শুধু জাতিসংঘ নয়, সারা বিশ্বের বাংলাদেশের ওপর আস্থা রয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়া দেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয় এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু জাতিসংঘ নয়, সারা বিশ্বের বাংলাদেশের ওপর আস্থা রয়েছে। এই নির্বাচন সেই আস্থারই প্রমাণ। তিনি দাবি করেন, এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতার প্রতিফলন।

বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বিজয় বাংলাদেশের কূটনীতি এবং গণতন্ত্রের জন্য বড় বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগ্যতা এবং মন্ত্রণালয়ের দেশ-বিদেশের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিক সাফল্যও এটা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি সন্তুষ্ট-এ কথা জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমাকে যথেষ্ট কাজ দিয়ে রেখেছেন আপনারা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে যদি নিবেদিতভাবে ওনার এই কাজটা করতে হয় (জাতিসংঘের সভাপতির কাজ) তাহলে ওখানে (জাতিসংঘে) সময় দিতেই হবে। তারে মানে এই নয় যে, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনে করে, এটা ওনাদের দুজনের (প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিদ্ধান্তে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এক বছরের ছুটি নিচ্ছেন কিনা-এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, সেটা উনি (খলিলুর রহমান) সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সেটা নিশ্চয় আপনারা জানবেন।

গুঞ্জন উঠছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছর খলিলুর রহমান নিউইয়র্ক থাকবেন। তার পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলানোর জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসবেন। এমন প্রশ্নও করা হয় প্রতিমন্ত্রীকে। জবাবে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে অবগত নই, আমি কিছুই জানি না। আমি মনে করি, এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। ওনার সুদৃঢ় নেত্বেত্বে যখন আমরা এই বিজয় অর্জন করতে পেরেছি তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে চলবে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন, সমস্যা নেই।

দায়িত্ব আপনার ওপর আসতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদের স্পষ্ট জবাব, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খুশি আছি।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বহু দেশ থেকে আমন্ত্রণপত্র এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফর নিয়ে। প্রথম তিনি কোনো দেশ যাবেন তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বার্তা দেয়া হয়নি। অপেক্ষা করতে হবে।

বহু দেশ থেকে আমন্ত্রণপত্র এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফর নি। প্রথম তিনি কোনো দেশ সফরে যাবেন তা নিয়ে এখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বার্তা দেয়া হয়নি, অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ এসেছে ভারত থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠান। আমন্ত্রণ ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকেও। এরপরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়েরও আমন্ত্রণপত্র আসে বেইজিং সফরের জন্য। শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধান হিসেবে কোথায় আগে যাবেন তা চলছে নানা জল্পনা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মমতার এই বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত না বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা নির্বাচন হয়েছে পাশের দেশে। যিনি হেরে গেছেন তিনি বলছেন, ওনাদের সরকারকে উদ্দেশ করে। সেটা নিয়ে এখানে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত হবে না বলে আমি মনে করি না। এটা আমাদের আলোচনা করার মতো বিষয় নয়। এখন যদি ভারত সরকার বাংলাদেশকে হাদির (ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি) হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে অবশ্যই…।

তিনি বলেন, অলরেডি এটা নিয়ে কাজ চলছে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয খুব সিরিয়াসলি কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং যারা ধরা পড়েছে ভারতে তাদের ফেরত এনে বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং দ্রুত করতে হবে। সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি।

শামা ওবায়েদ বলেন, হাদির হত্যাকারীদের ফেরত আনতে হলে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে আনতে হবে। সে ব্যাপারে আমরা সিরিয়াসলি কাজ করছি। এটা ভালোই এগিয়েছে। আমরা ওইদিকে এগোতে চাই। এটা নিয়ে তারা (ভারত সরকার) বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে, সেটা আমরা দেখব।

কলকাতার ধর্মতলায় মঙ্গলবার (২ জুন) এক জনসভায় মমতা দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্বার্থে এ বিষয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। মমতা বলেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।

মমতা আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভোল্যুশন হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।

মঙ্গলবার (২ জুন) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এটা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা তো মাত্র ঘটেছে। আমরা নিশ্চই কথা বলব। এরইমধ্যে আমাদের তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা দেখতে হবে। মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে থাকতে বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রণ এসেছে। তবে তিনি কোন দেশ সফর করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী আহত

