আওয়ামী লীগকে কোনো ধরনের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকারের নেই : তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনও দলীয় প্রতীক বা দলীয় অংশগ্রহণ থাকছে না। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত বা এনসিপি— কেউই দল হিসেবে এতে অংশ নিচ্ছে না। আওয়ামীলীগকে কোনো ধরনের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকারের নেই।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চেয়ারম্যান বা মেয়র পদে দলীয় প্রতীক চালু করা হয়েছিল। এখন সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে।

‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনও নামে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না। সরকারের এই ধরনের কোনও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেই।

দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই প্রশ্ন নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছেন না। এটা ফ্যাক্ট।

তিনি বলেন, সরকার এটার ব্যাপারে…যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, আমরা প্রাথমিকভাবে এই আহ্বান জানাই, এটা ইনফ্যাক্ট আমরা ফরমালিও জানাব, এটা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে, তারা যেন এই কাজটা না করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এবং আমি মনে করি যে আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এই জিনিসটা থেকে বিরত থাকবে।’

এমন আহ্বান তো এর আগেও আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেটিকে আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু সেটি তো মানছে না- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ঠিক আছে, আমরা আবার করব এবং কোনো একটা সময়, কোনো একটা সময় হয়তো কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।

‘ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো- তিনি যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ এখন যেহেতু খুবই কানেক্টিভিটির যুগ, মানুষ কোনো না কোনোভাবে জেনে যায়। সো এই আলাপও কেউ কেউ করছেন। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না। কারণ এই যে আপনি রেফারেন্স দিচ্ছেন একটা বিদেশি মিডিয়া, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, তারপর আমি বলি, আনলেস আদালত এই নিষেধাজ্ঞা সরাচ্ছে, এটা করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে সরকার কোনো বাধা দেবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ১২ হাজার কোটি টাকার সেবাখাতে দুর্নীতির হিসাব এবং এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতির দায় শুধু রাজনৈতিক সরকারের নয়, রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন উভয় অংশই থাকে। সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে, তা দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি তারা করছেন না। তবে দুর্নীতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আগামী বছরের টিআইবির প্রতিবেদনে দুর্নীতির পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেরা ওই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন দাবি করা ঠিক হবে না। তবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে, যা দূর করতে সরকার কাজ করছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। তাই যেকোনো সময় অভিযোগের তদন্ত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের কেউ কিংবা বর্তমান সরকারের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে দুদকের উচিত স্বাধীনভাবে তদন্ত করা। সরকার এ ধরনের তদন্তে কোনো বাধা দেবে না বরং কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুদকের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। সরকার চায়, অতীত ও বর্তমান সব সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ সমানভাবে তদন্তের আওতায় আসুক।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, খুব বিস্তারিত বলছি না, এইটা সরকার কগনিজেন্সে (আমলে নেওয়া) নিয়েছে, সরকার এটা দেখেছে। এটার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। বরং এটা সরকার খতিয়ে দেখছে এবং সেটা কেন হচ্ছে। কারণ এটা নিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা (আশঙ্কা) আছে গ্লোবালি, এ ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।

তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবেও এইটার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা আশা করি এই জিনিসটা এভাবে কন্টিনিউ করবে না।

এগুলো কারা করছে- জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এগুলো তো বুঝতেই পারছেন, এটা কারা করছে, কেন করছে। কিছু মানুষকে আপনি দেখবেন সোশ্যাল মিডিয়াতে বলছে, কিন্তু তারাই তো আসলে হয়তো সবসময় মূল ব্যক্তি না। সো, এটা একটু খতিয়ে দেখার প্রশ্ন আছে। এটা যেহেতু এত ওয়াইডস্প্রেড (বিস্তৃতভাবে) হয়েছে, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে, সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমরা ইনশাআল্লাহ এটা বের করতে পারবো।

