রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ মুজিব-শেখ হাসিনার বই, সরানোর নির্দেশ ডিসির

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিগত সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির লেখা বই থাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেটিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগারের ইনচার্জকে বইগুলো গাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে গাড়িটি ডিসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে ডিসি গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করেন এবং বইগুলো গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন, আজ দিনের মধ্যে তিনি বইগুলো গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলবেন। অঙ্গীকারনামায় তিনি এসব বই রাখার কারণে দুঃখও প্রকাশ করেন।

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার দেশব্যাপী প্রান্তিক পর্যায়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি গ্রন্থাগার গাড়ি রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল। এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গ্রন্থাগারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিগত সরকার-সংশ্লিষ্ট বই দেখে আপত্তি জানান।

পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন গাড়িটি ডিসি কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং ডিসিকে ডেকে এনে বইগুলো দেখান।

ডিসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ঢুকতেই আমরা দেখি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের নেত্রী শেখ হাসিনার নিজের লেখা বই, ওবায়দুল কাদেরের নিজের লেখা বই। সেই সঙ্গে শেখ মুজিবের বই। তিন শর অধিক। ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এই বই পড়ানো হচ্ছিল। শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা পাঠকের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা আবার সেই চেষ্টা কি না, আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।’

এসব বই নিষিদ্ধ কি না—এমন প্রশ্নে এমদাদুল হক লিমন বলেন, ‘যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন। কুড়িগ্রামে কিন্তু ফ্যাসিবাদের যে বইগুলো আছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখানে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা সেটা করেননি। তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

ডিসি কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হননি।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু বই ছিল, যেটা আসলেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি অঙ্গীকারনামা দিয়েছি যে, এই বই বা বিগত সরকারের গুণগান গাওয়া বই আর এই গাড়িতে বহন করব না এবং কোনো স্পটে নিয়ে যাব না। আমরা আজকেই এই বইগুলো সরিয়ে ফেলব।

জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বইগুলো আগে থেকেই ছিল। এক বছর আমাদের প্রকল্পটা বন্ধ ছিল। গাড়িটা দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে ছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা আউট করেছিলাম। কিন্তু আসলে বইগুলো রাখার জন্য আমাদের কোনো জায়গা নেই। তাই গাড়িতেই একটু আড়াল করে রাখা ছিল, যাতে পাঠকেরা না দেখে। তারপরও কিছু কিছু পাঠক খুঁজে খুঁজে বের করে এলোমেলো করে রেখেছিল। ছাত্রদল আমাদের ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সব উপজেলায় ১০১ শয্যার হাসপাতাল, দ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ মুজিব-শেখ হাসিনার বই, সরানোর নির্দেশ ডিসির

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিগত সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির লেখা বই থাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেটিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগারের ইনচার্জকে বইগুলো গাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে গাড়িটি ডিসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে ডিসি গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করেন এবং বইগুলো গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন, আজ দিনের মধ্যে তিনি বইগুলো গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলবেন। অঙ্গীকারনামায় তিনি এসব বই রাখার কারণে দুঃখও প্রকাশ করেন।

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার দেশব্যাপী প্রান্তিক পর্যায়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি গ্রন্থাগার গাড়ি রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল। এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গ্রন্থাগারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিগত সরকার-সংশ্লিষ্ট বই দেখে আপত্তি জানান।

পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন গাড়িটি ডিসি কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং ডিসিকে ডেকে এনে বইগুলো দেখান।

ডিসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ঢুকতেই আমরা দেখি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের নেত্রী শেখ হাসিনার নিজের লেখা বই, ওবায়দুল কাদেরের নিজের লেখা বই। সেই সঙ্গে শেখ মুজিবের বই। তিন শর অধিক। ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এই বই পড়ানো হচ্ছিল। শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা পাঠকের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা আবার সেই চেষ্টা কি না, আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।’

এসব বই নিষিদ্ধ কি না—এমন প্রশ্নে এমদাদুল হক লিমন বলেন, ‘যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন। কুড়িগ্রামে কিন্তু ফ্যাসিবাদের যে বইগুলো আছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখানে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা সেটা করেননি। তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

ডিসি কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হননি।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু বই ছিল, যেটা আসলেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি অঙ্গীকারনামা দিয়েছি যে, এই বই বা বিগত সরকারের গুণগান গাওয়া বই আর এই গাড়িতে বহন করব না এবং কোনো স্পটে নিয়ে যাব না। আমরা আজকেই এই বইগুলো সরিয়ে ফেলব।

জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বইগুলো আগে থেকেই ছিল। এক বছর আমাদের প্রকল্পটা বন্ধ ছিল। গাড়িটা দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে ছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা আউট করেছিলাম। কিন্তু আসলে বইগুলো রাখার জন্য আমাদের কোনো জায়গা নেই। তাই গাড়িতেই একটু আড়াল করে রাখা ছিল, যাতে পাঠকেরা না দেখে। তারপরও কিছু কিছু পাঠক খুঁজে খুঁজে বের করে এলোমেলো করে রেখেছিল। ছাত্রদল আমাদের ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছে।