আড়াই বছরের মধ্যে রাজধানী থেকে সরবে চার বাস টার্মিনাল : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আড়াই বছরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা থেকে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

টার্মিনালগুলো হলো- গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। ওখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গেছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে ওখানে রং করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে—এ রকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। একটা হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যেটা আমরা ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক অপজিটে। গাবতলীরটা চলে যাবে হেমায়েতপুরে।

তিনি বলেন, এ রকমভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো (টার্মিনালে) আসবে আবার কখন? গাড়ি ছাড়ার যে সময় আছে, তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে। (গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া) টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে, বাসের ওই ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না। আলাদা ডিপো করে আমরা ওখানে পর্যায়ক্রমে সর্বসাকুল্যে দুই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব, দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে। গাবতলীরটা হেমায়েতপুর, মহাখালীরটা উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি ওখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করতে চলেছি আমরা এরই মধ্যে। তার আগ পর্যন্ত ডিপোটা হবে ৩০০ ফিটে। কাঁচপুরে চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়ারটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে। অর্থাৎ এভাবে শিফট হচ্ছে ওটাকে বিবেচনায় নিয়ে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আর এটা আমরা এনশিওর করতে চাচ্ছি যে, কলাবাগান, কল্যাণপুর—যে সমস্ত জায়গায় কাউন্টার, এসি কাউন্টারকে বা অনেকগুলো বেসরকারি বাসের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পোরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, রাস্তার পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। আর অবশ্যই কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী উঠাতে পারবে না— আমরা মোটামুটি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটি নগরীতে এ রকম চলে না। ধরেন রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, মনোরেল আছে, বাস আছে—এইটাই হলো বেসিক। আর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আমরা এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে, বাস ব্যক্তি মালিকানায় একই রুটে, দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা হয়, কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট না, লোক যেখানে হাত তোলে সেখানে থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।

প্রত্যেক রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট বাস, একই কালারের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস রেখে, ফ্যাসিলিটিজ রেখে চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা ই-ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি, ইলেকট্রিক ভেহিকেল। তো এই কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কিন্তু কাজ করছে। তো আমরা চাচ্ছি যে, বাস ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট, তৃতীয়ত হচ্ছে আপনার ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে—এই ব্যবস্থাপনাটা।

ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গাড়িতে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক-দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, আমার মন্ত্রণালয়ে আমরা বসেছি। বসে আমরা তিন মাসের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, আপনি যেভাবেই বলেন না কেন, এই রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলো আছে, সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা এখানেই এসে, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।

শেখ রবিউল আলম বলেন, তাদের সময় দেওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে, আমাদের বাস টার্মিনালগুলো এখনও পর্যন্ত ভালো মানের বাস, এসি বাস অথবা যেখানে অনেক বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, একজন যাত্রী কমফোর্ট ফিল করে, এই বাসগুলো বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ার উপযুক্ত কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা বাস টার্মিনালগুলিতে নেই। সায়েদাবাদ বলেন মহাখালী বলেন গাবতলী বলেন। যাত্রীরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। একটা হলো পরিবেশগত, আরেকটা হলো আপনার যেটাকে বলা হয় ফ্যাসিলিটিজগত।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাস টার্মিনালগুলোতে এই ফ্যাসিলিটিগুলো সিটি করপোরেশন নিশ্চিত করবে। টয়লেট, ফ্যানগুলো যেন চলে, ওয়েটিংয়ের জন্য বড় রুম—এই ফ্যাসিলিটি করবে। তাদেরও কিছুটা সময় লাগবে। এটা হয়ে গেলে তিন মাস পর তারা ওখানে যাবে। এটা প্রিভিউ মিটিং দুই-তিন দিন আগে হয়েছে মাত্র। সেখানে এই সময়টা আরও এক মাস বাড়িয়ে করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাস মালিক সমিতির লোকেরা বলেছে, তারা ওই পরিবেশ পেলে, জায়গা পেলে তারা নিজেরাই ওখানে অবকাঠামো করে নেবে বাস টার্মিনালে তারা এগ্রি করেছে। আমি কিন্তু তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। সিটি করপোরেশন, তারা ডেভেলপ করে দিতে চেয়েছে; আর মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছে, তারা পরিবেশটা এনশিওর করবে। যেন মানুষ নিরাপদ থাকে, স্ট্রিট লাইট থাকে, সিসি ক্যামেরা থাকে, মানুষ মানে উৎসাহিত হয় ওখানে যেতে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে যে, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিপূর্ণ না হলেও একটা পরিবর্তন আপনারা এই বাস টার্মিনালগুলোতে দেখবেন।

