গণভোট ব্যর্থ করা হলে এ সরকারকেও ব্যর্থ করা হবে : জামায়াত আমির

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি :

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল বলেছিল, অধিকাংশ জনগণ যদি “হ্যাঁ”-এর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। তাঁরা বলেছিলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” বলুন। কিন্তু যখন তাঁরা (সরকার) ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন তাঁরা “হ্যাঁ” ভুলে গেলেন।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গণভোট ব্যর্থ হলে এ সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরের বান্দ রোড হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তাদের (সরকারি দল) মনমত কিছু জিনিস যুক্ত করে স্বৈরশাসনকে পাকাপোক্ত করতে চায়। এ রকম ভাওতাবাজী করলে এ জাতি আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না। গণভোট না থাকলে এ সরকারও মানা হবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, এখন সরকার বলছে, আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলিনি। অথচ বিএনপির ৩১ দফার প্রথমটাই হচ্ছে সংস্কার। সরকার বলছে সংস্কার কি বুঝি না, আসেন সংবিধান সংশোধন কমিটি করি। সংসদে মাঝে মাঝে একজন অবৈতনিক শিক্ষক ছবক দেয়। সংবিধানে কোথায় আছে সংবিধান সংশোধন কমিটি? আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছি।

বরিশালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. শফিুকর বলেন, ভোরে বরিশালের রাস্তা যখন ধরলাম তখন দেখলাম ভাঙা শুরু হয়ে গেছে। একটা বিভাগীয় শহর, দেশের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে এমন রাস্তা কি করে হয়? এই রাস্তার বিষয়ে সরকার কোনো কথা বলে না। ভোলা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি সেতু হয়নি কেন? এর জবাব চাই সরকারের কাছে।’ তিনি বলেন, ‘বরিশালবাসী রেললাইনের গল্প শুনেছে। এখানে রেললাইনও দিতে হবে।’ তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বরিশালকে বঞ্চিত রেখে সুষম উন্নয়ন হবে না।

জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা (সরকার) আমাদের রাজপথে ঠেলে দিচ্ছেন। রক্তে আগুন ধরাবেন না। আমাদের সাফ কথা, গণভোটের গণ রায় মানতেই হবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। বিরোধী দলের আসনগুলোতে বৈষম্য করা হচ্ছে। এই বৈষম্য মেনে নেব না। দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে মানুষ পিষ্ট হচ্ছে।’ তি‌নি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ‌্য ব‌লেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে আপনি কী করে এই সংকট মোকাবিলা করবেন?’ এ সময় জামায়াত আমির নেতা-কর্মীদের ঢাকার মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে বরিশালে আসার পথে যখন ভাঙ্গা থেকে বরিশালে এলাম, তখন দেখি ভাঙ্গার পরেই ভাঙা রাস্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরো রাস্তা বঙ্গোপসাগরের পানির ঢেউয়ের মতো। রাস্তা আবার মাত্র দুই লেনের। একটা বিভাগীয় শহরের রাস্তা। তাছাড়া পাশে আছে আবার কুয়াকাটা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত। এই রাস্তাটা বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি, এটা ছয় লেনে উপনীত হবে। কিন্তু সরকার এই ব্যাপারে কোনো কথা বলে না। সরকারি দলের এমপিরাও কোনো কথা বলে না।

তিনি বলেন, রেল হচ্ছে যোগাযোগের নিরাপদ এবং সহজ মাধ্যম। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রেল লাইন থাকলেও বরিশালবাসী রেললাইনের গল্প শুনেছে, রেললাইন দেখে নাই। কী অপরাধ বরিশালবাসীর? এখানে রেললাইনও দিতে হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে টেনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, গণভোটে আপনারা হ্যাঁ বলেছিলেন। এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছে, অতীতের প্রথা আর রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই, নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।

