Dhaka বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই নির্দেশের কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল, তা পার হওয়ার পরও একটি বড় অংশের অস্ত্র এখনও মাঠ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে মামলা দায়েরের জন্য মাঠ প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় বা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে এবং যেসব লাইসেন্স ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত হবে, কেবল সেই অস্ত্রগুলোই সরকার বাজেয়াপ্ত করবে। তবে ২০০৯ সালের আগে ইস্যু করা বৈধ লাইসেন্সধারীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের অস্ত্র ফেরত পাবেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধেও জেলা প্রশাসকদের ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহিষ্ণুতা) নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের পাশাপাশি মাদকের বিস্তার বন্ধ করা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থ পাচার ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি জেলা পর্যায়ে যে জেলাওয়ারি কতগুলো মামলা সে রকম দাখিল হয়েছে। এগুলো রিমোট ডিস্ট্রিক্টগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যা একটু বেশি। তাতে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব যেন আপনারা সবাই জানেন অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা, সেটা তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন এবং যেন স্বল্প সময়ের ভেতরে সেটা ডিসপোজ অব (নিষ্পত্তি) করতে পারে।

তিনি বলেন, আর যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের যেন নিষ্কৃতি দেয় সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবেই হবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে।

ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি এটা দ্রুত পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে থাকে, আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা তো বিলম্ব করবেন না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে যে কমিটি আমরা করে দিয়েছিলাম হেডেড বাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এডিএম, এসপি, পিপি এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছে। তারা এই কমিটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণের কাছে জানিয়েছে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এই সমস্ত ভুয়া মামলা, মিথ্যা মামলাগুলো যদি কারো বিরুদ্ধে হয়ে থাকে, তারা একটা ফরম আছে এই ফর্মের মধ্যে আবেদন করবে উইথ আইদার চার্জশিট, এফআইআর এবং এজাহারসহ। চার্জশিট হয়ে থাকলে চার্জশিটসহ কোন আদালতে মামলা ইত্যাদি তথ্য উল্লেখ করে। তারা সেটা যাচাই-বাছাই করে যদি সত্যিকারে সেই শ্রেণিভুক্ত মামলা হয়ে থাকে তখন সেগুলো প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এগুলা প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে। আমরা এর ওপরে কোনো আইনি ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নেব না। আমরা এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। ওখানে আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি আছে, তারা ভেটিং করে যদি সঠিক পায় যে সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আমরা সিআরপিসির ৪৯৪ অনুসারে সেগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব ভুয়া গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে, সেই মামলাগুলোর বিষয়ে আমরা আবার একটা পত্র দিয়েছিলাম দায়িত্ব গ্রহণের পরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিছু কিছু মামলা, কিছু শ্রেণির মামলা অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না তখন। যেমন হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতন, মাদকপাচার, মানবপাচার এই সমস্ত কিছু মামলা এই আওতাভুক্ত করা ছিল না তখন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিবেচনা করেছি যে আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা ছিল, আমার জানামতে অন্তত দুই-তিনটা, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায়। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই মামলাগুলো ছিল। অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়া হয়েছিল, নারী নির্যাতনসহ যে কোনোভাবে যেন আটক রাখা যায় সেই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল।’

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহাসড়কে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না এবং রেললাইনের কাছাকাছি হাট বসানো যাবে না। বড় হাটগুলোতে জালিয়াতি ঠেকাতে পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং জাল নোট শনাক্তে বিশেষ যন্ত্র সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। সারা দেশের মহাসড়ক সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং যেখানে ক্যামেরা নেই সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সচেতনতা বাড়াতে সাইনবোর্ড ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যে মুসলিমদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল—এমন প্রেক্ষাপটে সীমান্তে পুশব্যাক বাড়তে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা কম বলেই তিনি মনে করেন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর সড়ক ও রেললাইনের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়ক ও রেললাইনের আশপাশে পশুর হাট বসানো বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তে প্রয়োজনীয় মেশিন স্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বড় পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হবে।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার ট্যানারিগুলোর সীমিত ধারণক্ষমতা বিবেচনায় রেখে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চামড়া অন্তত সাত দিন লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কিছু সাইট ব্লক করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো আশঙ্কা নেই। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের আসামি করার বিষয়টি সরকার যাচাই-বাছাই করছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আবহাওয়া

