বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন অভিনেত্রী বাঁধন

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭৬ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক :

ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন বাংলাদেশির হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি। এ সময় তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশে ফিরেই বাঁধন জানান, এই হামলার জেরে সেখানে থাকা তার সিনেমার টিম তথা দলের সদস্যরা নাকি একরকম বর্জন করেছে তাকে!

তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক কারণে বর্বরতা চালিয়ে হামলাকারীরা প্রবাসে নিজেদের অবস্থানকেই অনিরাপদ করছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন।

তিনি বলেন, যারা আক্রমণটা চালাচ্ছেন, তারা মনে করছেন যে পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তারা আজকে আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে বা পানি মেরেছে তারা সরাসরি গায়ে হাত তুলেছে। এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে হামলাকারীরা আসলে প্রবাসে নিজেদের অবস্থানটাকেই অনিরাপদ করছে।

হামলার পর ভেনিসে কতটা সহায়তা পেয়েছেন, তা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি জানিয়ে বাঁধন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (disown) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সাথে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’

হামলার পর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পাওয়া নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর লিডোতেই আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।’

হামলাকারীদের ‘বাংলাদেশি ভাই’ বর্ণনা করে বাঁধন বলেন, আমার প্রবাসী ভাইয়েরাই আমার ওপর আক্রমণ করেছে, বর্বরতা চালিয়েছে। এটার কারণে বিদেশের মাটিতে দেশের নাম ক্ষুণ্ন হল। বিদেশিরা ভাববে, আমরা জাতিগতভাবেই সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানে আক্রমণের শিকার হচ্ছে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রাজনৈতিক অন্ধত্ব পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, যারা একটি নির্দিষ্ট দলের সাপোর্টার, তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, কিন্তু দলকানা হইয়েন না। কালকে আপনার সাজা বা বিচার হলে সাফার করবে আপনার পরিবার। বড় বড় নেতারা বিদেশে আরামে বসে ভিডিও-অডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে, তাদের জীবন তো আপনাদের মতো নয়। প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। দয়া করে এমন অন্যায় ও বর্বর কাজ আর করবেন না।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, আপনারা একটি বড় দল। সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যতে আপনারা রাজনীতি করবেন। কিন্তু এখন থেকে আপনারা এমন কোনো রূপরেখা তৈরি করবেন না, যা থেকে কর্মী-সমর্থকরা উগ্র হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে দল হিসেবে আপনাদের লজ্জিত হতে হয়।

দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। এত কষ্ট করে এই গরমে যারা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা ঢাবির

বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন অভিনেত্রী বাঁধন

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক :

ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন বাংলাদেশির হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি। এ সময় তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশে ফিরেই বাঁধন জানান, এই হামলার জেরে সেখানে থাকা তার সিনেমার টিম তথা দলের সদস্যরা নাকি একরকম বর্জন করেছে তাকে!

তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক কারণে বর্বরতা চালিয়ে হামলাকারীরা প্রবাসে নিজেদের অবস্থানকেই অনিরাপদ করছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন।

তিনি বলেন, যারা আক্রমণটা চালাচ্ছেন, তারা মনে করছেন যে পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তারা আজকে আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে বা পানি মেরেছে তারা সরাসরি গায়ে হাত তুলেছে। এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে হামলাকারীরা আসলে প্রবাসে নিজেদের অবস্থানটাকেই অনিরাপদ করছে।

হামলার পর ভেনিসে কতটা সহায়তা পেয়েছেন, তা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি জানিয়ে বাঁধন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (disown) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সাথে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’

হামলার পর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পাওয়া নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর লিডোতেই আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।’

হামলাকারীদের ‘বাংলাদেশি ভাই’ বর্ণনা করে বাঁধন বলেন, আমার প্রবাসী ভাইয়েরাই আমার ওপর আক্রমণ করেছে, বর্বরতা চালিয়েছে। এটার কারণে বিদেশের মাটিতে দেশের নাম ক্ষুণ্ন হল। বিদেশিরা ভাববে, আমরা জাতিগতভাবেই সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানে আক্রমণের শিকার হচ্ছে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রাজনৈতিক অন্ধত্ব পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, যারা একটি নির্দিষ্ট দলের সাপোর্টার, তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, কিন্তু দলকানা হইয়েন না। কালকে আপনার সাজা বা বিচার হলে সাফার করবে আপনার পরিবার। বড় বড় নেতারা বিদেশে আরামে বসে ভিডিও-অডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে, তাদের জীবন তো আপনাদের মতো নয়। প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। দয়া করে এমন অন্যায় ও বর্বর কাজ আর করবেন না।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, আপনারা একটি বড় দল। সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যতে আপনারা রাজনীতি করবেন। কিন্তু এখন থেকে আপনারা এমন কোনো রূপরেখা তৈরি করবেন না, যা থেকে কর্মী-সমর্থকরা উগ্র হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে দল হিসেবে আপনাদের লজ্জিত হতে হয়।

দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। এত কষ্ট করে এই গরমে যারা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।