Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্রাইয়ের ‘মহাদিঘী’ ২৫৩ নম্বর রেল গার্ডার ব্রিজের সংস্কারকাজ শেষ

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : 

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫৪ টাকা ব্যয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতাধীন (ঈশ্বরদী-সান্তাহার) রেলওয়ে সেকশনে (আত্রাই-রানীনগর) রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১৫২ বছরের পুরোনো আত্রাইয়ের সাহাগোলার ‘মহাদীঘী’ ২৫৩ নম্বর গার্ডার ব্রিজের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ফলে ওই রেলব্রিজের ওপর দিয়ে ১শ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের ৪৪টি অর্থাৎ যাত্রীবাহী ২২ জোড়া ট্রেন নিরাপদে চলাচল করবে।

শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর রেলরুটে সান্তাহারের মহাদিঘী নামক স্থানে ব্লক চলে। ওই ব্রিজে সিসিক্লাভের ওপর যে (অস্থায়ী) রেললাইন ছিল। তা সরিয়ে ঢালাই করা পিয়ারের বেডব্লকের ওপরে (স্থায়ী) রেললাইন বসানো হয়।

তারপর চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন পারাপার করা হয়।

এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) অস্থায়ী রেললাইন নির্মাণ করে সংস্কারকাজ শুরু করে পাকশী রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ।

এসময় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সেতু প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, পশ্চিমাঞ্চল রেল পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, অতিরিক্ত সহকারী নির্বাহী প্রকৌশল রাজশাহী বাবুল আক্তার, সহকারী সেতু প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম রফিক, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) শ্যামল কুমার দত্ত (ব্রিজ) হাসান আলী, (কার্য) আব্দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পাকশী বিভাগীয় রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান আলী জানান, ২৫৩ নম্বর ব্রিজটি মাটি থেকে ১৯ ফিট উচ্চতায় নির্মিত। ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় পিলারে ও বেডব্লক ফাটল ধরায় ট্রেন চলাচলের সময় ব্রিজটি কেঁপে উঠত। পুরোনো পিয়ার এবং বেডব্লক ভেঙে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনঃনির্মাণ করা হলো।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার জানান, ১৮৭৪ সালে ‘ব্রিটিশ আমলে ইটের মাঝে চুন সুড়কি দিয়ে গাঁথুনি করা হয়েছিল। ব্রিজের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ট্রেন চলাচলের কারণে চুন-সুড়কির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে ছাইয়ের মতো হয়ে গিয়েছিল।

ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ার ১৫২ বছর অতিক্রম করেছে। ৫২ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। কোনো সংস্কার হয়নি।

৪ স্প্যানের ৫ পিলারের ওপরে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের লম্বা ব্রিজ দিয়ে ২৫ এক্সেল লোড নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। অতিরিক্ত ট্রেন চলাচলের কারণে ইটের দেয়াল ও আরসিসি বেডব্লকে ফাটল ধরেছিল।

এতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে স্বল্প গতি ও ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন পারাপার হতো। এতে সময় অপচয় হতো আবার শিডিউল বিপর্যয় ঘটতো। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫৪ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হলো।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সেতু প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় সব ব্রিজগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ যে ব্রিজগুলো রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করা হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে সবগুলো ব্রিজ সংস্কার করা হবে।

উল্লেখ্য ১৮৭৪ সালে রেলপথটি নির্মিত হওয়ার পর ভারতের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও শিয়ালদহের ট্রেন চলাচল করত। ওই সময়ে দার্জিলিং মেইল নামে একটি ট্রেন এ রুটে চলাচল করত। বর্তমানে ঈশ্বরদী-সান্তাহার সেকশনে ব্রডগেজ ও মিটারগেজের ৪৪টি যাত্রীবাহী আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল করে। যার মধ্যে ২৪টি ঢাকার দিকে যায়।

 

আবহাওয়া

সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না ৮ কোটি টাকার সেতু

আত্রাইয়ের ‘মহাদিঘী’ ২৫৩ নম্বর রেল গার্ডার ব্রিজের সংস্কারকাজ শেষ

প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : 

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫৪ টাকা ব্যয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতাধীন (ঈশ্বরদী-সান্তাহার) রেলওয়ে সেকশনে (আত্রাই-রানীনগর) রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১৫২ বছরের পুরোনো আত্রাইয়ের সাহাগোলার ‘মহাদীঘী’ ২৫৩ নম্বর গার্ডার ব্রিজের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ফলে ওই রেলব্রিজের ওপর দিয়ে ১শ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের ৪৪টি অর্থাৎ যাত্রীবাহী ২২ জোড়া ট্রেন নিরাপদে চলাচল করবে।

শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর রেলরুটে সান্তাহারের মহাদিঘী নামক স্থানে ব্লক চলে। ওই ব্রিজে সিসিক্লাভের ওপর যে (অস্থায়ী) রেললাইন ছিল। তা সরিয়ে ঢালাই করা পিয়ারের বেডব্লকের ওপরে (স্থায়ী) রেললাইন বসানো হয়।

তারপর চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন পারাপার করা হয়।

এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) অস্থায়ী রেললাইন নির্মাণ করে সংস্কারকাজ শুরু করে পাকশী রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ।

এসময় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সেতু প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, পশ্চিমাঞ্চল রেল পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, অতিরিক্ত সহকারী নির্বাহী প্রকৌশল রাজশাহী বাবুল আক্তার, সহকারী সেতু প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম রফিক, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) শ্যামল কুমার দত্ত (ব্রিজ) হাসান আলী, (কার্য) আব্দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পাকশী বিভাগীয় রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান আলী জানান, ২৫৩ নম্বর ব্রিজটি মাটি থেকে ১৯ ফিট উচ্চতায় নির্মিত। ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় পিলারে ও বেডব্লক ফাটল ধরায় ট্রেন চলাচলের সময় ব্রিজটি কেঁপে উঠত। পুরোনো পিয়ার এবং বেডব্লক ভেঙে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনঃনির্মাণ করা হলো।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার জানান, ১৮৭৪ সালে ‘ব্রিটিশ আমলে ইটের মাঝে চুন সুড়কি দিয়ে গাঁথুনি করা হয়েছিল। ব্রিজের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ট্রেন চলাচলের কারণে চুন-সুড়কির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে ছাইয়ের মতো হয়ে গিয়েছিল।

ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ার ১৫২ বছর অতিক্রম করেছে। ৫২ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। কোনো সংস্কার হয়নি।

৪ স্প্যানের ৫ পিলারের ওপরে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের লম্বা ব্রিজ দিয়ে ২৫ এক্সেল লোড নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। অতিরিক্ত ট্রেন চলাচলের কারণে ইটের দেয়াল ও আরসিসি বেডব্লকে ফাটল ধরেছিল।

এতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে স্বল্প গতি ও ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন পারাপার হতো। এতে সময় অপচয় হতো আবার শিডিউল বিপর্যয় ঘটতো। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫৪ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হলো।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সেতু প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় সব ব্রিজগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ যে ব্রিজগুলো রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করা হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে সবগুলো ব্রিজ সংস্কার করা হবে।

উল্লেখ্য ১৮৭৪ সালে রেলপথটি নির্মিত হওয়ার পর ভারতের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও শিয়ালদহের ট্রেন চলাচল করত। ওই সময়ে দার্জিলিং মেইল নামে একটি ট্রেন এ রুটে চলাচল করত। বর্তমানে ঈশ্বরদী-সান্তাহার সেকশনে ব্রডগেজ ও মিটারগেজের ৪৪টি যাত্রীবাহী আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল করে। যার মধ্যে ২৪টি ঢাকার দিকে যায়।