Dhaka বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৮ বহুতল ভবন নির্মাণ করবে ডিএসসিসি : প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো: আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত ১৮টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবন নির্মাণকালীন বিকল্প আবাসন, গ্যাস-পানি সমস্যার সমাধান এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও উপাসনালয় নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি কাজ করছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাজধানীর দয়াগঞ্জস্থ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মী ও স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যমান ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা যত দ্রুত সহযোগিতা করবেন, আমরা তত দ্রুত আধুনিক আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারব।

তিনি জানান, মিরনজিল্লা, ধলপুর, গণকটুলি, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী ও পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন কলোনিতে ১৮টি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই এগুলোর কাজ শুরু হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন কয়েকটি নির্দেশনাও দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে-

নাগরিক সুবিধা : ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবেন। আবাসন প্রকল্পে মন্দির ও শিশুদের খেলার মাঠ থাকবে।

বকেয়া বিল : কর্মীদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয়া হবে এবং গ্যাস বিল ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হবে।

বর্জ্য অপসারণ : আসন্ন ঈদুল আজহায় আট ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

শহর পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলার কারণেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নগরবাসীকে এ বিষয়ে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।

পরিচ্ছন্ন কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখছেন, তাই তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নেত্রকোনার বিরিশিরি পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে : রেল প্রতিমন্ত্রী

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৮ বহুতল ভবন নির্মাণ করবে ডিএসসিসি : প্রশাসক

প্রকাশের সময় : ০৭:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো: আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত ১৮টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবন নির্মাণকালীন বিকল্প আবাসন, গ্যাস-পানি সমস্যার সমাধান এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও উপাসনালয় নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি কাজ করছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাজধানীর দয়াগঞ্জস্থ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মী ও স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যমান ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা যত দ্রুত সহযোগিতা করবেন, আমরা তত দ্রুত আধুনিক আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারব।

তিনি জানান, মিরনজিল্লা, ধলপুর, গণকটুলি, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী ও পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন কলোনিতে ১৮টি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই এগুলোর কাজ শুরু হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন কয়েকটি নির্দেশনাও দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে-

নাগরিক সুবিধা : ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবেন। আবাসন প্রকল্পে মন্দির ও শিশুদের খেলার মাঠ থাকবে।

বকেয়া বিল : কর্মীদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয়া হবে এবং গ্যাস বিল ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হবে।

বর্জ্য অপসারণ : আসন্ন ঈদুল আজহায় আট ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

শহর পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলার কারণেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নগরবাসীকে এ বিষয়ে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।

পরিচ্ছন্ন কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখছেন, তাই তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।