স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি : সংসদে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই মুহূর্তে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের কাছে নেই।

তিনি বলেন, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের অধীন নির্বাচিত কোনো জেলার সংসদ সদস্যগণ উক্ত জেলার পরিষদের উপদেষ্টা হবেন এবং তাঁর পরিষদ-এর কার্যাবলী সম্পাদনে পরামর্শ প্রদান করবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়মিত খাল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণ এবং খালের পাশে ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখল রোধ করা যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল—এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বৃহৎ আউটলেট (বড় নর্দমা) নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বক্স কালভার্ট এবং ৮ ফুট ব্যাসের বৃহৎ নর্দমা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য ছয়টি পোর্টেবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা—এই চারটি বড় খালের খনন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সবগুলো কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, সারাদেশের মানুষ বর্তমানে মারাত্মক আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কী; প্রাপ্ত সফলতা কী?

জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টটার সার্ভে-২০১৯ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২,১৫,৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গভীর নলকূপ ছাড়াও পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পুকুর খনন ও পুনঃখনন সহ সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে আশা করা যায়, বর্তমানে যারা আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের হার শতকরা ৫-৬ ভাগে নেমে আসবে।

গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রাপ্ত সফলতা

১। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ৬,১৫,৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

২। উপকূলীয় জেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ১,৯৯,৪৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

৩। পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৭৪,৬৭৬টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

৪। পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ৮৮,২৩৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

৫। অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৩৮,০৫৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

আবহাওয়া

স্বামীকে ডিভোর্স দেবেন তবুও সন্তান নেবেন না অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোলো

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি : সংসদে মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই মুহূর্তে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের কাছে নেই।

তিনি বলেন, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের অধীন নির্বাচিত কোনো জেলার সংসদ সদস্যগণ উক্ত জেলার পরিষদের উপদেষ্টা হবেন এবং তাঁর পরিষদ-এর কার্যাবলী সম্পাদনে পরামর্শ প্রদান করবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়মিত খাল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণ এবং খালের পাশে ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখল রোধ করা যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল—এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বৃহৎ আউটলেট (বড় নর্দমা) নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বক্স কালভার্ট এবং ৮ ফুট ব্যাসের বৃহৎ নর্দমা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য ছয়টি পোর্টেবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা—এই চারটি বড় খালের খনন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সবগুলো কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, সারাদেশের মানুষ বর্তমানে মারাত্মক আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কী; প্রাপ্ত সফলতা কী?

জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টটার সার্ভে-২০১৯ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২,১৫,৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গভীর নলকূপ ছাড়াও পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পুকুর খনন ও পুনঃখনন সহ সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে আশা করা যায়, বর্তমানে যারা আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের হার শতকরা ৫-৬ ভাগে নেমে আসবে।

গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রাপ্ত সফলতা

১। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ৬,১৫,৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

২। উপকূলীয় জেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ১,৯৯,৪৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

৩। পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৭৪,৬৭৬টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

৪। পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ৮৮,২৩৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

৫। অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৩৮,০৫৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।