রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্ন অবান্তর বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা অবান্তর এবং কনফিউশন সৃষ্টি করার মতো।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ তারিখ। এই মাসের ১৩ তারিখে আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি বিএনপির পক্ষ থেকে। আজকে বাছাই পর্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম আমাদের দলের অর্থাৎ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে ছিলাম আমি।

তিনি বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকবো, ২০ তারিখের নির্বাচনের জন্য।

জামায়াতের প্রতিনিধি, অর্থাৎ ১১ দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, সেটা পরের চ্যাপ্টার। পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই প্রশ্নটা অবান্তর। একটা কনফিউশন সৃষ্টি করে লাভ নেই।

‘১১ দলীয় জোট বলছে এটা বড় অন্তরায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটা বড় বাধা’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, না, বড় বাধা না। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী, আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকেই সংশোধন করতে হবে।

এ সময় দলের মহাসচিব নিয়ে কি কোনো চিন্তাভাবনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের মহাসচিব তো নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা না। ওটা আমাদের গুলশান অফিসে আমাদের স্থায়ী কমিটির চিন্তা।

’সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অন্তরায় এবং এটি সংশোধন হওয়া দরকার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সেটা পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে, সবাই মিলে এটা হতে পারে। আলোচিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা কনফিউশন সৃষ্টি করে। এটা নির্বাচনে বড় বাধা নয়। আমাদের প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে আমার যেখানে বাধা আছে সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকে সংশোধন করতে হবে, এর বাইরে না। রাস্তাঘাটে বলে লাভ নেই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থনকারী ছিলাম আমি। আপনাদেরকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকব ২০ আগস্ট ভোটের জন্য।

এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

হারানো ৮০টি মোবাইল উদ্ধার করে মালিকদের ফেরত দিলো পুলিশ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্ন অবান্তর বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা অবান্তর এবং কনফিউশন সৃষ্টি করার মতো।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ তারিখ। এই মাসের ১৩ তারিখে আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি বিএনপির পক্ষ থেকে। আজকে বাছাই পর্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম আমাদের দলের অর্থাৎ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে ছিলাম আমি।

তিনি বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকবো, ২০ তারিখের নির্বাচনের জন্য।

জামায়াতের প্রতিনিধি, অর্থাৎ ১১ দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, সেটা পরের চ্যাপ্টার। পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই প্রশ্নটা অবান্তর। একটা কনফিউশন সৃষ্টি করে লাভ নেই।

‘১১ দলীয় জোট বলছে এটা বড় অন্তরায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটা বড় বাধা’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, না, বড় বাধা না। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী, আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকেই সংশোধন করতে হবে।

এ সময় দলের মহাসচিব নিয়ে কি কোনো চিন্তাভাবনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের মহাসচিব তো নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা না। ওটা আমাদের গুলশান অফিসে আমাদের স্থায়ী কমিটির চিন্তা।

’সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অন্তরায় এবং এটি সংশোধন হওয়া দরকার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সেটা পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে, সবাই মিলে এটা হতে পারে। আলোচিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা কনফিউশন সৃষ্টি করে। এটা নির্বাচনে বড় বাধা নয়। আমাদের প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে আমার যেখানে বাধা আছে সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকে সংশোধন করতে হবে, এর বাইরে না। রাস্তাঘাটে বলে লাভ নেই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থনকারী ছিলাম আমি। আপনাদেরকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকব ২০ আগস্ট ভোটের জন্য।

এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।