জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

পাঁচ দিনের ম্যাচ শেষ আড়াই দিনেই। ৪৫০ ওভারের ম্যাচের ফয়সালা হয়ে গেল ২০০ ওভারের আগেই। ম্যাচের প্রথম দিনই নিজেদের সম্ভাবনার কবর খুঁড়েছিল বাংলাদেশ। এখন সমাধিও হয়ে গেল। টানা চার টেস্ট জয়ে উড়তে থাকা দল হুট করেই মুখ থুবড়ে পড়ে গেল বিব্রতকর পরাজয়ে। জিম্বাবুয়ে পেল রেকর্ড গড়া জয়। হারারে টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারাল বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে সবশেষ হেরেছিল সেই ২০০১ সালে। দুই দলের প্রথম টেস্ট ছিল সেটি, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ছিল দ্বিতীয় ম্যাচ।

জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় এটি। আগের সেরা জয়টি ছিল ঠিক আগের টেস্টেই। গত অক্টোবরে আফগানিস্তানকে হারায় তারা ইনিংস ও ৭৩ রানে।

১৯৯২ সালে প্রথম টেস্ট খেলা দলটি প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে চেয়ের স্বাদ পেল। রিচার্ড এনগারাভার নেতৃত্বের শুরুটাও হলো জয় দিয়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশকে একপ্রকার মাটিতে নামিয়ে আনল জিম্বাবুয়ে। তিন দিনজুড়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের হাতে। পুরো ম্যাচজুড়েই হারারের এই টেস্টে বাংলাদেশকে চিনতেই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর আত্মবিশ্বাস আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অনুপ্রেরণা নিয়েই জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তিন দিনের মধ্যেই সেই আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিল স্বাগতিকরা। অথচ হারারেতে একই উইকেটে দুই দলের লড়াইয়ে ফুটে উঠল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

উইকেটে পেসারদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা ছিল। সেটি সবচেয়ে ভালো কাজে লাগিয়েছে জিম্বাবুয়ের চার পেসার। ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ব্র্যাড ইভান্স মিলে দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটিংকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন। তারা অফ স্টাম্পের বাইরে ধারাবাহিক লাইন ধরে রেখেছেন, বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়েছেন এবং ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পেসাররা সেই জায়গায় ছিলেন নিষ্প্রভ। স্কোয়াডে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা না থাকলেও ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদের মতো অভিজ্ঞ পেসাররা ছিলেন। কাগজে-কলমে এই আক্রমণকে দুর্বল বলার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বাস্তবে তারা উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি। ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্রেইগ আরভিন, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধেভেরে স্বচ্ছন্দে বড় ইনিংস খেলেছেন।

হারারে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের ভিত গড়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট করে তারা। মুমিনুল হকের ৬০ রান ছাড়া কোনো ব্যাটারই দায়িত্ব নিতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের চার পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের সুযোগই তৈরি করতে পারেনি সফরকারীরা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনোসেন্ট কাইয়ার দুর্দান্ত ১৪০ রানের ইনিংস, ক্রেইগ আরভিনের ৬০, ব্রায়ান বেনেটের ৫৯ এবং ওয়েসলি মাধেভেরের অপরাজিত ৭৭ রানে ৪১০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। যদিও তাইজুল ইসলাম একাই লড়াই চালিয়ে ১৩৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের আরও বড় সংগ্রহ থেকে আটকে দেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ছিল তার ১৯তম পাঁচ উইকেট। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে সাকিব আল হাসানের পাশে উঠে আসেন তিনি।

২৭০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ব্লেসিং মুজারাবানির তোপে ভেঙে পড়ে টপ অর্ডার। মাহমুদুল হাসান জয়, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম—চার অভিজ্ঞ ব্যাটারের বিদায়ে লাঞ্চের আগেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস হার।

লাঞ্চের পর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন অভিষিক্ত তাওহীদ হৃদয় ও অমিত হাসান। তবে সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নিউম্যান নিয়ামহুরির বলে হাসান মাহমুদ মিড-অনে ক্যাচ দিলে ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। আর তাতেই ইনিংস ও ৮৫ রানের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্লেসিং মুজারাবানি চারটি এবং রিচার্ড এনগারাভা তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া নিউম্যান নিয়ামহুরি দুটি এবং ব্র্যাড ইভান্স একটি উইকেট শিকার করেন।

