ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার আড়াইবাড়ি এলাকার বিজনা নদীর ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় প্রায় তিন যুগ ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় শত শত মানুষ। নদীর ওপর তৈরি একটি সরু বাঁশের সাঁকোই এখন তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের কাছে এই জনবসতিটি ‘গাঙের পাড়’ নামে পরিচিত।
বর্ষার পানিতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা বিজনা নদীর এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ রোগীরা। কারও হাতে বাজারের ব্যাগ, কারও মাথায় কৃষিপণ্যের বোঝা, আবার কারও পিঠে স্কুলের ব্যাগ— এভাবেই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় তাদের। কসবা উপজেলা সদর কিংবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই সাঁকো। বিকল্প পথে ফসলি জমি দিয়ে হেঁটে যেতে চাইলে অতিরিক্ত আধা ঘণ্টা সময় লাগে, যা বর্ষার দিনে জমিতে পানি জমে যাওয়ার কারণে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সরু এই সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানির স্রোতে বাঁশ নড়ে যায় বা ভেঙে যায়, তখন শিশু ও নারীদের পারাপার নিয়ে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। এছাড়া শিক্ষক সংকটের কারণে বিকল্প পথ ব্যবহার করা কঠিন হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, এখানে প্রায় ৩০টি পরিবারে দুই শতাধিক মানুষের বসবাস। প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছি। ৪ বছর আগে এখানে একটি সেতু নির্মাণের কথা শোনা গেলেও তা হয়নি। নেতারা ভোটের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তাদের আর খোঁজ থাকে না।
আরেক বাসিন্দা শাহ আলম জানান, কিছুদিন পরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসে জায়গাটি পরিদর্শন ও ছবি তুলে গেলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। জাকির হোসেন নামের আরেক স্থানীয় জানান, চলতি বছরের ১৬ মার্চ পুনরায় আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলামের অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা রিসিভ করে পরে কেটে দিয়ে সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।
তবে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছামিউল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় লোকজনের চলাচলে কষ্ট হয়ে থাকলে উপজেলা ও পৌর প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে অতি দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করা হবে। যদি সেখানে সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হয়, তবে আমরা দ্রুত সেটির ব্যবস্থা নেব।
তিন যুগ ধরে চলা এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং বিজনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান গাঙের পাড়বাসী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি 























