বাংলাদেশে সম্প্রীতিই মুখ্য : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, যার যার ধর্ম, তার তার কাছে। এখানে (বাংলাদেশে) সম্প্রীতিটাই মুখ্য বিষয়।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে গুলশান-বনানী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নূরজাহান বেগম বলেন, সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আসলে আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা একই। কেউ আল্লাহ, কেউ ভগবান বলি। একেকজন একেক নামে ডাকি। অর্থাৎ ওনার নাম বিভিন্ন কিন্তু তিনি একই। হিন্দু হোক কিংবা মুসলমান উনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পূজা চলছে। আজকে বিষাদের সময়, সবারই মন খারাপ হওয়ার কথা। এ কয়দিন আমরা খুব আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্যে পূজা উদযাপন করেছি। আমিও পূজার আনন্দে শরিক হওয়ার জন্য এখানে এসেছি।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ইসলাম ধর্মেও বলা আছে, লাকুম দ্বিনুকুম ওয়ালিয়া দ্বিন। অর্থাৎ যার যার ধর্ম, তার তার কাছে। এখানে সম্প্রতিটাই মুখ্য। মানবতাইতো ধর্ম, সেবাই ধর্ম। আমরা যার যার জায়গা থেকে এই কথাটাই যদি মনে রাখি, তাহলে আমাদের সম্প্রীতি কেউ কোন দিন নষ্ট করতে পারবে না। এটাই আমাদের সবার বিশ্বাস।

ওষুধ কোম্পানিগুলো নানাভাবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঢুকে যাচ্ছে এবং অধিক মুনাফা তারা করছে বলে মন্তব্য করে নুরজাহান বেগম বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শুধু ডাক্তার কিংবা সরকারের বিষয় নয়। এটা আমাদের সবার বিষয়। হাইপারটেনশন কেন হয়, এটা প্রতিরোধ করা দরকার। আমরা কিন্তু প্রতিরোধে যাচ্ছি না।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, তামাক আমাদের শেষ করে দিতে পারে। ওষুধ কোম্পানিগুলো নানাভাবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঢুকে যাচ্ছে এবং অধিকতর মুনাফা তারা করছে। আমরা যদি তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে আমাদের চিকিৎসা ব্যয়ে যে ৭১ শতাংশ পকেট থেকে খরচ হয়ে যায়, কিসের জন্য? ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এবং ক্যানসার। এগুলো অসংক্রামক রোগ। চিকিৎসা তো আমরা করবোই, সরকারের দিক থেকে সরকার চেষ্টা করবে, যাতে চিকিৎসা সঠিকভাবে সবার কাছে পৌঁছায়।

তিনি বলেন, কিন্তু জনগণের একটা দায়িত্ব আছে। আমি, আপনি, সবাই মিলে এটাকে কীভাবে প্রতিরোধ করবো, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষ সচেতন হলে এই রোগে আমাদের খুব বেশি বেগ পোহাতে হবে না। যারা গণমাধ্যমে কাজ করছেন, তাদেরও অনেক বড় দায়িত্ব যেন এ রোগগুলো আমাদের মধ্যে দানা বাঁধতে না পারে, সেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, গুলশান-বনানী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জিতেন্দ্র নাথ ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক অসিম জোয়ারদার।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট

বাংলাদেশে সম্প্রীতিই মুখ্য : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, যার যার ধর্ম, তার তার কাছে। এখানে (বাংলাদেশে) সম্প্রীতিটাই মুখ্য বিষয়।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে গুলশান-বনানী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নূরজাহান বেগম বলেন, সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আসলে আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা একই। কেউ আল্লাহ, কেউ ভগবান বলি। একেকজন একেক নামে ডাকি। অর্থাৎ ওনার নাম বিভিন্ন কিন্তু তিনি একই। হিন্দু হোক কিংবা মুসলমান উনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পূজা চলছে। আজকে বিষাদের সময়, সবারই মন খারাপ হওয়ার কথা। এ কয়দিন আমরা খুব আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্যে পূজা উদযাপন করেছি। আমিও পূজার আনন্দে শরিক হওয়ার জন্য এখানে এসেছি।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ইসলাম ধর্মেও বলা আছে, লাকুম দ্বিনুকুম ওয়ালিয়া দ্বিন। অর্থাৎ যার যার ধর্ম, তার তার কাছে। এখানে সম্প্রতিটাই মুখ্য। মানবতাইতো ধর্ম, সেবাই ধর্ম। আমরা যার যার জায়গা থেকে এই কথাটাই যদি মনে রাখি, তাহলে আমাদের সম্প্রীতি কেউ কোন দিন নষ্ট করতে পারবে না। এটাই আমাদের সবার বিশ্বাস।

ওষুধ কোম্পানিগুলো নানাভাবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঢুকে যাচ্ছে এবং অধিক মুনাফা তারা করছে বলে মন্তব্য করে নুরজাহান বেগম বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শুধু ডাক্তার কিংবা সরকারের বিষয় নয়। এটা আমাদের সবার বিষয়। হাইপারটেনশন কেন হয়, এটা প্রতিরোধ করা দরকার। আমরা কিন্তু প্রতিরোধে যাচ্ছি না।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, তামাক আমাদের শেষ করে দিতে পারে। ওষুধ কোম্পানিগুলো নানাভাবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঢুকে যাচ্ছে এবং অধিকতর মুনাফা তারা করছে। আমরা যদি তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে আমাদের চিকিৎসা ব্যয়ে যে ৭১ শতাংশ পকেট থেকে খরচ হয়ে যায়, কিসের জন্য? ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এবং ক্যানসার। এগুলো অসংক্রামক রোগ। চিকিৎসা তো আমরা করবোই, সরকারের দিক থেকে সরকার চেষ্টা করবে, যাতে চিকিৎসা সঠিকভাবে সবার কাছে পৌঁছায়।

তিনি বলেন, কিন্তু জনগণের একটা দায়িত্ব আছে। আমি, আপনি, সবাই মিলে এটাকে কীভাবে প্রতিরোধ করবো, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষ সচেতন হলে এই রোগে আমাদের খুব বেশি বেগ পোহাতে হবে না। যারা গণমাধ্যমে কাজ করছেন, তাদেরও অনেক বড় দায়িত্ব যেন এ রোগগুলো আমাদের মধ্যে দানা বাঁধতে না পারে, সেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, গুলশান-বনানী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জিতেন্দ্র নাথ ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক অসিম জোয়ারদার।