নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের রোগী ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
যেসব হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি আছে, সে হাসপাতালে ঈদের ছুটির মধ্যে চিকিৎসকরা থাকবেন কি না, নাকি ছুটিতে চলে যাবেন- এ প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, থাকবেন ইনশাল্লাহ। আমরা অলরেডি সার্কুলার দিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে এটা বলাতে, এটাও আপনারা আশ্বস্ত হতে পারেন, আমরা সতর্ক করছি। হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবাতে কোনো ডাক্তারের, নার্সের ছুটি হবে না। থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কথা আপনাদেরকে বলি। ভ্যাকসিন নিলেই যে ১০০ পার্সেন্ট একটা বাচ্চা হাম হবেই না, এটা কিন্তু বলা যায় না। স্মল পক্স ইজ ফুল্লি ইরাডিকেটেড, কলেরা ইজ ইরাডিকেটেড, এখন কিন্তু কলেরা হচ্ছে। আপনার যদি রেসিস্ট্যান্স মাত্রাটা কেউ ক্রস করে যান, পচা-তিতা খাবার খেয়ে যান, তাহলে তো কলেরা হবে। ঠিক একই জিনিস কিন্তু এটাও।
তিনি আরও বলেন, যদি বেশিভাবে ভাইরাসটা ছড়িয়ে যায়, ক্ষেত্র বিশেষে হতেও পারে। এটা কতটুকু গ্যারান্টি আমি জানি না, আই অ্যাম নট এ সায়েন্টিস্ট, যার কারণে আমি জানি না।
ঈদের সময় মায়েরা যেন আক্রান্ত শিশুদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে না যায় সে অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাচ্চাগুলো যেন অনেক ভিড় আছে এমন জায়গায়ও নিয়ে না যায়।
তিনি বলেন, কারণ এটা হাইলি ছোঁয়াচে রোগ। এটা তো সংস্পর্শে গেলেই, শ্বাস-প্রশ্বাসে, দৈনিক মানে সংস্পর্শ লাগলে এটা ছড়ায়। কাজেই এটা থেকেও সবার চেষ্টা করতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা প্রেডিক্ট করছেন যে, ফ্রি মিক্সিংয়ের ফলে এই ঈদে বাস যাত্রা, ট্রেন যাত্রা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, এভাবে যদি হাম রোগীর সংস্পর্শে ভালো মানুষগুলো আসে, সুস্থ বাচ্চারা, তাহলে দেয়ার ইজ এ পসিবিলিটি, একটা সম্ভাবনা থাকবে আরেকটু বেড়ে যাওয়ার।
দেশে হাম নির্মূলে টিকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশেষ ক্যাম্পেইনের মেয়াদ ২০ মে শেষ হলেও টিকাদান কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
তিনি পরিসংখ্যানের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, এত বড় একটি কর্মযজ্ঞে শতভাগ নিখুঁত পরিসংখ্যান অনেক উন্নত দেশেও সম্ভব হয় না। তবে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সফলতা এনেছেন।
বিশেষ ক্যাম্পেইনের মেয়াদ ২০ মে শেষ হলেও টিকাদান কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত পরশু (বৃহস্পতিবার) আমরা দেশের সব সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়কদের সঙ্গে জুম মিটিং করেছি। আমি নির্দেশ দিয়েছি, ২১ মে থেকে আমাদের নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যতদিন না দেশের একটি শেষ শিশুও টিকার বাইরে থাকবে, ততদিন খুঁজে খুঁজে টিকাদান এবং মাইকিং কার্যক্রম চলমান থাকবে। এটি এখন একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া।
সিলেটে সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে ৫টি শিশুর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেটের সিভিল সার্জন ও পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। অত্যন্ত কষ্টের বিষয় হলো, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় কেউই ভ্যাকসিন বা টিকা নেয়নি। ৬ মাস, ৯ মাস এবং ১ বছর বয়সী এই শিশুরা টিকার আওতার বাইরে ছিল।
তিনি চিকিৎসকদের বরাতে ব্যাখ্যা করেন যে, টিকা দেওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। তাই এই অন্তর্বর্তী সময়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে স্বস্তির কথা হলো, দৈনিক সংক্রমণের গ্রাফ এখন নিচের দিকে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ১৪০০ বা ১২০০ ছিল, তা বর্তমানে ৯০০-এর ঘরে নেমে এসেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















