লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি :
খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন বিপ্লব সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন করা হয়নি। এর কারণে খালের দুই পাড় এবং খালের মধ্যেও অনেকে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। অনেক জায়গায় খাল দখল হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর হয়েছে, কোথাও কোথাও দোকানপাট হয়েছে। শিল্প-কলকারখানার বর্জ্য এমনভাবে এসেছে, আমাদের খাল পুরো বন্ধ হয়েই গিয়েছিল। খাল খননের মাধ্যমে আমরা এগুলো উদ্ধার করবো।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মানুষ অত্যন্ত সচেতন। নিজেরা কষ্ট করে শ্রম দিয়ে কৃষিকাজ করে। কৃষির বাইরে আমাদের বেঁচে থাকার আর কোনো অবলম্বন নেই। নারকেল, সুপারি, শাকসবজি ও মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পানি ছাড়া আর কোনো অবলম্বন নেই। তাহলে পানিটাকে ধরে রাখতে হবে। সে জন্য খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে এ পানিটাকেও আমরা ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সুবিধা গ্রহণ করব, যেন উৎপাদন বেশি হয়।
এ্যানি বলেন, আমরা রহমতখালী, ওয়াপদাখাল ও ভুলুয়া নদী পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত যেসব ছোটখাটো খাল আছে সেগুলো খনন করার কাজ হাতে নিয়েছি। দুই-চারটা খাল খনন করলেই শেষ হয়ে যাবে না। জলাবদ্ধতা দূর, নিরাপদ বসবাস ও বসবাস উপযোগী করে বেঁচে থাকার জন্য, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার জন্য এ কর্মসূচি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, মন্দির ও মাদরাসার দিকে আমাদের নজর আছে। শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার মান কমে গেছে। আর প্রাইমারি স্কুল হচ্ছে আসল পড়ালেখার ভিত। যদি সেখানে সঠিক পড়াশোনাটা না হয়, সঠিকভাবে যদি ক্লাসটা না হয়, স্কুল যদি জরাজীর্ণ থাকে, শিক্ষক যদি না থাকেন, তাহলে সেই ভিতটা দুর্বল হবে। ভিতটা যেন শক্ত হয়, শক্তিশালী হয়, মজবুত হয়। এ ছাড়া আপনার পরিবারের সন্তান যেন পড়ালেখা করে ভবিষ্যতে সবার মুখে হাসি ফোটাতে পারে সেদিকেও আমাদের বিশেষ নজর আছে।’
মন্ত্রী বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে এ এলাকার ৬০০ হেক্টর জমির চাষিরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। শুষ্ক মৌসুমে খাল থেকে সেচের মাধ্যমে পানি দিলে ধানের উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। আরেকদিকে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। ধানের উৎপাদন দ্বিগুণ করার জন্য, জলাবদ্ধতা দূরকরার জন্য এবং মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমরা খাল খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যারা খাল খনন করবেন, তারা অর্থের বিনিময়ে কাজে করবেন। এখানে কর্মসংস্থানের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। খাল খনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা বিশাল একটা বেনিফিট নিতে পারি, দিতে পারি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খনন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করেছিলেন। আধুনিক কৃষি, সেচ ব্যবস্থা, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহায়ক ছিল খাল খনন কর্মসূচি। এটা ছিল তার আমলের একটা বিপ্লব, একটা আন্দোলন। দীর্ঘদিন আমরা এ আন্দোলন থেকে বঞ্চিত ছিলাম। করতে গিয়ে অনেকে করেন নাই। না করার কারণে খালের দুই পাড় এবং খালের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে। অনেকে জায়গায় খাল দখল হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর হয়েছে, কোথাও কোথাও দোকানপাট হয়েছে। শিল্প কলকারখানার বর্জ্য এমনভাবে এসেছে, খাল পুরো বন্ধ হয়ে গেছে। খাল খনন শুরু করার মাধ্যমে আমরা একদিকে এগুলো উদ্ধার করবো, আরেকদিকে যে সুবিধাগুলোর কথা বলা হয়েছে, খালের দুই পাড়ের জনগণ এবং এলাকাবাসীকে দিতে সক্ষম হবো। এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে নতুনভাবে জাগরণ সৃষ্টি হবে। নতুন বিপ্লব, নতুন আন্দোলন তৈরি হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার দিন দিন নীচে নেমে যাচ্ছে। অনেক সময় ডিপ টিউবয়েল দিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা এ এলাকার মানুষ নদী এবং সমুদ্রের পাড়ের মানুষ। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। অদূর ভবিষ্যতে এ অচলাবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৩০-৪০-৫০ বছরে এখানে থাকার উপযোগী কোনো পরিবেশ থাকবে না। বরং এ অঞ্চল পানির নিচে চলে যাবে। আমি যদি এখনই সচেতন না হই, সরকার যদি জনগণের পাশে না দাঁড়ায়, এ কর্মসূচি যদি আমরা শুরু না করি, এ বিপ্লব এ আন্দোলন আমরা যদি অব্যাহত না রাখি, তাহলে কঠিন পরিবেশ-পরিস্থিতি আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য এ অঞ্চলের জন্য খাল খনন কর্মসূচি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, খুবই প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। এক-দেড় মাসেও পানি নামেনি। কুমিল্লা এবং ফেনী দিয়ে বন্যার পানি এসে লক্ষ্মীপুরের ওয়াপদা, রহমতখালী এবং ভুলুয়া নদী হয়ে মেঘনা নদীতে নামে। পরে সাগরে চলে যায়। খাল খননের মাধ্যমে এ কর্মসূচিটা যদি অব্যাহত থাকতো, ড্রেনেজ সিস্টেমটা যদি প্রবাহমান থাকতো, আমাদের এখানে এ জলাবদ্ধতা থাকতো না। খাল খনন কর্মসূচি আমাদের এ সরকার প্রায়োরিটি। আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি। এ অঞ্চলের জন্য আরও বেশি প্রায়োরিটি। সেজন্য রহমতখালী, ওয়াপদা এবং ভ্লুুয়া নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছি। এ তিনটি খালের সাথে যে সকল শাখা খাল রয়েছে, সেগুলো পুনঃখনন করার কাজ হাতে নিয়েছি।
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, মন্ত্রীর একান্ত সচিব জামশেদ আলম রানা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা ও বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি প্রমুখ।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি 





















