Dhaka সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

সোমবার (১৮ মে) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করে দেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে স্থানীয় নির্বাচনে আমরা এককভাবে অংশগ্রহণ করবো।

চরমোনাই পীর বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের মেয়র প্রার্থী ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, ‘জুলাই সনদ’, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করেন এবং সাংবাদিকদের নানা পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে সংবাদকর্মীরা দলের ছাত্রী উইং গঠন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পীর সাহেব চরমোনাই বিগত রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পেছনের কারণ বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সমঝোতায় নতুন দলের সংযুক্তি ও আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আগে থেকে জোটে থাকা দলগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই একক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।এছাড়া ভারত ও আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইসলামি নীতি বাদ দিয়ে বিদ্যমান আইনেই দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার এবং মার্কিনীদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ‘উগ্রবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর নানা প্রচেষ্টা করা হলেও তা আর রক্ষা করা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা কেবল এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। ইসলাম, দেশ-জাতি ও মানবতার পক্ষে আমরা সবসময় অটল-অবিচল থাকবো। আগামীতেও এসব নীতির ভিত্তিতেই জোট হতে পারে।

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা তার ওপর আস্থা রাখতে চাই।

নির্বাচন পরবর্তী দলীয় কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, তারা এখন একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। দলের ভেতরে নানা সংস্কার ও নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিকে ‘গোলামির চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির।

এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজেপি সেখানে যা করছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্র করতে পারে না। এর ফলে তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ভারতকে অবশ্যই এই বর্বরতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

আবহাওয়া

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ঘোষণা

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

সোমবার (১৮ মে) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করে দেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে স্থানীয় নির্বাচনে আমরা এককভাবে অংশগ্রহণ করবো।

চরমোনাই পীর বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের মেয়র প্রার্থী ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, ‘জুলাই সনদ’, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করেন এবং সাংবাদিকদের নানা পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে সংবাদকর্মীরা দলের ছাত্রী উইং গঠন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পীর সাহেব চরমোনাই বিগত রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পেছনের কারণ বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সমঝোতায় নতুন দলের সংযুক্তি ও আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আগে থেকে জোটে থাকা দলগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই একক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।এছাড়া ভারত ও আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইসলামি নীতি বাদ দিয়ে বিদ্যমান আইনেই দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার এবং মার্কিনীদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ‘উগ্রবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর নানা প্রচেষ্টা করা হলেও তা আর রক্ষা করা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা কেবল এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। ইসলাম, দেশ-জাতি ও মানবতার পক্ষে আমরা সবসময় অটল-অবিচল থাকবো। আগামীতেও এসব নীতির ভিত্তিতেই জোট হতে পারে।

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা তার ওপর আস্থা রাখতে চাই।

নির্বাচন পরবর্তী দলীয় কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, তারা এখন একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। দলের ভেতরে নানা সংস্কার ও নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিকে ‘গোলামির চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির।

এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজেপি সেখানে যা করছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্র করতে পারে না। এর ফলে তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ভারতকে অবশ্যই এই বর্বরতা থেকে বিরত থাকতে হবে।