Dhaka সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে কোন দল? জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐক্যমতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এখন থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে চাই। সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিক ও সাক্ষাতে অফার করেছি যে তারা যেন ডেপুটি ঠিক করেন। এবং স্পিকার নির্বাচনের দিনই যেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারে।

তাহলে কি এবারই উচ্চকক্ষ গঠিত হচ্ছে? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। তবে আমরা ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার বিষয়টি এখন অফার করতেই পারি। যদিও চাইলে সরকারি দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুটোই নিতে পারে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার একজন বিরোধী দল থেকে হবেন। সেটা আমরা এখনই গুড উইল হিসেবে অফার করেছি।

সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতিকে যেন বক্তব্য দিতে না দেওয়া হয়— এ বিষয়ে একটি রিট হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার জানা নেই এরকম কোনো রিট হয়েছে কি না। রিট হতেই পারে, চিঠিও দিতে পারে। আমরা তো বলেছি যে, এই কথা বলার অধিকার এবং স্বাধীনতার জন্যই আমরা জীবন দিয়েছি। কেউ চিঠি দিতেই পারে, কিন্তু আমাদের সংবিধান কী বলে? আমাদের প্রথা ও ট্রাডিশন কী বলে?

তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে, সংসদের বছরের শুরুতে এবং নতুন সংসদ গঠিত হলে প্রারম্ভিক সেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এটি সংবিধানে বহাল আছে এবং প্রথা অনুযায়ী সেটিই হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি দাবি করে এবং ভবিষ্যতে যদি সংবিধান সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় যে রাষ্ট্রপতি আর ভাষণ দেবেন না, সেটা তখন দেখা যাবে।।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। নবনির্বাচিত সংসদে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা সদস্য হিসেবে যোগদান করবেন। এর বাইরে সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কিছু না থাকায়, যারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হয়েছেন সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু জাতীয় সংসদে তারা সেই হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সেখানে শুধুমাত্র সংসদ সদস্যগণই অংশ নিতে পারবেন। বর্তমানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে মাঠ-ময়দান, সেমিনার বা বিবৃতিতে যা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে তারা বলতেই পারেন। তাদের কথা বলার অধিকার আছে, দাবিও তুলতে পারেন। কিন্তু অসাংবিধানিক কোনো কিছু আমরা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারি না।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, যদি গণভোটের রায় অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে তা জাতীয় সংসদে আলাপ-আলোচনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।

সংবিধান সংশোধনী আনা হলে এবং তা গৃহীত হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন কি না, কারা শপথ করাবেন এবং কোন ফরমে করাবেন- সেসব বিষয় সেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সুতরাং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আলাপ-আলোচনার বিষয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে আজ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ (সংবিধান সংস্কার আদেশ-২০২৫) নামে যে আদেশটি হয়েছিল, সেটি সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর কোনো বৈধতা নেই দাবি করে এই রিটটি দাখিল হয়েছে। এর শুনানিও আজ হওয়ার কথা। বিচার বিভাগ থেকে কী মতামত আসে দেখা যাক। সেটিও আমরা জাতীয় সংসদের জন্য বিবেচনায় নিতে পারব। এই বিষয়গুলো আইনানুগ ও সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। এটিই গণতান্ত্রিক চর্চা।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংযোজনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ১৩৩টি অধ্যাদেশের সবগুলোর ক্ষেত্রেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনে এগুলো উপস্থাপিত হবে। এরপর কোনগুলো গৃহীত হবে আর কোনগুলো হবে না, তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বরগুনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ পরিবারকে ৪৬ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর 

জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:০০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে কোন দল? জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐক্যমতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এখন থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে চাই। সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিক ও সাক্ষাতে অফার করেছি যে তারা যেন ডেপুটি ঠিক করেন। এবং স্পিকার নির্বাচনের দিনই যেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারে।

তাহলে কি এবারই উচ্চকক্ষ গঠিত হচ্ছে? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। তবে আমরা ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার বিষয়টি এখন অফার করতেই পারি। যদিও চাইলে সরকারি দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুটোই নিতে পারে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার একজন বিরোধী দল থেকে হবেন। সেটা আমরা এখনই গুড উইল হিসেবে অফার করেছি।

সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতিকে যেন বক্তব্য দিতে না দেওয়া হয়— এ বিষয়ে একটি রিট হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার জানা নেই এরকম কোনো রিট হয়েছে কি না। রিট হতেই পারে, চিঠিও দিতে পারে। আমরা তো বলেছি যে, এই কথা বলার অধিকার এবং স্বাধীনতার জন্যই আমরা জীবন দিয়েছি। কেউ চিঠি দিতেই পারে, কিন্তু আমাদের সংবিধান কী বলে? আমাদের প্রথা ও ট্রাডিশন কী বলে?

তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে, সংসদের বছরের শুরুতে এবং নতুন সংসদ গঠিত হলে প্রারম্ভিক সেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এটি সংবিধানে বহাল আছে এবং প্রথা অনুযায়ী সেটিই হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি দাবি করে এবং ভবিষ্যতে যদি সংবিধান সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় যে রাষ্ট্রপতি আর ভাষণ দেবেন না, সেটা তখন দেখা যাবে।।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। নবনির্বাচিত সংসদে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা সদস্য হিসেবে যোগদান করবেন। এর বাইরে সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কিছু না থাকায়, যারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হয়েছেন সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু জাতীয় সংসদে তারা সেই হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সেখানে শুধুমাত্র সংসদ সদস্যগণই অংশ নিতে পারবেন। বর্তমানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে মাঠ-ময়দান, সেমিনার বা বিবৃতিতে যা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে তারা বলতেই পারেন। তাদের কথা বলার অধিকার আছে, দাবিও তুলতে পারেন। কিন্তু অসাংবিধানিক কোনো কিছু আমরা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারি না।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, যদি গণভোটের রায় অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে তা জাতীয় সংসদে আলাপ-আলোচনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।

সংবিধান সংশোধনী আনা হলে এবং তা গৃহীত হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন কি না, কারা শপথ করাবেন এবং কোন ফরমে করাবেন- সেসব বিষয় সেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সুতরাং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আলাপ-আলোচনার বিষয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে আজ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ (সংবিধান সংস্কার আদেশ-২০২৫) নামে যে আদেশটি হয়েছিল, সেটি সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর কোনো বৈধতা নেই দাবি করে এই রিটটি দাখিল হয়েছে। এর শুনানিও আজ হওয়ার কথা। বিচার বিভাগ থেকে কী মতামত আসে দেখা যাক। সেটিও আমরা জাতীয় সংসদের জন্য বিবেচনায় নিতে পারব। এই বিষয়গুলো আইনানুগ ও সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। এটিই গণতান্ত্রিক চর্চা।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংযোজনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ১৩৩টি অধ্যাদেশের সবগুলোর ক্ষেত্রেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনে এগুলো উপস্থাপিত হবে। এরপর কোনগুলো গৃহীত হবে আর কোনগুলো হবে না, তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।