২০২৭ সাল থেকে পাঠ্যবইয়ে থাকবে জুলাই অভ্যুত্থান ও হাসিনা সরকারের নানা বিষয় : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই-অগাস্টের গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের নানা বিষয় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারের উদ্যোগের কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, জুলাই শহী জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সংসদে তার পক্ষে উত্তর দেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকেও আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় পড়ার সুযোগ পাবে, বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, জুলাই-আগস্ট মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংঘটিত গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে একাধিক বিষয়বস্তু পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি উপযোগী করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় অধ্যয়ন করার সুযোগ পাবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে বিধায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে। পিইডিপি-৫ অনুমোদন সাপেক্ষে এ প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা এবং সংগীতচর্চা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ইবতেদায়িসহ দেশের সব মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ২০২৬-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মিড-ডে মিল চালু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের ‘স্বাস্থ্য ও খাদ্য’কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সহায়তা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি (সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) কর্মসূচির আওতায় ‘মাদরাসা শিক্ষা উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচি’ (এমইইএসপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালু করা হবে। এর আওতায় ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোও থাকবে।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া প্রশ্ন রেখে বলেছেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যারা অবসরে গেছেন, দীর্ঘদিন যারা এককালীন অবসর ভাতার পূর্ণ অর্থ পাচ্ছেন না। তাদের উক্ত ভাতার অর্থ দ্রুত দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, হলে তা কী?

জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এককালীন কল্যাণ সুবিধার অর্থ দ্রুত দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ১৯৯০ সালের ২৮ নম্বর আইন ও প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ অনুযায়ী পরিচালিত একটি আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর মূল বেতন থেকে মাসিক শতাংশ হারে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ১ মে ২০২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদনকারী ৪২ হাজার ৯৩৮ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের চাকরিকালে মূল বেতন থেকে কর্তন করা চাঁদার অর্থ বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬ টাকা আইবাস++ এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। আরও প্রায় ১৩ হাজার আবেদনকারীকে কর্তন করা চাঁদার অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সমস্যা সমাধানে চলতি বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় ও বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রবিধানমালা অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কল্যাণ ট্রাস্টে বর্তমানে প্রতি মাসে চাঁদা বাবদ প্রায় ৫৪ কোটি টাকা এবং স্থায়ী আমানত ও চলতি হিসাবের সুদ বাবদ প্রায় ৩ কোটি টাকাসহ মোট ৫৭ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। ফলে মাসিক ঘাটতি প্রায় ২৭ কোটি এবং বার্ষিক ঘাটতি প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে এককালীন ও নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ, ট্রেজারি বন্ড, আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং আইবাস++ এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দ্রুত অর্থ পরিশোধব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অর্থের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের ডিজিটাল ডিভাইস প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ উদ্যোগটি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ ধারণাটি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।’

মন্ত্রী বলেন, কর্মসূচিটির এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন হয়নি। ফলে ট্যাব বিতরণ শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখও সরকার নির্ধারণ করেনি।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও সমপর্যায়ের শিক্ষায় প্রস্তাবিত এ উদ্যোগটি মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ‘শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা কর্মসূচি’, প্রস্তাবিত ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ’ প্রকল্প এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ‘নেক্সটজেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মসূচিসহ’ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। প্রস্তাবিত পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে ট্যাব ক্রয় ও বিতরণ শুরু হতে পারে।
ডিজিটাল ডিভাইসের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লাইস’ প্রকল্পের আওতায় ৫৯ হাজার ১৭০ জন শিক্ষককে ব্লেন্ডেড লার্নিং প্রশিক্ষণ এবং ২৯ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের আওতায় ৫ লাখ ২১ হাজার ১১২ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত নেক্সটজেন কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসককে দেশে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ১৩১ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকের সংখ্যা ও তাদের প্রয়োজন নিরূপণ, ডিভাইসের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত, ইন্টারনেট সংযোগ, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ও ডিভাইসের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা কর্মসূচির অনুমোদন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এসব পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

রাজশাহী-৫ আসনের সরকারি দলের এমপি নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে।

এ কারণে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তিনি বলেন, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বা পিইডিপি-৫ অনুমোদন পেলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা ও সংগীত বিষয় চালুর সরকারের পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৭৩টি। এসব বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের এমপি সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঝরে পড়া কমাতে ‘স্কুল ফিডিং’, উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সারাদেশের ১৫০টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩৪৯ উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাগ, জুতা ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সি শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে ৮ হাজার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

সাতক্ষীরা-২ আসনের বিরোদীদলীয় এমপি মো. আব্দুল খালেক সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সুবিধার আওতায় এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আসবে কি না।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসা এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা বা সংসদ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এলে তখন বিষয়টি আলোচনা করা যাবে।

