে ঈদের বোনাস যেন আগামী ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকায় সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৪তম এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি টিটিসি) ২২তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ-সংক্রান্ত আলোচনা এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কল-কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বেতন আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দিতে হবে। আগামী ১২ মার্চের মধ্যে ঈদের বোনাস পরিশোধে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধের বিষয়টি কারখানাভেদে মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোনো পক্ষ সক্ষম হলে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের সমস্যা, মালিকদের সক্ষমতা ও শিল্পের বাস্তবতা, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে চায়। আগে ভাগে আলোচনা হলে অনেক বড় সমস্যারও সমাধান নিজেদের মধ্যেই সম্ভব।

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শ্রম খাতের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর এখন সবার দায়িত্ব দেশকে এগিয়ে নেওয়া।

মালিক ও শ্রমিক, উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর ঈদ উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি ছুটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত সাধারণ ছুটি বহাল থাকবে। তবে কলকারখানার ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কারখানা ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

বক্তব্যে তিনি মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরের শ্রমশক্তি এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে হলে সব খাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

শিল্প খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফরমাল সেক্টরে থাকলেও সামগ্রিক শ্রমশক্তির বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। দেশকে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে হলে সব খাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রম খাতকে ফরমালাইজ করা না গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধাও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাবে না।

দেশের অগ্রগতিতে সব খাতের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় সরকার বিকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আবদুল মুক্তাদিও বলেন, প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে এবং এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে দেশের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, সরাসরি রেশন ব্যবস্থা না হলেও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে রেশনের উদ্দেশ্য অনেকটাই পূরণ হবে।

সভায় তিনি ট্রাইপার্টাইট কনসালটেটিভ (টিসি) মিটিং নিয়মিত আয়োজনের ওপর জোর দেন। তার মতে, বাংলাদেশের শিল্প ও শ্রম খাতে নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান থাকবেই, আর এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমসচিবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে টিসি গঠন করা হয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণে নিয়মিতভাবে টিটিসি মিটিং আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার সময় তর্ক-বিতর্ক বা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; বরং পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।

সভায় দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ-সংক্রান্ত আলোচনা এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের ফজলে হাসান শামিম এবং টিটিসির সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

এসএসসিতে নকল প্রতিরোধে জরুরি নির্দেশনা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর

‘৭ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন, ১২ মার্চের মধ্যে বোনাস দিতে হবে’

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বেতন আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একইসঙ্গে ঈদের বোনাস যেন আগামী ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকায় সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৪তম এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি টিটিসি) ২২তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ-সংক্রান্ত আলোচনা এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কল-কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বেতন আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দিতে হবে। আগামী ১২ মার্চের মধ্যে ঈদের বোনাস পরিশোধে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধের বিষয়টি কারখানাভেদে মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোনো পক্ষ সক্ষম হলে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের সমস্যা, মালিকদের সক্ষমতা ও শিল্পের বাস্তবতা, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে চায়। আগে ভাগে আলোচনা হলে অনেক বড় সমস্যারও সমাধান নিজেদের মধ্যেই সম্ভব।

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শ্রম খাতের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর এখন সবার দায়িত্ব দেশকে এগিয়ে নেওয়া।

মালিক ও শ্রমিক, উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর ঈদ উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি ছুটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত সাধারণ ছুটি বহাল থাকবে। তবে কলকারখানার ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কারখানা ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

বক্তব্যে তিনি মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরের শ্রমশক্তি এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে হলে সব খাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

শিল্প খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফরমাল সেক্টরে থাকলেও সামগ্রিক শ্রমশক্তির বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। দেশকে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে হলে সব খাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রম খাতকে ফরমালাইজ করা না গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধাও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাবে না।

দেশের অগ্রগতিতে সব খাতের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় সরকার বিকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আবদুল মুক্তাদিও বলেন, প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে এবং এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে দেশের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, সরাসরি রেশন ব্যবস্থা না হলেও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে রেশনের উদ্দেশ্য অনেকটাই পূরণ হবে।

সভায় তিনি ট্রাইপার্টাইট কনসালটেটিভ (টিসি) মিটিং নিয়মিত আয়োজনের ওপর জোর দেন। তার মতে, বাংলাদেশের শিল্প ও শ্রম খাতে নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান থাকবেই, আর এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমসচিবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে টিসি গঠন করা হয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণে নিয়মিতভাবে টিটিসি মিটিং আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার সময় তর্ক-বিতর্ক বা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; বরং পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।

সভায় দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ-সংক্রান্ত আলোচনা এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের ফজলে হাসান শামিম এবং টিটিসির সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।