তিনি বলেন, আফসোস- বর্তমান সরকারি দল বলেছিলেন, অধিকাংশ জনগণ যদি গণভোটের পক্ষে রায় দেয় তাহলে গণভোটের প্রত্যেকটা দাবি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আমরাও বলেছি, তারাও বলেছে, গণভোটে হ্যাঁ বলেন। কিন্তু হ্যাঁ যখন বিজয়ী হলো- যেভাবেই হোক, মেকানিজম করে তারা যখন ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন ‘হ্যাঁ, টা তারা ভুলে গেলেন। এখন বলতে বলতে তারা এসে বলতেছেন- আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলিনাই। আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। কারণ আপনাদের ৩১ দফার প্রথম দফাই হচ্ছে সংস্কার। এখন বলেন যে, সংস্কার কী জিনিস বুঝি না, আসেন সংবিধান সংশোধন কমিটি করি।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা ৯১ সালের পরে ক্ষমতায় এসে বোঝেন নাই কাকে কেয়ারটেকার সরকার বলে। শেষ পর্যন্ত বুঝেছেন ঠিকই। আমরা বলবো জাতির ক্ষতি করে বুঝবেন না, এখনই বুঝুন। আমরা রাজপথে এভাবে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আপনারা যেভাবে ধাক্কায়ে ধাক্কায়ে আমাদেরকে রাজপথের দিকে দিচ্ছেন, রাজপথ জ্বলে উঠলে সেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, গণভোটে এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। হ্যাঁ বলার মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছে অতীতের পচা রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থা আমরা আর চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই। নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আফসোস, সরকারি দল তারা বলেছিল অধিকাংশ জনগণ যদি গণভোটে হ্যাঁ- এর পক্ষে রায় দেয় তাহলে আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। আমরাও বলেছি, তারাও বলেছেন গণভোটে হ্যাঁ বলুন, আমরাও বলেছি গণভোটে হ্যাঁ বলুন। কিন্তু হ্যাঁ যখন বিজয়ী হলো। যেভাবেই হোক মেকানিজম করে তারা যখন ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন হ্যাঁ-টা তারা ভুলে গেলেন। এখন তারা বলতেছেন- আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলি নাই। না না বন্ধুরা আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। কারণ আপনাদের ৩১ দফা সংস্কারের দাবির প্রথম দফাই হচ্ছে সংস্কার। এখন বলেন যে সংস্কার কী জিনিস বুঝি না। আসেন আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটি করি।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সংসদের ভেতরে আপনারা দেখবেন মাঝে মাঝে একজন অবৈতনিক শিক্ষক, তিনি আমাদেরকে সবক দেন। এইটা সংবিধান, ওইটা সংবিধান, এইটা ধারা, ওইটা ধারা। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই- সংবিধান এবং কার্যপ্রণালী বিধির কোথায় আছে সংসদে আপনি একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করতে পারবেন মেহেরবানি করে তা দেখিয়ে দেন। আমরা যখন তার প্রতিবাদ করেছি, এখন শুনলাম সংসদের ভেতরেই তারা আওয়াজ দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করলেন। আমরা এটাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। এখন নাকি তারা এটার নাম পাল্টাইয়া নতুনভাবে তারা আকিকা করতেছেন নতুন নামে। তারা এখন বলতেছেন বিশেষ কমিটি। জনগণের সাথে আর কত ছলচাতুরি করবেন, আর কত ধোঁকাবাজি করবেন। পদে পদে মিথ্যা বলবেন, ধোঁকা দেবেন পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৯টি বছর এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মামলা মাথায় নিয়ে জেলে গিয়েছে। সন্তান হারিয়েছে, স্বামী হারিয়েছে, এমনকি স্ত্রীও হারিয়েছে, কিন্তু মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করে নাই। সেই ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে তুড়ি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা হাজার চেষ্টা করলে ওই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না। আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন। আসল ফ্যাসিবাদকেই জনগণ পাত্তা দেয় নাই। ডামি ফ্যাসিবাদ আবার কিসের? ফ্যাসিবাদ যে পথে হেঁটেছে আপনারা সেই পথে হাঁটছেন। খাসলতের একটারও পরিবর্তন আনেন নাই।

