Dhaka বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কবে থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, জানালেন বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান তিনি।

বিমানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর সনদ অর্জন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত।

বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, বড় ও প্রশস্ত দেহের (ওয়াইড-বডি) বিমান যাতে নিরাপদে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, সেজন্য রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। বিশেষ করে রানওয়ের একটি অংশ সমুদ্রের দিকে সম্প্রসারিত করায় এটি পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে পূর্ণ লোড নিয়ে বড় বিমানগুলো এখন অনায়াসেই এই বিমানবন্দরে ওঠানামা করতে পারবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি সুপরিসর আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ এবং বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা কমিশনিং পর্যায়ে রয়েছে।

আফরোজা খানম বলেন, একটি বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করার জন্য অপারেশনাল ও কারিগরি কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা যাবে।

এদিকে সরকারদলীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করছে।

তবে উড়োজাহাজের স্বল্পতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা এবং পুরোনোগুলো পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। অনলাইন টিকিটিং ও নজরদারি জোরদার করায় বিমানের অনটাইম পারফরম্যান্স (ওটিপি) ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও স্টালপোর্ট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২০ ও ২০২১ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা উড়োজাহাজ ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়নি। সব প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।

আবহাওয়া

হাদি হত্যাকাণ্ড : অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল ৩ দিনের রিমান্ডে

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কবে থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, জানালেন বিমানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান তিনি।

বিমানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর সনদ অর্জন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত।

বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, বড় ও প্রশস্ত দেহের (ওয়াইড-বডি) বিমান যাতে নিরাপদে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, সেজন্য রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। বিশেষ করে রানওয়ের একটি অংশ সমুদ্রের দিকে সম্প্রসারিত করায় এটি পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে পূর্ণ লোড নিয়ে বড় বিমানগুলো এখন অনায়াসেই এই বিমানবন্দরে ওঠানামা করতে পারবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি সুপরিসর আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ এবং বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা কমিশনিং পর্যায়ে রয়েছে।

আফরোজা খানম বলেন, একটি বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করার জন্য অপারেশনাল ও কারিগরি কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা যাবে।

এদিকে সরকারদলীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করছে।

তবে উড়োজাহাজের স্বল্পতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা এবং পুরোনোগুলো পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। অনলাইন টিকিটিং ও নজরদারি জোরদার করায় বিমানের অনটাইম পারফরম্যান্স (ওটিপি) ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও স্টালপোর্ট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২০ ও ২০২১ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা উড়োজাহাজ ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়নি। সব প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।