ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ করা হবে, তবুও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নানাবিধ কর্মসূচি দিয়েছে সরকার। এতে জনগণের সম্পৃক্ততা আমরা আশা করছি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে যেসব কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সেগুলোতে একদিকে যেমন আমরা জনগণকে সচেতন করবো, তেমনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম জোরদার করবো। দরকার হলে আইনের প্রয়োগ করবো। তবুও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করবো।

এখন থেকে জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করা হবে বলে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, মসজিদের সম্মানিত ইমামরা সমাজের অবস্থান ধারণ করেন। তাদের মুখ থেকে যখন এই কথাগুলো আসবে, তখন সেটা আমাদেরকে আরেকটু নাড়া দিবে। সেইসঙ্গে সচেতন করবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক হটলাইন চালু করা হয়েছে। এতে নাগরিকরা ডেঙ্গু বিষয়ে যেকোনো তথ্য বা পরামর্শ নিতে পারবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করছি, এবার হাসপাতালে আগের বছরের চেয়ে কম রোগী পাব। ডেঙ্গুর সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রসার কম ঘটবে। তারপরও যারা আক্রান্ত হবে হাসপাতাল থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করব। যে এলাকা থেকে বেশি রোগী আসবে, সেই এলাকায় নিয়মিত ও বেশি করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তিনি  বলেন, ডেঙ্গু মশা নিয়ে গবেষণা চলছে। মশার ভেতরে কিছু পরিবর্তন হয়, পরিবর্তন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হয়; সেই কাজ চলবে। পাশাপাশি একটি সার্ভিলেন্স চলছে, যাতে সমাজের যেকোনো জায়গায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারি।

ড. এম এ মুহিত বলেন, আমরা যেখানে থাকি, সেখানকার সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। আমরা নিজেরা যেই থাকি, সেটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এর মাধ্যমে শুধু ডেঙ্গু নয়, আমাদের প্রতিদিনের জীবন আগের চেয়ে ভালো হবে।

তিনি  বলেন, শুধুমাত্র হাসপাতাল নির্মাণ করে, সরকারের উদ্যোগে কিংবা শুধু চিকিৎসকদের চেষ্টায় জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি জাতি তখনই উন্নত হয়ে উঠে, যখন জনগণের প্রতিটি অংশের কাছে সচেতনতা ও উন্নয়নের ছোঁয়া থাকে।

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আমরা সবাই যদি সচেতন থাকি এবং একে অপরকে সচেতন করি তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ করা হবে, তবুও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নানাবিধ কর্মসূচি দিয়েছে সরকার। এতে জনগণের সম্পৃক্ততা আমরা আশা করছি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে যেসব কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সেগুলোতে একদিকে যেমন আমরা জনগণকে সচেতন করবো, তেমনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম জোরদার করবো। দরকার হলে আইনের প্রয়োগ করবো। তবুও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করবো।

এখন থেকে জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করা হবে বলে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, মসজিদের সম্মানিত ইমামরা সমাজের অবস্থান ধারণ করেন। তাদের মুখ থেকে যখন এই কথাগুলো আসবে, তখন সেটা আমাদেরকে আরেকটু নাড়া দিবে। সেইসঙ্গে সচেতন করবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক হটলাইন চালু করা হয়েছে। এতে নাগরিকরা ডেঙ্গু বিষয়ে যেকোনো তথ্য বা পরামর্শ নিতে পারবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করছি, এবার হাসপাতালে আগের বছরের চেয়ে কম রোগী পাব। ডেঙ্গুর সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রসার কম ঘটবে। তারপরও যারা আক্রান্ত হবে হাসপাতাল থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করব। যে এলাকা থেকে বেশি রোগী আসবে, সেই এলাকায় নিয়মিত ও বেশি করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তিনি  বলেন, ডেঙ্গু মশা নিয়ে গবেষণা চলছে। মশার ভেতরে কিছু পরিবর্তন হয়, পরিবর্তন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হয়; সেই কাজ চলবে। পাশাপাশি একটি সার্ভিলেন্স চলছে, যাতে সমাজের যেকোনো জায়গায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারি।

ড. এম এ মুহিত বলেন, আমরা যেখানে থাকি, সেখানকার সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। আমরা নিজেরা যেই থাকি, সেটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এর মাধ্যমে শুধু ডেঙ্গু নয়, আমাদের প্রতিদিনের জীবন আগের চেয়ে ভালো হবে।

তিনি  বলেন, শুধুমাত্র হাসপাতাল নির্মাণ করে, সরকারের উদ্যোগে কিংবা শুধু চিকিৎসকদের চেষ্টায় জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি জাতি তখনই উন্নত হয়ে উঠে, যখন জনগণের প্রতিটি অংশের কাছে সচেতনতা ও উন্নয়নের ছোঁয়া থাকে।

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আমরা সবাই যদি সচেতন থাকি এবং একে অপরকে সচেতন করি তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।