এয়ার অ্যাস্ট্রার বহরে যুক্ত হচ্ছে তিনটি ব্র্যান্ড নিউ এটিআর

১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:২২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই নির্দেশের কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল, তা পার হওয়ার পরও একটি বড় অংশের অস্ত্র এখনও মাঠ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে মামলা দায়েরের জন্য মাঠ প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় বা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে এবং যেসব লাইসেন্স ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত হবে, কেবল সেই অস্ত্রগুলোই সরকার বাজেয়াপ্ত করবে। তবে ২০০৯ সালের আগে ইস্যু করা বৈধ লাইসেন্সধারীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের অস্ত্র ফেরত পাবেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধেও জেলা প্রশাসকদের ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহিষ্ণুতা) নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের পাশাপাশি মাদকের বিস্তার বন্ধ করা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থ পাচার ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি জেলা পর্যায়ে যে জেলাওয়ারি কতগুলো মামলা সে রকম দাখিল হয়েছে। এগুলো রিমোট ডিস্ট্রিক্টগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যা একটু বেশি। তাতে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব যেন আপনারা সবাই জানেন অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা, সেটা তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন এবং যেন স্বল্প সময়ের ভেতরে সেটা ডিসপোজ অব (নিষ্পত্তি) করতে পারে।

তিনি বলেন, আর যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের যেন নিষ্কৃতি দেয় সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবেই হবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে।

ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি এটা দ্রুত পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে থাকে, আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা তো বিলম্ব করবেন না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে যে কমিটি আমরা করে দিয়েছিলাম হেডেড বাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এডিএম, এসপি, পিপি এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছে। তারা এই কমিটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণের কাছে জানিয়েছে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এই সমস্ত ভুয়া মামলা, মিথ্যা মামলাগুলো যদি কারো বিরুদ্ধে হয়ে থাকে, তারা একটা ফরম আছে এই ফর্মের মধ্যে আবেদন করবে উইথ আইদার চার্জশিট, এফআইআর এবং এজাহারসহ। চার্জশিট হয়ে থাকলে চার্জশিটসহ কোন আদালতে মামলা ইত্যাদি তথ্য উল্লেখ করে। তারা সেটা যাচাই-বাছাই করে যদি সত্যিকারে সেই শ্রেণিভুক্ত মামলা হয়ে থাকে তখন সেগুলো প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এগুলা প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে। আমরা এর ওপরে কোনো আইনি ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নেব না। আমরা এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। ওখানে আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি আছে, তারা ভেটিং করে যদি সঠিক পায় যে সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আমরা সিআরপিসির ৪৯৪ অনুসারে সেগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব ভুয়া গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে, সেই মামলাগুলোর বিষয়ে আমরা আবার একটা পত্র দিয়েছিলাম দায়িত্ব গ্রহণের পরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিছু কিছু মামলা, কিছু শ্রেণির মামলা অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না তখন। যেমন হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতন, মাদকপাচার, মানবপাচার এই সমস্ত কিছু মামলা এই আওতাভুক্ত করা ছিল না তখন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিবেচনা করেছি যে আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা ছিল, আমার জানামতে অন্তত দুই-তিনটা, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায়। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই মামলাগুলো ছিল। অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়া হয়েছিল, নারী নির্যাতনসহ যে কোনোভাবে যেন আটক রাখা যায় সেই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল।’

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহাসড়কে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না এবং রেললাইনের কাছাকাছি হাট বসানো যাবে না। বড় হাটগুলোতে জালিয়াতি ঠেকাতে পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং জাল নোট শনাক্তে বিশেষ যন্ত্র সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। সারা দেশের মহাসড়ক সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং যেখানে ক্যামেরা নেই সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সচেতনতা বাড়াতে সাইনবোর্ড ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যে মুসলিমদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল—এমন প্রেক্ষাপটে সীমান্তে পুশব্যাক বাড়তে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা কম বলেই তিনি মনে করেন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর সড়ক ও রেললাইনের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়ক ও রেললাইনের আশপাশে পশুর হাট বসানো বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তে প্রয়োজনীয় মেশিন স্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বড় পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হবে।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার ট্যানারিগুলোর সীমিত ধারণক্ষমতা বিবেচনায় রেখে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চামড়া অন্তত সাত দিন লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কিছু সাইট ব্লক করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো আশঙ্কা নেই। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের আসামি করার বিষয়টি সরকার যাচাই-বাছাই করছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।