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ‘ভুল ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন শেখ রবিউল আলম বলেন, সেতুর পিলারের পাশে যে মাটি সরানো হচ্ছে, সেটি মূল কাঠামোর অংশ নয়; বরং নির্মাণকাজের সময় সাময়িকভাবে ভরাট করা আর্টিফিশিয়াল মাটি, যা চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের আগেই অপসারণ করার কথা ছিল।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণের সময় নদীর মাঝখানে কাজ পরিচালনার জন্য অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট, সাপোর্ট স্ট্রাকচার তৈরি এবং যন্ত্রপাতি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হয়। নির্মাণ শেষে ঠিকাদারের এসব সাময়িক কাঠামো অপসারণ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা হয়নি।

তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের সময় কিছু জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ফিলিং করা হয়েছিল, যাতে যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সময়মতো হয়নি। এখন সেই মাটিই অপসারণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ভরাট করা মাটি শক্ত ও স্বাভাবিক মাটির মতো হয়ে গেছে। ফলে এখন মাটি কাটার দৃশ্য দেখে অনেকের মনে হচ্ছে, সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি সরানো হচ্ছে এবং এতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটা ভয় তৈরি হয়েছে-পিলারের পাশে মাটি কাটলে সেতু ঝুঁকিতে পড়বে কি না। কিন্তু প্রকৌশলগতভাবে এই মাটির সঙ্গে মূল পিলারের নিরাপত্তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
শেখ রবিউল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওই মাটি অপসারণ করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও ভালো হবে।

তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী ওই আর্টিফিশিয়াল মাটি সরিয়ে ফেলাই যুক্তিযুক্ত। এটি সরালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, নৌ চলাচলেও সুবিধা হবে।

এ সময় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, মাটি অপসারণকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী সুবিধা নিচ্ছে বা মাটি বিক্রির সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে-এমন অভিযোগের ভিত্তি তিনি পাননি।

তার ভাষায়, এটা মাটি বিক্রি বা কাউকে লাভবান করার প্রকল্প নয়। এটি মূল নির্মাণকাজেরই অসমাপ্ত অংশ। দেরিতে হওয়ায় এখন বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু ইস্যুতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের আগে আরও গভীরভাবে প্রকৌশলগত বিষয়গুলো বোঝা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করা উচিত। কারণ অবকাঠামোগত অনেক বিষয় সাধারণ দৃষ্টিতে যেমন মনে হয়, প্রকৌশলগত বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন।

তিনি বলেন, আপনাদের যদি আরও জানার প্রয়োজন হয়, আমরা ভিজিটের ব্যবস্থা করতে পারি। আপনারা সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। যদি প্রকল্পের বাইরে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সড়ক উন্নয়ন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া ৩০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। চার লেনে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করেন। তাদের সংবাদ ও বিশ্লেষণ রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মত ও ব্যাখ্যার ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ পরিবেশন করলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় সবসময় প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যের সমন্বয় এবং বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা থাকলে তা আরও সমৃদ্ধ হয়। অনেক সময় কোনো প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে গিয়ে বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হয়, যা জাতীয় স্বার্থের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যা শুধু তথ্য পরিবেশন করে না, বরং রাষ্ট্রকে পথও দেখায়। সাংবাদিকরা সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেন, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেন এবং উন্নয়নের গতিকে টেকসই করতে ভূমিকা রাখেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে সরকার জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে, আর সাংবাদিকরা সেই কাজের মূল্যায়ন করেন। এ দুই পক্ষের লক্ষ্য একটিই হওয়া উচিত, সেটি হলো দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে। এ পথে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকে। মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। যা দেখছি, যা করছি এবং যে বাস্তবতা রয়েছে, সেটিই সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরতে চিই। তবে অনেক সময় কোনো বক্তব্য বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা মূল বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই একইভাবে বিষয়কে মূল্যায়ন করেন না। চিন্তার ভিন্নতার কারণে ব্যাখ্যাও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যত বেশি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ ও বিশ্লেষণ করা যাবে, তত বেশি দেশ উপকৃত হবে। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, তাহলে দেশের অগ্রগতি আরও বেগবান হবে।’

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় সরকারের নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় তার মন্ত্রণালয়েরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে যদি কোথাও ব্যবধান থাকে, সেটি দূর করার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