টিসিবির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে সরকার কাজ করবে, যাতে মানুষের খাদ্যপণ্য পেতে টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন না হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সম্ভাব্য চীন-বাংলাদেশ করিডোর প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যেকোনও কানেক্টিভিটি যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করে করা যায়, সরকার সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার হয়ে যে করিডোর বা কানেক্টিভিটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অনেক ভেরিয়েবল আছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশের স্বার্থ, আঞ্চলিক বাস্তবতা— সবকিছু যাচাই-বাছাই করতে হবে। আগে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত মিলেও এক ধরনের কানেক্টিভিটির আলোচনা ছিল, আবার ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান কানেক্টিভিটির আলোচনাও হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার মাল্টিমোডাল, মাল্টিকান্ট্রি ও মাল্টিসেক্টর কানেক্টিভিটি চায়। তবে সবকিছু হবে ফিজিবিলিটি যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা, গঙ্গাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের প্রাথমিক প্রস্তাবে নদীশাসন, ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণের বিষয় রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় তিস্তায় নতুন একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ। অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকলে বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নিলেও দেশের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করবে না।

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খাদ্য মজুদ রয়েছে। এতে বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা সহজ হচ্ছে এবং কৃষকও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। সরকারের লক্ষ্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে টিসিবির ট্রাকের প্রয়োজনই না হয়।

যোগাযোগ খাতে সব টোল প্লাজায় একটি সমন্বিত ইন্টিগ্রেটেড ট্যাগের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ হওয়ার কথা থাকলেও এবার ১৫ মাস পর তা দেয়া হয়েছে।

হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বছরের সব হাজি দেশে ফিরে এসেছেন এবং বর্তমানে কোনো হাজি নিখোঁজ নেই।

ডিজিটাল সংযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, হাওর, বাওড় ও প্রান্তিক অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে এক হাজারের বেশি হটস্পট চালু হয়েছে এবং এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে কৃষক ছাউনি নির্মাণ ও বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলেও জানান তিনি।

আবহাওয়া

স্বামীকে ডিভোর্স দেবেন তবুও সন্তান নেবেন না অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোলো

আওয়ামী লীগকে কোনো ধরনের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকারের নেই : তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০১:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনও দলীয় প্রতীক বা দলীয় অংশগ্রহণ থাকছে না। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত বা এনসিপি— কেউই দল হিসেবে এতে অংশ নিচ্ছে না। আওয়ামীলীগকে কোনো ধরনের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকারের নেই।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চেয়ারম্যান বা মেয়র পদে দলীয় প্রতীক চালু করা হয়েছিল। এখন সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে।

‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনও নামে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না। সরকারের এই ধরনের কোনও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেই।

দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই প্রশ্ন নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছেন না। এটা ফ্যাক্ট।

তিনি বলেন, সরকার এটার ব্যাপারে…যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, আমরা প্রাথমিকভাবে এই আহ্বান জানাই, এটা ইনফ্যাক্ট আমরা ফরমালিও জানাব, এটা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে, তারা যেন এই কাজটা না করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এবং আমি মনে করি যে আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এই জিনিসটা থেকে বিরত থাকবে।’

এমন আহ্বান তো এর আগেও আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেটিকে আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু সেটি তো মানছে না- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ঠিক আছে, আমরা আবার করব এবং কোনো একটা সময়, কোনো একটা সময় হয়তো কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।