তিনি বলেন, ১৩৩টা অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল। যেই অর্ডিন্যান্সগুলা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল তার সবগুলো বিএনপি রেখে দিয়েছে। এটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। তারা বলে সুন্দর করে আমরা আরো ভালো করে এগুলা নিয়ে আসব। এ পর্যন্ত ছয় মাস চলে যাচ্ছে কই ভালো করে তো এটা আনতে পারলেন না। আমরা বুঝতে পারছি জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য আরেকটা অপকৌশলের আশ্রয় তারা নিতে পারেন। তাদের মনমতো একতরফা ওই অবৈধ কমিটিতে আলাপ-আলোচনা করে। সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কোনো কমিটি নাই। এটা অবৈধ যদি গঠন করা হয়ে থাকে। ওখানে আলাপ-আলোচনা করে তাদের মনমতো কিছু জিনিস স্বৈরশাসনকে পোকাপোক্ত করার জন্য তারা হয়তো নিয়ে আসবে। দুই তৃতীয়াংশের জোরে হয়তো পাসও করবে। তারপরে বলবে আগে তো সংবিধানে গণভোট ছিল না। এখন পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে এটা ফিরে এসেছে। আমরা এখন এই বিষয়গুলোই গণভোটে দেবো। এ রকম কোনো ভাওতাবাজি যদি করা হয়, অগ্রিম বলে রাখছি- এই জাতি আপনাদেরকে ছেড়ে কথা বলবে না। সাবধান ধোঁকার পথে পা বাড়াবেন না।

শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের একটা চমৎকার স্লোগান ছিল আমাদের সন্তানদের। লেগেছে রে লেগেছে। রক্তে আগুন লেগেছে। রক্তে আগুন ধরাবেন না। এই প্রজন্মের আর পরীক্ষা নেবেন না। এরা পরীক্ষিত। এরা বিজয়ী, এরা বীর।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাইকেও ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কত কসরত। এইটা ওইটা, ৭১ সাল- অবশ্যই এটি আমাদের গর্বের। এটি আমাদের ইতিহাসের সোনালী অংশ। ২৪ টানতে গিয়ে ৭১ টানতে হবে কেন। ৭১ থাকবে ৭১ এর মর্যাদায়, ২৪ থাকবে তার মর্যাদায়। এই ২৪ আমরা হারিয়ে যেতে দেব না ইনশাআল্লাহ। ২৪ এর বীরদেরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করতে হবে সে শহীদ হোক আর গাজী হোক, ২৪ নিয়ে কোনো অবহেলায় জাতি বরদাসত করবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বাগদান গুঞ্জন, নতুন ছবি প্রকাশ করলেন পূজা চেরি

গণভোট ব্যর্থ করা হলে এ সরকারকেও ব্যর্থ করা হবে : জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি :

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল বলেছিল, অধিকাংশ জনগণ যদি “হ্যাঁ”-এর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। তাঁরা বলেছিলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” বলুন। কিন্তু যখন তাঁরা (সরকার) ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন তাঁরা “হ্যাঁ” ভুলে গেলেন।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গণভোট ব্যর্থ হলে এ সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরের বান্দ রোড হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তাদের (সরকারি দল) মনমত কিছু জিনিস যুক্ত করে স্বৈরশাসনকে পাকাপোক্ত করতে চায়। এ রকম ভাওতাবাজী করলে এ জাতি আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না। গণভোট না থাকলে এ সরকারও মানা হবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, এখন সরকার বলছে, আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলিনি। অথচ বিএনপির ৩১ দফার প্রথমটাই হচ্ছে সংস্কার। সরকার বলছে সংস্কার কি বুঝি না, আসেন সংবিধান সংশোধন কমিটি করি। সংসদে মাঝে মাঝে একজন অবৈতনিক শিক্ষক ছবক দেয়। সংবিধানে কোথায় আছে সংবিধান সংশোধন কমিটি? আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছি।

বরিশালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. শফিুকর বলেন, ভোরে বরিশালের রাস্তা যখন ধরলাম তখন দেখলাম ভাঙা শুরু হয়ে গেছে। একটা বিভাগীয় শহর, দেশের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে এমন রাস্তা কি করে হয়? এই রাস্তার বিষয়ে সরকার কোনো কথা বলে না। ভোলা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি সেতু হয়নি কেন? এর জবাব চাই সরকারের কাছে।’ তিনি বলেন, ‘বরিশালবাসী রেললাইনের গল্প শুনেছে। এখানে রেললাইনও দিতে হবে।’ তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বরিশালকে বঞ্চিত রেখে সুষম উন্নয়ন হবে না।

জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা (সরকার) আমাদের রাজপথে ঠেলে দিচ্ছেন। রক্তে আগুন ধরাবেন না। আমাদের সাফ কথা, গণভোটের গণ রায় মানতেই হবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। বিরোধী দলের আসনগুলোতে বৈষম্য করা হচ্ছে। এই বৈষম্য মেনে নেব না। দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে মানুষ পিষ্ট হচ্ছে।’ তি‌নি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ‌্য ব‌লেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে আপনি কী করে এই সংকট মোকাবিলা করবেন?’ এ সময় জামায়াত আমির নেতা-কর্মীদের ঢাকার মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে বরিশালে আসার পথে যখন ভাঙ্গা থেকে বরিশালে এলাম, তখন দেখি ভাঙ্গার পরেই ভাঙা রাস্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরো রাস্তা বঙ্গোপসাগরের পানির ঢেউয়ের মতো। রাস্তা আবার মাত্র দুই লেনের। একটা বিভাগীয় শহরের রাস্তা। তাছাড়া পাশে আছে আবার কুয়াকাটা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত। এই রাস্তাটা বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি, এটা ছয় লেনে উপনীত হবে। কিন্তু সরকার এই ব্যাপারে কোনো কথা বলে না। সরকারি দলের এমপিরাও কোনো কথা বলে না।

তিনি বলেন, রেল হচ্ছে যোগাযোগের নিরাপদ এবং সহজ মাধ্যম। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রেল লাইন থাকলেও বরিশালবাসী রেললাইনের গল্প শুনেছে, রেললাইন দেখে নাই। কী অপরাধ বরিশালবাসীর? এখানে রেললাইনও দিতে হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে টেনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, গণভোটে আপনারা হ্যাঁ বলেছিলেন। এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছে, অতীতের প্রথা আর রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই, নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।

তিনি বলেন, আফসোস- বর্তমান সরকারি দল বলেছিলেন, অধিকাংশ জনগণ যদি গণভোটের পক্ষে রায় দেয় তাহলে গণভোটের প্রত্যেকটা দাবি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আমরাও বলেছি, তারাও বলেছে, গণভোটে হ্যাঁ বলেন। কিন্তু হ্যাঁ যখন বিজয়ী হলো- যেভাবেই হোক, মেকানিজম করে তারা যখন ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন ‘হ্যাঁ, টা তারা ভুলে গেলেন। এখন বলতে বলতে তারা এসে বলতেছেন- আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলিনাই। আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। কারণ আপনাদের ৩১ দফার প্রথম দফাই হচ্ছে সংস্কার। এখন বলেন যে, সংস্কার কী জিনিস বুঝি না, আসেন সংবিধান সংশোধন কমিটি করি।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা ৯১ সালের পরে ক্ষমতায় এসে বোঝেন নাই কাকে কেয়ারটেকার সরকার বলে। শেষ পর্যন্ত বুঝেছেন ঠিকই। আমরা বলবো জাতির ক্ষতি করে বুঝবেন না, এখনই বুঝুন। আমরা রাজপথে এভাবে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আপনারা যেভাবে ধাক্কায়ে ধাক্কায়ে আমাদেরকে রাজপথের দিকে দিচ্ছেন, রাজপথ জ্বলে উঠলে সেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, গণভোটে এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। হ্যাঁ বলার মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছে অতীতের পচা রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থা আমরা আর চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই। নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আফসোস, সরকারি দল তারা বলেছিল অধিকাংশ জনগণ যদি গণভোটে হ্যাঁ- এর পক্ষে রায় দেয় তাহলে আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। আমরাও বলেছি, তারাও বলেছেন গণভোটে হ্যাঁ বলুন, আমরাও বলেছি গণভোটে হ্যাঁ বলুন। কিন্তু হ্যাঁ যখন বিজয়ী হলো। যেভাবেই হোক মেকানিজম করে তারা যখন ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন হ্যাঁ-টা তারা ভুলে গেলেন। এখন তারা বলতেছেন- আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলি নাই। না না বন্ধুরা আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। কারণ আপনাদের ৩১ দফা সংস্কারের দাবির প্রথম দফাই হচ্ছে সংস্কার। এখন বলেন যে সংস্কার কী জিনিস বুঝি না। আসেন আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটি করি।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সংসদের ভেতরে আপনারা দেখবেন মাঝে মাঝে একজন অবৈতনিক শিক্ষক, তিনি আমাদেরকে সবক দেন। এইটা সংবিধান, ওইটা সংবিধান, এইটা ধারা, ওইটা ধারা। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই- সংবিধান এবং কার্যপ্রণালী বিধির কোথায় আছে সংসদে আপনি একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করতে পারবেন মেহেরবানি করে তা দেখিয়ে দেন। আমরা যখন তার প্রতিবাদ করেছি, এখন শুনলাম সংসদের ভেতরেই তারা আওয়াজ দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করলেন। আমরা এটাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। এখন নাকি তারা এটার নাম পাল্টাইয়া নতুনভাবে তারা আকিকা করতেছেন নতুন নামে। তারা এখন বলতেছেন বিশেষ কমিটি। জনগণের সাথে আর কত ছলচাতুরি করবেন, আর কত ধোঁকাবাজি করবেন। পদে পদে মিথ্যা বলবেন, ধোঁকা দেবেন পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৯টি বছর এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মামলা মাথায় নিয়ে জেলে গিয়েছে। সন্তান হারিয়েছে, স্বামী হারিয়েছে, এমনকি স্ত্রীও হারিয়েছে, কিন্তু মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করে নাই। সেই ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে তুড়ি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা হাজার চেষ্টা করলে ওই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না। আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন। আসল ফ্যাসিবাদকেই জনগণ পাত্তা দেয় নাই। ডামি ফ্যাসিবাদ আবার কিসের? ফ্যাসিবাদ যে পথে হেঁটেছে আপনারা সেই পথে হাঁটছেন। খাসলতের একটারও পরিবর্তন আনেন নাই।

