Dhaka সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেউ পুলিশের কাজে বাধা দিতে পারবে না, দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কেউ পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক হোক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে যেন জনভোগান্তি না হয়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেটা অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে হবে। পুলিশের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তবে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। যাতে তাদের দ্বারা মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। রাজনৈতিক কারণে বিধির বাইরে পুলিশ সুপাররা যেন কাউকে প্রোটোকল না দেয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, খুব দ্রুত পুলিশে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি পদায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি নিয়োগ লটারিতে হয় না। সার্ভিস রেকর্ড, দক্ষতা ও জেলার উপযোগিতা বিবেচনায় পদায়ন করতে হবে।

ই-পাসপোর্ট সেবায় নাগরিক ভোগান্তি কমাতে রেজিস্টার্ড সহায়ক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের আদলে নিবন্ধিত সহায়ক রাখা হতে পারে, যারা নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে এ ব্যবস্থা চালু করে সফল হলে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করা। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমরা আবারও ভেরিফাই করবো। সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা আমরা সেটা খতিয়ে দেখবো।

১৫ বছরের অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনা করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি এটা দ্রুততার সঙ্গে করতে পারব। লাইসেন্স যারা পেয়েছে তারা এটা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা সেটা যাচাই করা হবে। যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে। এসব লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে দশ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলো এখন অবৈধ। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগুলো উদ্ধার হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা মেসেজ ক্লিয়ার-চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে দেশে লটারিতে ওসি-এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে যার যেখানে যাওয়ার কথা না সেখানে দেওয়া হয়েছে। যারা যে জেলা সামলাতে পারবেন না তাকে সেখানে দেওয়া হয়েছে। এগুলো সার্ভিস রেকর্ড দেখে দেওয়া উচিত ছিল। আমরা মনে করি এই লটারির প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হয়নি। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করবো।

তিনি বলেন, পাঁচ আগস্টে বেশকিছু মামলায় অনেক সুবিধাবাদী গ্রুপ ভোগান্তিতে ফেলতে সাধারণ অনেককে মামলায় জড়িয়েছে। এগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া হবে। এ কাজগুলো পুলিশ করবে।

২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৭৫০ জন এসআই ও সার্জেন্টের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তাঁদের চাকরি পুনর্বহালের কথা থাকলেও ফাইল আটকে ছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সারসংক্ষেপ আদালতে পাঠানো হবে এবং তারা চাকরি ফিরে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিচ্ছিন্নভাবে নয় সম্মিলিতভাবে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী

কেউ পুলিশের কাজে বাধা দিতে পারবে না, দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কেউ পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক হোক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে যেন জনভোগান্তি না হয়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেটা অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে হবে। পুলিশের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তবে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। যাতে তাদের দ্বারা মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। রাজনৈতিক কারণে বিধির বাইরে পুলিশ সুপাররা যেন কাউকে প্রোটোকল না দেয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, খুব দ্রুত পুলিশে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি পদায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি নিয়োগ লটারিতে হয় না। সার্ভিস রেকর্ড, দক্ষতা ও জেলার উপযোগিতা বিবেচনায় পদায়ন করতে হবে।

ই-পাসপোর্ট সেবায় নাগরিক ভোগান্তি কমাতে রেজিস্টার্ড সহায়ক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের আদলে নিবন্ধিত সহায়ক রাখা হতে পারে, যারা নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে এ ব্যবস্থা চালু করে সফল হলে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করা। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমরা আবারও ভেরিফাই করবো। সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা আমরা সেটা খতিয়ে দেখবো।

১৫ বছরের অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনা করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি এটা দ্রুততার সঙ্গে করতে পারব। লাইসেন্স যারা পেয়েছে তারা এটা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা সেটা যাচাই করা হবে। যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে। এসব লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে দশ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলো এখন অবৈধ। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগুলো উদ্ধার হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা মেসেজ ক্লিয়ার-চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে দেশে লটারিতে ওসি-এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে যার যেখানে যাওয়ার কথা না সেখানে দেওয়া হয়েছে। যারা যে জেলা সামলাতে পারবেন না তাকে সেখানে দেওয়া হয়েছে। এগুলো সার্ভিস রেকর্ড দেখে দেওয়া উচিত ছিল। আমরা মনে করি এই লটারির প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হয়নি। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করবো।

তিনি বলেন, পাঁচ আগস্টে বেশকিছু মামলায় অনেক সুবিধাবাদী গ্রুপ ভোগান্তিতে ফেলতে সাধারণ অনেককে মামলায় জড়িয়েছে। এগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া হবে। এ কাজগুলো পুলিশ করবে।

২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৭৫০ জন এসআই ও সার্জেন্টের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তাঁদের চাকরি পুনর্বহালের কথা থাকলেও ফাইল আটকে ছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সারসংক্ষেপ আদালতে পাঠানো হবে এবং তারা চাকরি ফিরে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।