প্রাথমিকে নামমাত্র হবে ভর্তি পরীক্ষা, কোচিংয়ের প্রয়োজন নেই : শিক্ষামন্ত্রী

আড়াই বছরের মধ্যে রাজধানী থেকে সরবে চার বাস টার্মিনাল : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আড়াই বছরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা থেকে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

টার্মিনালগুলো হলো- গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। ওখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গেছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে ওখানে রং করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে—এ রকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। একটা হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যেটা আমরা ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক অপজিটে। গাবতলীরটা চলে যাবে হেমায়েতপুরে।

তিনি বলেন, এ রকমভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো (টার্মিনালে) আসবে আবার কখন? গাড়ি ছাড়ার যে সময় আছে, তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে। (গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া) টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে, বাসের ওই ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না। আলাদা ডিপো করে আমরা ওখানে পর্যায়ক্রমে সর্বসাকুল্যে দুই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব, দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে। গাবতলীরটা হেমায়েতপুর, মহাখালীরটা উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি ওখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করতে চলেছি আমরা এরই মধ্যে। তার আগ পর্যন্ত ডিপোটা হবে ৩০০ ফিটে। কাঁচপুরে চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়ারটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে। অর্থাৎ এভাবে শিফট হচ্ছে ওটাকে বিবেচনায় নিয়ে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আর এটা আমরা এনশিওর করতে চাচ্ছি যে, কলাবাগান, কল্যাণপুর—যে সমস্ত জায়গায় কাউন্টার, এসি কাউন্টারকে বা অনেকগুলো বেসরকারি বাসের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পোরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, রাস্তার পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। আর অবশ্যই কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী উঠাতে পারবে না— আমরা মোটামুটি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটি নগরীতে এ রকম চলে না। ধরেন রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, মনোরেল আছে, বাস আছে—এইটাই হলো বেসিক। আর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আমরা এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে, বাস ব্যক্তি মালিকানায় একই রুটে, দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা হয়, কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট না, লোক যেখানে হাত তোলে সেখানে থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।

প্রত্যেক রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট বাস, একই কালারের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস রেখে, ফ্যাসিলিটিজ রেখে চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা ই-ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি, ইলেকট্রিক ভেহিকেল। তো এই কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কিন্তু কাজ করছে। তো আমরা চাচ্ছি যে, বাস ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট, তৃতীয়ত হচ্ছে আপনার ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে—এই ব্যবস্থাপনাটা।

ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গাড়িতে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক-দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, আমার মন্ত্রণালয়ে আমরা বসেছি। বসে আমরা তিন মাসের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, আপনি যেভাবেই বলেন না কেন, এই রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলো আছে, সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা এখানেই এসে, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।

শেখ রবিউল আলম বলেন, তাদের সময় দেওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে, আমাদের বাস টার্মিনালগুলো এখনও পর্যন্ত ভালো মানের বাস, এসি বাস অথবা যেখানে অনেক বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, একজন যাত্রী কমফোর্ট ফিল করে, এই বাসগুলো বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ার উপযুক্ত কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা বাস টার্মিনালগুলিতে নেই। সায়েদাবাদ বলেন মহাখালী বলেন গাবতলী বলেন। যাত্রীরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। একটা হলো পরিবেশগত, আরেকটা হলো আপনার যেটাকে বলা হয় ফ্যাসিলিটিজগত।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাস টার্মিনালগুলোতে এই ফ্যাসিলিটিগুলো সিটি করপোরেশন নিশ্চিত করবে। টয়লেট, ফ্যানগুলো যেন চলে, ওয়েটিংয়ের জন্য বড় রুম—এই ফ্যাসিলিটি করবে। তাদেরও কিছুটা সময় লাগবে। এটা হয়ে গেলে তিন মাস পর তারা ওখানে যাবে। এটা প্রিভিউ মিটিং দুই-তিন দিন আগে হয়েছে মাত্র। সেখানে এই সময়টা আরও এক মাস বাড়িয়ে করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাস মালিক সমিতির লোকেরা বলেছে, তারা ওই পরিবেশ পেলে, জায়গা পেলে তারা নিজেরাই ওখানে অবকাঠামো করে নেবে বাস টার্মিনালে তারা এগ্রি করেছে। আমি কিন্তু তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। সিটি করপোরেশন, তারা ডেভেলপ করে দিতে চেয়েছে; আর মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছে, তারা পরিবেশটা এনশিওর করবে। যেন মানুষ নিরাপদ থাকে, স্ট্রিট লাইট থাকে, সিসি ক্যামেরা থাকে, মানুষ মানে উৎসাহিত হয় ওখানে যেতে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে যে, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিপূর্ণ না হলেও একটা পরিবর্তন আপনারা এই বাস টার্মিনালগুলোতে দেখবেন।

