স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে আমরা প্রস্তুত : সিইসি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭৬ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হওয়ায় এখন নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা শুধু অপেক্ষা করছিলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির জন্য। যা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন আমরা নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সেপ্টেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়ে সিইসি বলেন, নভেম্বরের শেষের দিকে বা ডিসেম্বরে ভোট হতে পারে। এজন্য আমরা বার্ষিক পরীক্ষা অ্যাডজাস্ট করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলবো। আমরা স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বিধিমালা ভেটিং হয়ে এসে গেছে। এখন শুরু গেজেট করা বাকি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করে এসে সচিবকে আমি বলেছি সার্বিক প্রস্তুতি নেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি সমন্বয় করছেন ঠাঁকুরগাও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে। তিনি সমন্বয়ের মিটিংগুলো শুরু করবেন।

স্থানীয় নির্বাচনে তফসিলের বিষয়ে সিইসি বলেন, ডেট ফিক্সড করার বিষয়ে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়। যেমন বন্যা হয়েছে, আমি কি করবো। এরপর দুর্গাপূজা, এর মধ্যে নির্বাচন দিলে তো সমস্যা হয়ে যায়। এরপর পরীক্ষা আছে। এটা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা অ্যাডজাস্ট করতে হবে। তবে এ বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে। আবার উপ-নির্বাচনও করতে হবে ঠাকুরগাঁওয়ে। কাজেই আমরা হয়তো সেপ্টেম্বরে তফসিল দিতে পারি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দিলে কিছু কিছু এই বছর করতে পারবো। বাকিগুলো আগামী বছর করতে হবে। আবার ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরু হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, গতবার ছয়টা ধাপে হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ জুন ৩ শতাধিক ইউপিতে ভোট হয়েছে। আমরা সেভাবেই হয়তো চিন্তা করবো। পার্বত্য ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ড্রাই সিজনে করতে হবে। শীতকাল হচ্ছে ইলেকশনের মৌসুম।

তিনি আরও বলেন, কনজ্যুমার সভরেনটি বলে একটা বিষয় আছে। কনজ্যুমার যেটা চায় সেটা করতে হবে। আমি এখানে ভোটার সভরেনটি চাই। আমাদের কমিটমেন্ট ইজ টোটাল। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে পারবো। আমরা ভোটার সভরেনটি এস্টাবলিস্ট করার জন্য যা যা করা দরকার করবো। আইনগত বিষয়টা কমপ্লাই করতে গেলে সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

সিইসি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি আমরা শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এনআইডি জালিয়াতি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘জালিয়াতি তো করেই। এটা শুধু নির্বাচন কমিশন দেখলে হবে না, সারা দেশের সব ডিপার্টমেন্টের বিষয় আছে।আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি এগুলো শেষ করে দেওয়ার জন্য।

মৃত ব্যক্তির এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমরা একটু তদন্ত করে দেখছি, কেন হলো। আমি তো অস্বীকার করছি না—এ রকম আছে। জালিয়াতি তো করেই। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

২০০৮ সাল থেকে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে এনআইডি সেবা দিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ইসির এনআইডি সার্ভার থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নাগরিকদের পরিচয় যাচাই করে নেয়। ফলে এনআইডির সঠিকতা ছাড়া প্রায় কোনো নাগরিক সেবাই এখন মেলে না। এ জন্য অনেকেই এনআইডি সংশোধনের জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নওগাঁয় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু

স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে আমরা প্রস্তুত : সিইসি

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হওয়ায় এখন নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা শুধু অপেক্ষা করছিলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির জন্য। যা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন আমরা নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সেপ্টেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়ে সিইসি বলেন, নভেম্বরের শেষের দিকে বা ডিসেম্বরে ভোট হতে পারে। এজন্য আমরা বার্ষিক পরীক্ষা অ্যাডজাস্ট করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলবো। আমরা স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বিধিমালা ভেটিং হয়ে এসে গেছে। এখন শুরু গেজেট করা বাকি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করে এসে সচিবকে আমি বলেছি সার্বিক প্রস্তুতি নেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি সমন্বয় করছেন ঠাঁকুরগাও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে। তিনি সমন্বয়ের মিটিংগুলো শুরু করবেন।

স্থানীয় নির্বাচনে তফসিলের বিষয়ে সিইসি বলেন, ডেট ফিক্সড করার বিষয়ে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়। যেমন বন্যা হয়েছে, আমি কি করবো। এরপর দুর্গাপূজা, এর মধ্যে নির্বাচন দিলে তো সমস্যা হয়ে যায়। এরপর পরীক্ষা আছে। এটা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা অ্যাডজাস্ট করতে হবে। তবে এ বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে। আবার উপ-নির্বাচনও করতে হবে ঠাকুরগাঁওয়ে। কাজেই আমরা হয়তো সেপ্টেম্বরে তফসিল দিতে পারি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দিলে কিছু কিছু এই বছর করতে পারবো। বাকিগুলো আগামী বছর করতে হবে। আবার ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরু হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, গতবার ছয়টা ধাপে হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ জুন ৩ শতাধিক ইউপিতে ভোট হয়েছে। আমরা সেভাবেই হয়তো চিন্তা করবো। পার্বত্য ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ড্রাই সিজনে করতে হবে। শীতকাল হচ্ছে ইলেকশনের মৌসুম।

তিনি আরও বলেন, কনজ্যুমার সভরেনটি বলে একটা বিষয় আছে। কনজ্যুমার যেটা চায় সেটা করতে হবে। আমি এখানে ভোটার সভরেনটি চাই। আমাদের কমিটমেন্ট ইজ টোটাল। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে পারবো। আমরা ভোটার সভরেনটি এস্টাবলিস্ট করার জন্য যা যা করা দরকার করবো। আইনগত বিষয়টা কমপ্লাই করতে গেলে সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

সিইসি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি আমরা শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এনআইডি জালিয়াতি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘জালিয়াতি তো করেই। এটা শুধু নির্বাচন কমিশন দেখলে হবে না, সারা দেশের সব ডিপার্টমেন্টের বিষয় আছে।আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি এগুলো শেষ করে দেওয়ার জন্য।

মৃত ব্যক্তির এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমরা একটু তদন্ত করে দেখছি, কেন হলো। আমি তো অস্বীকার করছি না—এ রকম আছে। জালিয়াতি তো করেই। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

২০০৮ সাল থেকে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে এনআইডি সেবা দিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ইসির এনআইডি সার্ভার থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নাগরিকদের পরিচয় যাচাই করে নেয়। ফলে এনআইডির সঠিকতা ছাড়া প্রায় কোনো নাগরিক সেবাই এখন মেলে না। এ জন্য অনেকেই এনআইডি সংশোধনের জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন।