নিজস্ব প্রতিবেদক :
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিদিন সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে এবং কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া যাবে না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পাচার করা টাকা দিয়ে পতিত শক্তি আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিগত দিনে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ আমাদের বহু নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। জনগণ কখনো গুম ও ক্রসফায়ারের রাজত্ব ফিরে আসতে দেবে না। অনেক নিরপরাধ মানুষ বছরের পর বছর জেল খেটেছে। জনির মতো জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিককে হত্যা করা হয়েছে। তাই দেশকে আর দিল্লির গোলাম বানানো যাবে না। সবাইকে রাজপথে থেকে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসে কোনো গুম বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় কাউকে বন্দি করা হয়নি।
আওয়ামী লীগ আমলের গুম-খুনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের যখন ১৭ বছরেও দমাতে পারেননি, তখন বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়েছেন, র্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন। জনির মতো অসংখ্য জাতীয়তাবাদের সৈনিককে হত্যা করেছেন। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ অসংখ্য নেতাকে গুম করেছেন। আবার কি গুমের রাজত্ব কিংবা ক্রসফায়ার ফিরে আসবে? জনগণ কি সেটা সমর্থন দেবে? না, জনগণ সেটাকে সমর্থন দেবে না।
রিজভী বলেন, দেশ এখন অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি মহল আবারো এসব অর্জন নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকায় সেই অপচেষ্টা সফল হবে না।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু আজ নয়, প্রতিদিনই সজাগ থাকতে হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থক বিভিন্ন মহল নানাভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করবে। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে দেশবিরোধী এবং সার্বভৌমত্ববিরোধী প্রবণতা রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের জনগণ কখনো অন্যের গোলামত্ব মেনে নেবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ সবসময় সচেতন থাকবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির ও ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুল আউয়ালসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