‘ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো- তিনি যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ এখন যেহেতু খুবই কানেক্টিভিটির যুগ, মানুষ কোনো না কোনোভাবে জেনে যায়। সো এই আলাপও কেউ কেউ করছেন। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না। কারণ এই যে আপনি রেফারেন্স দিচ্ছেন একটা বিদেশি মিডিয়া, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, তারপর আমি বলি, আনলেস আদালত এই নিষেধাজ্ঞা সরাচ্ছে, এটা করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে সরকার কোনো বাধা দেবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ১২ হাজার কোটি টাকার সেবাখাতে দুর্নীতির হিসাব এবং এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতির দায় শুধু রাজনৈতিক সরকারের নয়, রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন উভয় অংশই থাকে। সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে, তা দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি তারা করছেন না। তবে দুর্নীতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আগামী বছরের টিআইবির প্রতিবেদনে দুর্নীতির পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেরা ওই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন দাবি করা ঠিক হবে না। তবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে, যা দূর করতে সরকার কাজ করছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। তাই যেকোনো সময় অভিযোগের তদন্ত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের কেউ কিংবা বর্তমান সরকারের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে দুদকের উচিত স্বাধীনভাবে তদন্ত করা। সরকার এ ধরনের তদন্তে কোনো বাধা দেবে না বরং কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুদকের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। সরকার চায়, অতীত ও বর্তমান সব সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ সমানভাবে তদন্তের আওতায় আসুক।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, খুব বিস্তারিত বলছি না, এইটা সরকার কগনিজেন্সে (আমলে নেওয়া) নিয়েছে, সরকার এটা দেখেছে। এটার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। বরং এটা সরকার খতিয়ে দেখছে এবং সেটা কেন হচ্ছে। কারণ এটা নিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা (আশঙ্কা) আছে গ্লোবালি, এ ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।

তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবেও এইটার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা আশা করি এই জিনিসটা এভাবে কন্টিনিউ করবে না।

এগুলো কারা করছে- জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এগুলো তো বুঝতেই পারছেন, এটা কারা করছে, কেন করছে। কিছু মানুষকে আপনি দেখবেন সোশ্যাল মিডিয়াতে বলছে, কিন্তু তারাই তো আসলে হয়তো সবসময় মূল ব্যক্তি না। সো, এটা একটু খতিয়ে দেখার প্রশ্ন আছে। এটা যেহেতু এত ওয়াইডস্প্রেড (বিস্তৃতভাবে) হয়েছে, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে, সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমরা ইনশাআল্লাহ এটা বের করতে পারবো।

টিসিবির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে সরকার কাজ করবে, যাতে মানুষের খাদ্যপণ্য পেতে টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন না হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সম্ভাব্য চীন-বাংলাদেশ করিডোর প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যেকোনও কানেক্টিভিটি যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করে করা যায়, সরকার সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার হয়ে যে করিডোর বা কানেক্টিভিটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অনেক ভেরিয়েবল আছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশের স্বার্থ, আঞ্চলিক বাস্তবতা— সবকিছু যাচাই-বাছাই করতে হবে। আগে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত মিলেও এক ধরনের কানেক্টিভিটির আলোচনা ছিল, আবার ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান কানেক্টিভিটির আলোচনাও হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার মাল্টিমোডাল, মাল্টিকান্ট্রি ও মাল্টিসেক্টর কানেক্টিভিটি চায়। তবে সবকিছু হবে ফিজিবিলিটি যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা, গঙ্গাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের প্রাথমিক প্রস্তাবে নদীশাসন, ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণের বিষয় রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় তিস্তায় নতুন একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ। অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকলে বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নিলেও দেশের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করবে না।

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খাদ্য মজুদ রয়েছে। এতে বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা সহজ হচ্ছে এবং কৃষকও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। সরকারের লক্ষ্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে টিসিবির ট্রাকের প্রয়োজনই না হয়।

যোগাযোগ খাতে সব টোল প্লাজায় একটি সমন্বিত ইন্টিগ্রেটেড ট্যাগের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ হওয়ার কথা থাকলেও এবার ১৫ মাস পর তা দেয়া হয়েছে।

হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বছরের সব হাজি দেশে ফিরে এসেছেন এবং বর্তমানে কোনো হাজি নিখোঁজ নেই।

ডিজিটাল সংযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, হাওর, বাওড় ও প্রান্তিক অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে এক হাজারের বেশি হটস্পট চালু হয়েছে এবং এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে কৃষক ছাউনি নির্মাণ ও বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলেও জানান তিনি।