আবহাওয়া

জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩, আহত বেড়েছে ৭৭ শতাংশ : এমএসএফ

জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

পাঁচ দিনের ম্যাচ শেষ আড়াই দিনেই। ৪৫০ ওভারের ম্যাচের ফয়সালা হয়ে গেল ২০০ ওভারের আগেই। ম্যাচের প্রথম দিনই নিজেদের সম্ভাবনার কবর খুঁড়েছিল বাংলাদেশ। এখন সমাধিও হয়ে গেল। টানা চার টেস্ট জয়ে উড়তে থাকা দল হুট করেই মুখ থুবড়ে পড়ে গেল বিব্রতকর পরাজয়ে। জিম্বাবুয়ে পেল রেকর্ড গড়া জয়। হারারে টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারাল বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে সবশেষ হেরেছিল সেই ২০০১ সালে। দুই দলের প্রথম টেস্ট ছিল সেটি, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ছিল দ্বিতীয় ম্যাচ।

জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় এটি। আগের সেরা জয়টি ছিল ঠিক আগের টেস্টেই। গত অক্টোবরে আফগানিস্তানকে হারায় তারা ইনিংস ও ৭৩ রানে।

১৯৯২ সালে প্রথম টেস্ট খেলা দলটি প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে চেয়ের স্বাদ পেল। রিচার্ড এনগারাভার নেতৃত্বের শুরুটাও হলো জয় দিয়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশকে একপ্রকার মাটিতে নামিয়ে আনল জিম্বাবুয়ে। তিন দিনজুড়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের হাতে। পুরো ম্যাচজুড়েই হারারের এই টেস্টে বাংলাদেশকে চিনতেই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর আত্মবিশ্বাস আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অনুপ্রেরণা নিয়েই জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তিন দিনের মধ্যেই সেই আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিল স্বাগতিকরা। অথচ হারারেতে একই উইকেটে দুই দলের লড়াইয়ে ফুটে উঠল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

উইকেটে পেসারদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা ছিল। সেটি সবচেয়ে ভালো কাজে লাগিয়েছে জিম্বাবুয়ের চার পেসার। ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ব্র্যাড ইভান্স মিলে দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটিংকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন। তারা অফ স্টাম্পের বাইরে ধারাবাহিক লাইন ধরে রেখেছেন, বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়েছেন এবং ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পেসাররা সেই জায়গায় ছিলেন নিষ্প্রভ। স্কোয়াডে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা না থাকলেও ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদের মতো অভিজ্ঞ পেসাররা ছিলেন। কাগজে-কলমে এই আক্রমণকে দুর্বল বলার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বাস্তবে তারা উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি। ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্রেইগ আরভিন, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধেভেরে স্বচ্ছন্দে বড় ইনিংস খেলেছেন।

হারারে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের ভিত গড়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট করে তারা। মুমিনুল হকের ৬০ রান ছাড়া কোনো ব্যাটারই দায়িত্ব নিতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের চার পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের সুযোগই তৈরি করতে পারেনি সফরকারীরা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনোসেন্ট কাইয়ার দুর্দান্ত ১৪০ রানের ইনিংস, ক্রেইগ আরভিনের ৬০, ব্রায়ান বেনেটের ৫৯ এবং ওয়েসলি মাধেভেরের অপরাজিত ৭৭ রানে ৪১০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। যদিও তাইজুল ইসলাম একাই লড়াই চালিয়ে ১৩৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের আরও বড় সংগ্রহ থেকে আটকে দেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ছিল তার ১৯তম পাঁচ উইকেট। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে সাকিব আল হাসানের পাশে উঠে আসেন তিনি।

২৭০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ব্লেসিং মুজারাবানির তোপে ভেঙে পড়ে টপ অর্ডার। মাহমুদুল হাসান জয়, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম—চার অভিজ্ঞ ব্যাটারের বিদায়ে লাঞ্চের আগেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস হার।

লাঞ্চের পর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন অভিষিক্ত তাওহীদ হৃদয় ও অমিত হাসান। তবে সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নিউম্যান নিয়ামহুরির বলে হাসান মাহমুদ মিড-অনে ক্যাচ দিলে ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। আর তাতেই ইনিংস ও ৮৫ রানের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্লেসিং মুজারাবানি চারটি এবং রিচার্ড এনগারাভা তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া নিউম্যান নিয়ামহুরি দুটি এবং ব্র্যাড ইভান্স একটি উইকেট শিকার করেন।