বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আসিয়ান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (টিএসি)-এর অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, সাইবার হামলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা কাঠামোর মতো কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় টিএসির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সাইবার অপরাধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিএসির মূলনীতি সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহামারি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, সাইবার হামলা এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্নের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অভিন্ন ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উদ্যোগ বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)- নির্ভর সাইবার অপরাধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়িয়ে পড়ার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কেও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

পাঁচ দশক আগে আসিয়ান অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে টিএসি চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে এ চুক্তিতে যোগ দিয়ে আসিয়ানের নীতিভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ত হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি।

টিএসি সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈধ অভিবাসন এবং সার্কুলার অর্থনীতিসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পরীক্ষামূলকভাবে ‘ওয়েস্ট ডিজিটাল ভ্যান’ চালু করলো ডিএনসিসি

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আসিয়ান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (টিএসি)-এর অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, সাইবার হামলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা কাঠামোর মতো কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় টিএসির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সাইবার অপরাধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিএসির মূলনীতি সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহামারি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, সাইবার হামলা এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্নের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অভিন্ন ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উদ্যোগ বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)- নির্ভর সাইবার অপরাধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়িয়ে পড়ার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কেও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

পাঁচ দশক আগে আসিয়ান অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে টিএসি চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে এ চুক্তিতে যোগ দিয়ে আসিয়ানের নীতিভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ত হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি।

টিএসি সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈধ অভিবাসন এবং সার্কুলার অর্থনীতিসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।