শুধু জাতিসংঘ নয়, সারা বিশ্বের বাংলাদেশের ওপর আস্থা রয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়া দেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয় এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু জাতিসংঘ নয়, সারা বিশ্বের বাংলাদেশের ওপর আস্থা রয়েছে। এই নির্বাচন সেই আস্থারই প্রমাণ। তিনি দাবি করেন, এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতার প্রতিফলন।

বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বিজয় বাংলাদেশের কূটনীতি এবং গণতন্ত্রের জন্য বড় বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগ্যতা এবং মন্ত্রণালয়ের দেশ-বিদেশের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিক সাফল্যও এটা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি সন্তুষ্ট-এ কথা জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমাকে যথেষ্ট কাজ দিয়ে রেখেছেন আপনারা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে যদি নিবেদিতভাবে ওনার এই কাজটা করতে হয় (জাতিসংঘের সভাপতির কাজ) তাহলে ওখানে (জাতিসংঘে) সময় দিতেই হবে। তারে মানে এই নয় যে, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনে করে, এটা ওনাদের দুজনের (প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিদ্ধান্তে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এক বছরের ছুটি নিচ্ছেন কিনা-এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, সেটা উনি (খলিলুর রহমান) সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সেটা নিশ্চয় আপনারা জানবেন।

গুঞ্জন উঠছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছর খলিলুর রহমান নিউইয়র্ক থাকবেন। তার পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলানোর জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসবেন। এমন প্রশ্নও করা হয় প্রতিমন্ত্রীকে। জবাবে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে অবগত নই, আমি কিছুই জানি না। আমি মনে করি, এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। ওনার সুদৃঢ় নেত্বেত্বে যখন আমরা এই বিজয় অর্জন করতে পেরেছি তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে চলবে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন, সমস্যা নেই।

দায়িত্ব আপনার ওপর আসতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদের স্পষ্ট জবাব, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খুশি আছি।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বহু দেশ থেকে আমন্ত্রণপত্র এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফর নিয়ে। প্রথম তিনি কোনো দেশ যাবেন তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বার্তা দেয়া হয়নি। অপেক্ষা করতে হবে।

বহু দেশ থেকে আমন্ত্রণপত্র এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফর নি। প্রথম তিনি কোনো দেশ সফরে যাবেন তা নিয়ে এখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বার্তা দেয়া হয়নি, অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ এসেছে ভারত থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠান। আমন্ত্রণ ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকেও। এরপরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়েরও আমন্ত্রণপত্র আসে বেইজিং সফরের জন্য। শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধান হিসেবে কোথায় আগে যাবেন তা চলছে নানা জল্পনা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মমতার এই বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত না বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা নির্বাচন হয়েছে পাশের দেশে। যিনি হেরে গেছেন তিনি বলছেন, ওনাদের সরকারকে উদ্দেশ করে। সেটা নিয়ে এখানে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত হবে না বলে আমি মনে করি না। এটা আমাদের আলোচনা করার মতো বিষয় নয়। এখন যদি ভারত সরকার বাংলাদেশকে হাদির (ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি) হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে অবশ্যই…।

তিনি বলেন, অলরেডি এটা নিয়ে কাজ চলছে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয খুব সিরিয়াসলি কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং যারা ধরা পড়েছে ভারতে তাদের ফেরত এনে বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং দ্রুত করতে হবে। সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি।

শামা ওবায়েদ বলেন, হাদির হত্যাকারীদের ফেরত আনতে হলে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে আনতে হবে। সে ব্যাপারে আমরা সিরিয়াসলি কাজ করছি। এটা ভালোই এগিয়েছে। আমরা ওইদিকে এগোতে চাই। এটা নিয়ে তারা (ভারত সরকার) বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে, সেটা আমরা দেখব।

কলকাতার ধর্মতলায় মঙ্গলবার (২ জুন) এক জনসভায় মমতা দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্বার্থে এ বিষয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। মমতা বলেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।

মমতা আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভোল্যুশন হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।

মঙ্গলবার (২ জুন) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এটা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা তো মাত্র ঘটেছে। আমরা নিশ্চই কথা বলব। এরইমধ্যে আমাদের তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা দেখতে হবে। মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে থাকতে বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রণ এসেছে। তবে তিনি কোন দেশ সফর করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।