Dhaka বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামপন্থি দলগুলোতে প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড়ো আকারে : টিআইবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০২ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোতে প্রার্থীদের সংখ্যা বড়ো আকারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নাম্বারে মাইডাস সেন্টারের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।

টিআইবি জানায়, জাতীয় নির্বাচনে এবার ৫১ রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং প্রথমবার নির্বাচন করছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন প্রার্থী। ইসলামী দলগুলোর প্রার্থী ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থী ৩৬ দশমিক ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

টিআইবি আরও জানায়, বাংলাদেশে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। এবার নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। মাত্র ৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ নারী প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ৬ এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ২৪ জন।

টিআইবির তথ্যে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। আর ১৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে লড়বেন।

সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮৮৬৮.৫২ কোটি টাকা।

সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এরমধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭৪৭১.৬৭ কোটি টাকা।

১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে টিআইবি বলছে, বিএনপির ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; এই হার ৩২.৭৯ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬.৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত বলে জানিয়েছে টিআইবি।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড় আকারে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ বলছে টিআইবি।

প্রতিবারের মত এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২.৬১ এবং ১১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

এ বছর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত-কোটিপতি প্রার্থী।

এবারের নির্বাচনে বর্তমানে মামলা আছে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিলো ৭৪০ জন বা ৩১.৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

এবার সকল দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সর্বমোট নির্বাচনি ব্যয় ৪৬৩.৭ কোটি টাকা, প্রতিজন প্রার্থীর গড় ব্যয় সাড়ে ২২ লক্ষ টাকা।

ঘোষিত সবচেয়ে বেশি ব্যয় বিএনপির ১১৯.৫ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মোট ব্যয় ৮০.৬ কোটি টাকা।

এবার ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ বেশি, ১১৮ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট সংখ্যা বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ইসলামপন্থি দলগুলোতে প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড়ো আকারে : টিআইবি

প্রকাশের সময় : ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোতে প্রার্থীদের সংখ্যা বড়ো আকারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নাম্বারে মাইডাস সেন্টারের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।

টিআইবি জানায়, জাতীয় নির্বাচনে এবার ৫১ রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং প্রথমবার নির্বাচন করছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন প্রার্থী। ইসলামী দলগুলোর প্রার্থী ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থী ৩৬ দশমিক ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

টিআইবি আরও জানায়, বাংলাদেশে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। এবার নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। মাত্র ৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ নারী প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ৬ এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ২৪ জন।

টিআইবির তথ্যে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। আর ১৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে লড়বেন।

সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮৮৬৮.৫২ কোটি টাকা।

সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এরমধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭৪৭১.৬৭ কোটি টাকা।

১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে টিআইবি বলছে, বিএনপির ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; এই হার ৩২.৭৯ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬.৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত বলে জানিয়েছে টিআইবি।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড় আকারে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ বলছে টিআইবি।

প্রতিবারের মত এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২.৬১ এবং ১১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

এ বছর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত-কোটিপতি প্রার্থী।

এবারের নির্বাচনে বর্তমানে মামলা আছে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিলো ৭৪০ জন বা ৩১.৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

এবার সকল দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সর্বমোট নির্বাচনি ব্যয় ৪৬৩.৭ কোটি টাকা, প্রতিজন প্রার্থীর গড় ব্যয় সাড়ে ২২ লক্ষ টাকা।

ঘোষিত সবচেয়ে বেশি ব্যয় বিএনপির ১১৯.৫ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মোট ব্যয় ৮০.৬ কোটি টাকা।

এবার ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ বেশি, ১১৮ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট সংখ্যা বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।