নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের সব উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বাকি ৮টি উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে নতুন ভবন প্রয়োজন, সেখানে নতুন ভবন করা হবে। হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম নতুনভাবে করার জন্য আজকে থেকে শুরু করছি। সেই হিসাবে জনবল যন্ত্রপাতি দেওয়ার জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে একটি মিটিং করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রামীণ চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য প্রত্যেকটি হাসপাতালতে একজন নারী ফিজিওথেরাপিস্ট ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্ট পদ থাকবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পাঁচটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার শিশু বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে। এই হাসপাতালগুলো আগামী ছয় মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে। সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ সুবিধা থাকবে।
তিনি বলেন, চায়না-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যাগে ৫টি বড় শহরে ৫টি এক হাজার শয্যার করে বড় হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এই হাসপাতালগুলো আধুনিক ডিজাইনে হবে। শুধু মাত্র মহিলারা চিকিৎসা নিতে পারবেন এই হাসপাতালগুলোতে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুর্নীতির আবর্ত থেকে বেরিয়ে স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানো হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকে সহজ করা হবে এবং জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে স্বাস্থ্যসেবা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ হয়নি। আমরা সেই দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা খাত তথা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পাঁচটি বিভাগে আমরা ৫টি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করছি, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায়। এই ৫টি হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে করা হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা সদর এলাকায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমরা উদ্বোধন করতে যাচ্ছি। এসব হাসপাতালের প্রতিটিতে এক হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল লাগবে। প্রতিটি হাসপাতালে পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী গতকাল জনপ্রশাসনমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামীকাল সেটি নিয়ে বৈঠক হবে। জনবল বরাদ্দ হলে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক কোড নেব এবং ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমরা এই ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করব।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন্ড ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর জন্য পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় প্রাঙ্গণ রাখা হবে। আমরা আগামী চার মাসের মধ্যে, তবে যদি কোনো কারণে না পারি—কারণ যন্ত্রপাতি বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে, এলসি হবে—তাহলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ইনশাআল্লাহ ৫টি হাসপাতাল উদ্বোধন করব।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা অমানবিক পরিবেশে জীবন যাপন করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ হয়নি। আমরা সেই দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা খাত তথা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের সেবক ও ডাক্তারদের আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছি। একটি বা দুটি ভবন যেটি প্রয়োজন হবে—তা নির্মাণ করা হবে। এ জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রকল্প তৈরি করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে টেন্ডার হবে এবং কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে এটি ঘোষণা করবেন।
এছাড়া ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালের ২-৩টি ভবন ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব ভবন যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। বিগত সরকারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে এগুলো সাবলেট দিয়েছে। সেই সাবলেটিং আমরা উচ্ছেদ করে ভবনগুলোকে কন্ডেমড ঘোষণা দিয়ে সেখানে নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছি। মিডফোর্ড হাসপাতালের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে, মূলত চীনের অর্থায়নে, আমরা ৫টি হাসপাতাল নির্মাণ করতে যাচ্ছি। প্রতিটি হাসপাতাল হবে ১ হাজার শয্যার। বাংলাদেশের ৫টি বৃহৎ শহরে বা শহরসংলগ্ন কোনো উন্মুক্ত স্থানে আধুনিক নকশায়, অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক নির্মাণশৈলীতে এই ৫টি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এগুলো হবে শুধু মহিলাদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল। আমাদের মায়েদের জন্য এই ৫টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজও এই অর্থবছরের মধ্যেই শুরু করব ইনশাআল্লাহ। আগামী ১৫ আগস্ট তিন মাসে নতুন ভবন উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবলসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৫ আগস্ট এটি উদ্বোধনের কথা চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