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ‘ভুল ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন শেখ রবিউল আলম বলেন, সেতুর পিলারের পাশে যে মাটি সরানো হচ্ছে, সেটি মূল কাঠামোর অংশ নয়; বরং নির্মাণকাজের সময় সাময়িকভাবে ভরাট করা আর্টিফিশিয়াল মাটি, যা চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের আগেই অপসারণ করার কথা ছিল।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণের সময় নদীর মাঝখানে কাজ পরিচালনার জন্য অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট, সাপোর্ট স্ট্রাকচার তৈরি এবং যন্ত্রপাতি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হয়। নির্মাণ শেষে ঠিকাদারের এসব সাময়িক কাঠামো অপসারণ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা হয়নি।

তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের সময় কিছু জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ফিলিং করা হয়েছিল, যাতে যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সময়মতো হয়নি। এখন সেই মাটিই অপসারণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ভরাট করা মাটি শক্ত ও স্বাভাবিক মাটির মতো হয়ে গেছে। ফলে এখন মাটি কাটার দৃশ্য দেখে অনেকের মনে হচ্ছে, সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি সরানো হচ্ছে এবং এতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটা ভয় তৈরি হয়েছে-পিলারের পাশে মাটি কাটলে সেতু ঝুঁকিতে পড়বে কি না। কিন্তু প্রকৌশলগতভাবে এই মাটির সঙ্গে মূল পিলারের নিরাপত্তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
শেখ রবিউল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওই মাটি অপসারণ করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও ভালো হবে।

তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী ওই আর্টিফিশিয়াল মাটি সরিয়ে ফেলাই যুক্তিযুক্ত। এটি সরালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, নৌ চলাচলেও সুবিধা হবে।

এ সময় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, মাটি অপসারণকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী সুবিধা নিচ্ছে বা মাটি বিক্রির সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে-এমন অভিযোগের ভিত্তি তিনি পাননি।

তার ভাষায়, এটা মাটি বিক্রি বা কাউকে লাভবান করার প্রকল্প নয়। এটি মূল নির্মাণকাজেরই অসমাপ্ত অংশ। দেরিতে হওয়ায় এখন বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু ইস্যুতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের আগে আরও গভীরভাবে প্রকৌশলগত বিষয়গুলো বোঝা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করা উচিত। কারণ অবকাঠামোগত অনেক বিষয় সাধারণ দৃষ্টিতে যেমন মনে হয়, প্রকৌশলগত বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন।

তিনি বলেন, আপনাদের যদি আরও জানার প্রয়োজন হয়, আমরা ভিজিটের ব্যবস্থা করতে পারি। আপনারা সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। যদি প্রকল্পের বাইরে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সড়ক উন্নয়ন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া ৩০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। চার লেনে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করেন। তাদের সংবাদ ও বিশ্লেষণ রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মত ও ব্যাখ্যার ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ পরিবেশন করলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় সবসময় প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যের সমন্বয় এবং বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা থাকলে তা আরও সমৃদ্ধ হয়। অনেক সময় কোনো প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে গিয়ে বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হয়, যা জাতীয় স্বার্থের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যা শুধু তথ্য পরিবেশন করে না, বরং রাষ্ট্রকে পথও দেখায়। সাংবাদিকরা সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেন, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেন এবং উন্নয়নের গতিকে টেকসই করতে ভূমিকা রাখেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে সরকার জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে, আর সাংবাদিকরা সেই কাজের মূল্যায়ন করেন। এ দুই পক্ষের লক্ষ্য একটিই হওয়া উচিত, সেটি হলো দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে। এ পথে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকে। মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। যা দেখছি, যা করছি এবং যে বাস্তবতা রয়েছে, সেটিই সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরতে চিই। তবে অনেক সময় কোনো বক্তব্য বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা মূল বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই একইভাবে বিষয়কে মূল্যায়ন করেন না। চিন্তার ভিন্নতার কারণে ব্যাখ্যাও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যত বেশি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ ও বিশ্লেষণ করা যাবে, তত বেশি দেশ উপকৃত হবে। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, তাহলে দেশের অগ্রগতি আরও বেগবান হবে।’

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় সরকারের নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় তার মন্ত্রণালয়েরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে যদি কোথাও ব্যবধান থাকে, সেটি দূর করার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।