‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ বই লিখে তোপের মুখে পড়েছিলেন বুকারজয়ী লেখক সালমান রুশদি। ১৯৮০-র দশকে ওই বইয়ের জন্য প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছিলেন ইরান থেকে। শুক্রবার নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে লেকচার দেয়ার ঠিক আগেই হামলার শিকার হন সামলান রুশদি।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালে রুশদির লেখা ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
সাবেক এই বুকার পুরস্কার জয়ী চুয়াকুয়া ইনস্টিটিউটে বক্তব্য প্রদানকালে হামলার শিকার হন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বার্তা সংস্থা এপির একজন রিপোর্টার। তিনি হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউশনের মঞ্চে উঠে আসেন। রুশদির নাম ঘোষণার সময়ই তাকে ঘুষি বা ছুরিকাঘাত শুরু করেন। এতে মাটিতে পড়ে যান রুশদি। হামলাকারীকে তৎক্ষণাৎ ধরে ফেলা হয়।
অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ঘটনার পরপরই মঞ্চে ছুটে আসছেন অংশগ্রহণকারীরা। সালমান রুশদীর অবস্থা কি, তার বোঝা যাচ্ছে না।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত এই লেখককে হত্যার জন্য অনেক আগে ৩ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা দেয় ইরান।
ব্রিটিশ-ভারতীয় এই লেখক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন। হত্যার হুমকির পরই তাকে সব সময় পুলিশি পাহাড়ায় রাখা হয়। এই লেখকের প্রায় ডজন খানের বই প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৮৯ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনেয়ী রুশদির মৃত্যুর ফতোয়া দেন।
এসময় তার মাথার মূল্যও ঘোষণা করা হয়। কেউ যদি তাকে হত্যা করতে পারে তবে তাকে ৩০ লাখ ডলারের বেশি পুরস্কার দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
তবে ইরান সরকার ওই ফতোয়া থেকে নিজেদের অনেকটাই দূরে সরিয়ে রাখে। যদিও রুশদি বিরোধী মনোভাব ঠিকই রয়ে গেছে। ২০১২ সালে ইরানের আধা-সরকারি একটি ধর্মীয় ফাউন্ডেশন রুশদির মাথার মূল্য ২৮ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৩ লাখ ডলার ঘোষণা করে। পরবর্তীতে রুশদি বলেছিলেন ওই পুরস্কার মূল্য মানুষ চায় এমন কোনো ‘প্রমাণ নেই’।
২০০৭ সালে যুক্তরাজ্য তাকে নাইট উপাধি দেওয়ায় মুসলিম বিশ্ব থেকে ব্যাপকভাবে এর প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিনিধির নাম 





















