Dhaka বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হতে চেয়েছেন সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার জামিন চেয়ে আজ শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালকে আইনজীবী আলী হায়দার বলেন, আমার মক্কেল আবদুল জলিল মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার বয়স ৬০ বছর। শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া তার হার্টে সাতটি ব্লক ধরা পড়েছে। আমরা তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিন প্রার্থনা করছি।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তার অবস্থা সংকটাপন্ন নয়। একইসঙ্গে একজন বিচারপতির উদাহরণ দেওয়া হয়। যার হার্টে ১৭-১৮টি ব্লক থাকলেও নিয়মিত বিচারকার্য পরিচালনা করছেন।

এ পর্যায়ে জলিলের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেল একটু বাঁচতে চান। তিনি দেশেই ছিলেন। নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। এখনও চাইলে তার পাসপোর্ট জব্দ করতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এরপরও তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল চাইলে এ মামলায় সর্বোচ্চ সহায়তা করবেন আবদুল জলিল মণ্ডল। প্রয়োজনে রাজসাক্ষী হতে চান তিনি।

শুনানি শেষে জামিন আবেদনটি বিবেচনায় নেননি ট্রাইব্যুনাল।

পরে এ বিষয়ে আইনজীবী আলী হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা চত্বরের এ মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আবদুল জলিলকেও আসামি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। ২০২০ সাল থেকে তিনি হার্টের রোগে ভুগছেন। নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এ গ্রাউন্ডে আজ তার জামিন চাওয়া হয়।

তিনি বলেন, আবদুল জলিলের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন চাইলে ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তারা হার্টের সমস্যা নিয়েও একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে সেখানে চিকিৎসা চললেও পরিপূর্ণ হচ্ছে না বলে আমরা মনে করছি। এজন্য ন্যায়বিচারের জন্য যদি ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দেন, তাহলে বিচারকাজে সহযোগিতা করতেও রাজি আছেন আমার মক্কেল। আর সহযোগিতা করতে গেলে অবশ্যই রাজসাক্ষী হতে হবে। সবমিলিয়ে আমাদের কথা ট্রাইব্যুনাল শুনে জামিনের আবেদনটি বিবেচনায় নেননি।

এর আগে, ৩১ মার্চ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ। গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল জলিল। এছাড়া র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

আবহাওয়া

এয়ার অ্যাস্ট্রার বহরে যুক্ত হচ্ছে তিনটি ব্র্যান্ড নিউ এটিআর

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল

প্রকাশের সময় : ০৩:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হতে চেয়েছেন সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার জামিন চেয়ে আজ শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালকে আইনজীবী আলী হায়দার বলেন, আমার মক্কেল আবদুল জলিল মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার বয়স ৬০ বছর। শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া তার হার্টে সাতটি ব্লক ধরা পড়েছে। আমরা তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিন প্রার্থনা করছি।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তার অবস্থা সংকটাপন্ন নয়। একইসঙ্গে একজন বিচারপতির উদাহরণ দেওয়া হয়। যার হার্টে ১৭-১৮টি ব্লক থাকলেও নিয়মিত বিচারকার্য পরিচালনা করছেন।

এ পর্যায়ে জলিলের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেল একটু বাঁচতে চান। তিনি দেশেই ছিলেন। নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। এখনও চাইলে তার পাসপোর্ট জব্দ করতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এরপরও তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল চাইলে এ মামলায় সর্বোচ্চ সহায়তা করবেন আবদুল জলিল মণ্ডল। প্রয়োজনে রাজসাক্ষী হতে চান তিনি।

শুনানি শেষে জামিন আবেদনটি বিবেচনায় নেননি ট্রাইব্যুনাল।

পরে এ বিষয়ে আইনজীবী আলী হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা চত্বরের এ মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আবদুল জলিলকেও আসামি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। ২০২০ সাল থেকে তিনি হার্টের রোগে ভুগছেন। নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এ গ্রাউন্ডে আজ তার জামিন চাওয়া হয়।

তিনি বলেন, আবদুল জলিলের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন চাইলে ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তারা হার্টের সমস্যা নিয়েও একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে সেখানে চিকিৎসা চললেও পরিপূর্ণ হচ্ছে না বলে আমরা মনে করছি। এজন্য ন্যায়বিচারের জন্য যদি ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দেন, তাহলে বিচারকাজে সহযোগিতা করতেও রাজি আছেন আমার মক্কেল। আর সহযোগিতা করতে গেলে অবশ্যই রাজসাক্ষী হতে হবে। সবমিলিয়ে আমাদের কথা ট্রাইব্যুনাল শুনে জামিনের আবেদনটি বিবেচনায় নেননি।

এর আগে, ৩১ মার্চ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ। গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল জলিল। এছাড়া র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।