পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি :
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন তহমিনা আক্তার। পরে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নিয়ে ওই ছাত্রীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পিরোজপুর জিয়ানগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদার তার মেয়ে তাহমিনা আক্তারকে প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে বাড়িতে ব্যাপক আয়োজন করেন। তবে বাল্যবিয়েতে অমত ছিল তাহমিনার। তাই সে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বের হয়ে ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে থানার সহযোগিতায় বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা দিয়ে তার বাবা তাহমিনাকে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে শুক্রবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও বিয়ের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। শনিবার সকালে তহমিনা আবারও থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
সহপাঠীরা জানান, তহমিনা একজন মেধাবী ও নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী শিক্ষার্থী। তারা বলেন, আমরা চাই সে লেখাপড়া চালিয়ে যাক, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। বাল্যবিবাহ তার জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এটা আমরা কেউই চাই না।
প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তবে বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না, এটি একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়।
তহমিনা আক্তার বলেন, আমার পরিবার আমাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইছে। আমি এখন বিয়ে করতে চাই না। সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা, আমি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তাই আমি দুইবার থানায় গিয়ে সাহায্য চেয়েছি। আমি প্রশাসন ও আপনাদের সহযোগিতা চাই।
তহমিনার বাবা আলম হাওলাদার জানান, আমার মেয়ের বয়স ১৮ বছর তিন মাস। তার জন্য সব সময় ভালো ছেলের খোঁজ পাই না। এবার একটা ভালো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে বিধায় আমরা রাজি হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই তাকে বিয়ে দিয়ে সংসারী করে জীবনটা দাঁড় করাতে। আর সে চাচ্ছে লেখাপড়া করে চাকরি করতে। একটা অবিবাহিত মেয়ে চাকরি করলে মানুষজন কী বলবে।
এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর স্কুল শিক্ষক নাকির হোসেন বলেন, আমরা তাকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। এই বিয়ে যেকোনো মূল্যে ঠেকাব। কোনো শিক্ষার্থীকেই আমরা ঝরে পড়তে দেব না।
ইন্দুরকানী থানার এস আই সাইদুর রহমান জানান, সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা আক্তার বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষার পাওয়ার জন্য দুইবার থানায় এসেছে। আমরা তার অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি 






















