সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ সুপারিশ

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : 

খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সোলার পার্কটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে পরিবেশবান্ধব এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। একই সঙ্গে পার্কটি সচল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ছয় দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

বুধবার (১০ জুন) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন ফেডের নেতারা।

সংগঠনের দাবি, মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করলে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান সোলার পার্কটি আবার সচল করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে ফেড যে ছয়টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে, সেগুলো হলো—

১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক পুনরায় চালু করা।

২. পার্কের ভবনের অব্যবহৃত ছাদ ও পুকুরের অংশবিশেষে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো।

৩. খুলনা সিটি করপোরেশন ভবনসহ নগরের বড় ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রণোদনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

৪. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন।

৫. বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিধান কার্যকরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।

৬. খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূরাজনীতির কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দেশে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এই সংকট আমাদের চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ংসম্পন্নতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম এই সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।’’

সংবাদ সম্মেলনে পার্কটির টেকসই আধুনিকায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করা হয়।

ফেড জানায়, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র ৫ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের পুরো বিনিয়োগ উসুল হবে এবং বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোলার সিস্টেম চালু করে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

একইসঙ্গে নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে কেডিএ-কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি-বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে এই পার্কটি সচল করাসহ ৬ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ সুপারিশ

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : 

খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সোলার পার্কটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে পরিবেশবান্ধব এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। একই সঙ্গে পার্কটি সচল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ছয় দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

বুধবার (১০ জুন) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন ফেডের নেতারা।

সংগঠনের দাবি, মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করলে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান সোলার পার্কটি আবার সচল করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে ফেড যে ছয়টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে, সেগুলো হলো—

১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক পুনরায় চালু করা।

২. পার্কের ভবনের অব্যবহৃত ছাদ ও পুকুরের অংশবিশেষে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো।

৩. খুলনা সিটি করপোরেশন ভবনসহ নগরের বড় ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রণোদনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

৪. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন।

৫. বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিধান কার্যকরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।

৬. খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূরাজনীতির কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দেশে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এই সংকট আমাদের চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ংসম্পন্নতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম এই সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।’’

সংবাদ সম্মেলনে পার্কটির টেকসই আধুনিকায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করা হয়।

ফেড জানায়, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র ৫ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের পুরো বিনিয়োগ উসুল হবে এবং বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোলার সিস্টেম চালু করে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

একইসঙ্গে নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে কেডিএ-কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি-বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে এই পার্কটি সচল করাসহ ৬ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি।