Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমানে গাড়ির ভেতর চট্টগ্রামের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ।

ওমানে থাকা একই এলাকার বাসিন্দা ও নিহতদের মামাতো ভাই বাবুর মাধ্যমে প্রথমে দেশে পৌঁছে এ হৃদয়বিদারক সংবাদ। পরে লালানগর ইউনিয়নের মো.ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা আবদুল মজিদের ছেলে এবং চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন। বুধবার তাদের বহনকারী গাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন। আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কেনাকাটা শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে ওমানে অবস্থান করছিলেন চারভাই। তাদের এক ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় ঘরে চলছিল আনন্দের প্রস্তুতি। খুব শিগগিরই দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করতেই চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা।

জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তারা গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এতে এসির গ্যাস লিকেজ বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব বলেন, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। বাবুর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কেনাকাটার জন্য বের হওয়ার পর মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে চার ভাইকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতের দিকে ঘটনাটি ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে এসি চালু রেখে ঘুমানোর সময় গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ইয়াকুব জানান, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করতে বাবু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বর্তমানে মরদেহগুলো রুস্তাক থানা হেফাজতে রয়েছে। পরে সেগুলো মাস্কাটে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজারপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোক বিরাজ করছে।

আবহাওয়া

তারেক রহমান অবশ্যই ঢাবির ছাত্র ছিলেন : আসিফ নজরুল

ওমানে গাড়ির ভেতর চট্টগ্রামের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ১১:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ।

ওমানে থাকা একই এলাকার বাসিন্দা ও নিহতদের মামাতো ভাই বাবুর মাধ্যমে প্রথমে দেশে পৌঁছে এ হৃদয়বিদারক সংবাদ। পরে লালানগর ইউনিয়নের মো.ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা আবদুল মজিদের ছেলে এবং চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন। বুধবার তাদের বহনকারী গাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন। আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কেনাকাটা শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে ওমানে অবস্থান করছিলেন চারভাই। তাদের এক ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় ঘরে চলছিল আনন্দের প্রস্তুতি। খুব শিগগিরই দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করতেই চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা।

জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তারা গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এতে এসির গ্যাস লিকেজ বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব বলেন, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। বাবুর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কেনাকাটার জন্য বের হওয়ার পর মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে চার ভাইকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতের দিকে ঘটনাটি ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে এসি চালু রেখে ঘুমানোর সময় গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ইয়াকুব জানান, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করতে বাবু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বর্তমানে মরদেহগুলো রুস্তাক থানা হেফাজতে রয়েছে। পরে সেগুলো মাস্কাটে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজারপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোক বিরাজ করছে।