তিনি বলেন, ১৩৩টা অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল। যেই অর্ডিন্যান্সগুলা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল তার সবগুলো বিএনপি রেখে দিয়েছে। এটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। তারা বলে সুন্দর করে আমরা আরো ভালো করে এগুলা নিয়ে আসব। এ পর্যন্ত ছয় মাস চলে যাচ্ছে কই ভালো করে তো এটা আনতে পারলেন না। আমরা বুঝতে পারছি জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য আরেকটা অপকৌশলের আশ্রয় তারা নিতে পারেন। তাদের মনমতো একতরফা ওই অবৈধ কমিটিতে আলাপ-আলোচনা করে। সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কোনো কমিটি নাই। এটা অবৈধ যদি গঠন করা হয়ে থাকে। ওখানে আলাপ-আলোচনা করে তাদের মনমতো কিছু জিনিস স্বৈরশাসনকে পোকাপোক্ত করার জন্য তারা হয়তো নিয়ে আসবে। দুই তৃতীয়াংশের জোরে হয়তো পাসও করবে। তারপরে বলবে আগে তো সংবিধানে গণভোট ছিল না। এখন পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে এটা ফিরে এসেছে। আমরা এখন এই বিষয়গুলোই গণভোটে দেবো। এ রকম কোনো ভাওতাবাজি যদি করা হয়, অগ্রিম বলে রাখছি- এই জাতি আপনাদেরকে ছেড়ে কথা বলবে না। সাবধান ধোঁকার পথে পা বাড়াবেন না।

শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের একটা চমৎকার স্লোগান ছিল আমাদের সন্তানদের। লেগেছে রে লেগেছে। রক্তে আগুন লেগেছে। রক্তে আগুন ধরাবেন না। এই প্রজন্মের আর পরীক্ষা নেবেন না। এরা পরীক্ষিত। এরা বিজয়ী, এরা বীর।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাইকেও ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কত কসরত। এইটা ওইটা, ৭১ সাল- অবশ্যই এটি আমাদের গর্বের। এটি আমাদের ইতিহাসের সোনালী অংশ। ২৪ টানতে গিয়ে ৭১ টানতে হবে কেন। ৭১ থাকবে ৭১ এর মর্যাদায়, ২৪ থাকবে তার মর্যাদায়। এই ২৪ আমরা হারিয়ে যেতে দেব না ইনশাআল্লাহ। ২৪ এর বীরদেরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করতে হবে সে শহীদ হোক আর গাজী হোক, ২৪ নিয়ে কোনো অবহেলায় জাতি বরদাসত করবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।