স্পোর্টস ডেস্ক :
প্রথম ইনিংসের বাজে ব্যাটিংয়ের ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসেও মুখ থুবড়ে পড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। টানা দুই ইনিংসে বাজে ব্যাটিংয়ে তাঁদের সঙ্গী হলো লজ্জার হার।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানের পর এ যাত্রায় ৯৫ রানে অলআউট হয়েছে তারা। একমাত্র ইনিংসে অজিরা করেছিল ২১০ রান। দুই ইনিংস মিলেও স্বাগতিকদের এই মাঝারি মানের রান টপকাতে পারেনি বাংলাদেশ।
সিরিজে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৩ বছর পর সফরে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়। দ্বিতীয়টি হারলেও সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।
১৮ উইকেটের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনে ১২ উইকেট পড়ে গেল ৪১ ওভারেই। রোববার চা-বিরতির পর প্রথম ওভারেই শেষ হয় খেলা। সব মিলিয়ে ৭৫০ বলেই শেষ এই ম্যাচ। টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ এটি। অস্ট্রেলিয়ায় এর চেয়ে কম বলে টেস্ট শেষ হয়েছে একটিই, সেই ১৯৩২ সালে।
প্রথম দিনে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২১০ রানে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ৯৫ রানেই। টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরের পথচলায় প্রথমবার এক টেস্টের দুই ইনিংসেই একশর নিচে আটকে গেল বাংলাদেশ।
পিচ যদিও খুব ভয়ঙ্কর ছিল না। প্রথম দিনের তুলনায় এ দিন কিছুটা সহজ হয়ে আসে ব্যাটিংয়ের জন্য। কিন্তু সফরের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনী এই দিনটিতেই মেলে ধরে বাংলাদেশ। একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন খামখেয়ালি শটে।
প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেট শিকারি মিচেল স্টার্ক এবার নিয়েছেন ৩৯ রানে ৪টি। ম্যান অব দা ম্যাচ তিনি, ম্যান অব দা সিরিজও। সকালে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ও ন্যাথান লায়নের জুটি দিনের প্রথম সাত ওভার কাটিয়ে দেয় ভালোভাবেই। এক পাশে শরিফুল ভালো বোলিং করলেও আরেক পাশে খুব ভালো করতে পারেননি হাসান মাহমুদ।
৩৮ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুলই। স্বপ্নের মতো এক নিখুঁত ইনসুইঙ্গিং ডেলিভারিতে গ্রিনকে ভূপাতিত করে এলবিডব্লিউ করে দেন তিনি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবার থামেন ৬৭ রানে। শেষ জুটিতে বাংলাদেশকে কিছুটা যন্ত্রণা দিয়ে ২৪ রান যোগ করেন লায়ন ও জশ হেইজেলউড। এর মধ্যে তাসকিনের এক ওভারেই লায়নের ছক্কা ও চারসহ আসে ১৭ রান। হেইজেলউডকে ফিরিয়ে ইনিংস শেষ করেন লায়ন।
১৪৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইনিংস পরাজয় এড়ানো। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে আবার স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে যায় তারা। নড়বড়ে ১০ মিনিটের পর সাদমান ইসলাম আউট হন বাজেভাবে। বল খেলবেন নাকি ছাড়বেন, দ্বিধায় পড়ে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েই প্রথম বলে বোল্ড মুমিনুল হক। সাবধানী শুরুর পর লাঞ্চের একটু আগে কামিন্সের বলে দৃষ্টিকটূ শটে আউট তানজিদ হাসান।
টালমাটাল দলকে একটু থিতু করার চেষ্টা করেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। ক্রিজে গিয়েই দারুণ কিছু ড্রাইভ খেলেন শান্ত। স্টার্কের বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে ২১ রানে পৌঁছে যান ১২ বল খেলেই। এরপর মন দেন ইনিংস গড়ে তোলায়।
দুই ব্যাটসম্যানকেই যখন মনে হচ্ছিল সাবলীল, তখন শান্তর ওই আত্মহত্যা। লং অফ সীমানায় ফিল্ডার রেখে বল করছিলেন ন্যাথান লায়ন। তার বলে টার্ন খুব একটা হচ্ছিল না। বাংলাদেশ অধিনায়ক হুট করেই তুলে মারতে চাইলেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে। কিন্তু টার্ন না থাকায় ও বাড়তি বাউন্সের কারণে বল গেল সোজা লং অফে স্টার্কের হাতে।
এরপর একের পর এক উইকেট উইকেট পদতে থাকে টপাটপ। স্টার্কের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে শরীর থেকে অনেক দূরে খেলে স্লিপে ধরা পড়েন লিটন। সিরিজের তিন ম্যাচেই অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান আউট হলেন শূন্য রানে। কামিন্সের যে বল ছিল চার মারার মতো, সেটিতেই উইকেটের পেছনে ধরা পড়লেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
লোয়ার অর্ডারও এ দিন আর লড়াই করতে পারেনি। কামিন্সের বাউন্সারে ফেরেন হাসান মাহমুদ, স্টার্কের দুর্দান্ত ডেলিভারির জবাব পাননি তাইজুল ইসলাম।
মুশফিক এক প্রান্তে পড়ে থাকলেও শেষ দিকে দৃষ্টিকটূ স্ট্রাইক দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারদের। সেটির খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। ৮ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর তিন বলের মধ্যে শেষ দুটি উইকেট নিয়ে নেন লায়ন। ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান মুশফিক। শান্ত ও মুশফিক মিলে করেছেন ৬০ রান। বাকি ৯ ব্যাটারের সম্মিলিত রান ২৮। অতিরিক্ত থেকে এসেছে ৭ রান।
প্রবাদে যদিও বলে, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’ কিংবা ‘লোকে মনে রাখে শেষটাই’, আদতে তা সত্যি নয় সবসময়। এই সিরিজেই যেমন শেষটি বাজে হলেও সফরটি স্মরণীয় হয়েই থাকবে দলের জন্য। প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় বা সিরিজ ড্র করে ফেরা, এটিই বা কজন ভাবতে পেরেছিলেন আগে!
টেস্ট শেষে ধারাভাষ্যে ব্রেন্ডন জুলিয়ান যথার্থই বললেন, মাথা উঁচু রেখেই দেশে ফিরতে পারে বাংলাদেশৃ।
বাংলাদেশের পরের সিরিজ অক্টোবরে দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। নভেম্বরে আরেকটি কঠিন পরীক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।
স্পোর্টস ডেস্ক 




