নীলফামারী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ওবায়দুল্লাহ সালাফীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে ১ হাজার ৭৮৩টি কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের আওতায় এসেছে, বলেন তিনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আমিরাতে বেনজীর, ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

২০২৭ সাল থেকে পাঠ্যবইয়ে থাকবে জুলাই অভ্যুত্থান ও হাসিনা সরকারের নানা বিষয় : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই-অগাস্টের গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের নানা বিষয় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারের উদ্যোগের কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, জুলাই শহী জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সংসদে তার পক্ষে উত্তর দেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকেও আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় পড়ার সুযোগ পাবে, বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, জুলাই-আগস্ট মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংঘটিত গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে একাধিক বিষয়বস্তু পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি উপযোগী করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় অধ্যয়ন করার সুযোগ পাবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে বিধায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে। পিইডিপি-৫ অনুমোদন সাপেক্ষে এ প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা এবং সংগীতচর্চা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ইবতেদায়িসহ দেশের সব মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ২০২৬-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মিড-ডে মিল চালু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের ‘স্বাস্থ্য ও খাদ্য’কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সহায়তা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি (সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) কর্মসূচির আওতায় ‘মাদরাসা শিক্ষা উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচি’ (এমইইএসপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালু করা হবে। এর আওতায় ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোও থাকবে।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া প্রশ্ন রেখে বলেছেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যারা অবসরে গেছেন, দীর্ঘদিন যারা এককালীন অবসর ভাতার পূর্ণ অর্থ পাচ্ছেন না। তাদের উক্ত ভাতার অর্থ দ্রুত দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, হলে তা কী?

জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এককালীন কল্যাণ সুবিধার অর্থ দ্রুত দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ১৯৯০ সালের ২৮ নম্বর আইন ও প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ অনুযায়ী পরিচালিত একটি আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর মূল বেতন থেকে মাসিক শতাংশ হারে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ১ মে ২০২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদনকারী ৪২ হাজার ৯৩৮ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের চাকরিকালে মূল বেতন থেকে কর্তন করা চাঁদার অর্থ বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬ টাকা আইবাস++ এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। আরও প্রায় ১৩ হাজার আবেদনকারীকে কর্তন করা চাঁদার অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সমস্যা সমাধানে চলতি বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় ও বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রবিধানমালা অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কল্যাণ ট্রাস্টে বর্তমানে প্রতি মাসে চাঁদা বাবদ প্রায় ৫৪ কোটি টাকা এবং স্থায়ী আমানত ও চলতি হিসাবের সুদ বাবদ প্রায় ৩ কোটি টাকাসহ মোট ৫৭ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। ফলে মাসিক ঘাটতি প্রায় ২৭ কোটি এবং বার্ষিক ঘাটতি প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে এককালীন ও নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ, ট্রেজারি বন্ড, আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং আইবাস++ এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দ্রুত অর্থ পরিশোধব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অর্থের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের ডিজিটাল ডিভাইস প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ উদ্যোগটি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ ধারণাটি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।’

মন্ত্রী বলেন, কর্মসূচিটির এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন হয়নি। ফলে ট্যাব বিতরণ শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখও সরকার নির্ধারণ করেনি।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও সমপর্যায়ের শিক্ষায় প্রস্তাবিত এ উদ্যোগটি মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ‘শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা কর্মসূচি’, প্রস্তাবিত ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ’ প্রকল্প এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ‘নেক্সটজেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মসূচিসহ’ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। প্রস্তাবিত পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে ট্যাব ক্রয় ও বিতরণ শুরু হতে পারে।
ডিজিটাল ডিভাইসের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লাইস’ প্রকল্পের আওতায় ৫৯ হাজার ১৭০ জন শিক্ষককে ব্লেন্ডেড লার্নিং প্রশিক্ষণ এবং ২৯ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের আওতায় ৫ লাখ ২১ হাজার ১১২ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত নেক্সটজেন কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসককে দেশে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ১৩১ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকের সংখ্যা ও তাদের প্রয়োজন নিরূপণ, ডিভাইসের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত, ইন্টারনেট সংযোগ, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ও ডিভাইসের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা কর্মসূচির অনুমোদন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এসব পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

রাজশাহী-৫ আসনের সরকারি দলের এমপি নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে।

এ কারণে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তিনি বলেন, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বা পিইডিপি-৫ অনুমোদন পেলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা ও সংগীত বিষয় চালুর সরকারের পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৭৩টি। এসব বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের এমপি সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঝরে পড়া কমাতে ‘স্কুল ফিডিং’, উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সারাদেশের ১৫০টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩৪৯ উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাগ, জুতা ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সি শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে ৮ হাজার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

সাতক্ষীরা-২ আসনের বিরোদীদলীয় এমপি মো. আব্দুল খালেক সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সুবিধার আওতায় এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আসবে কি না।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসা এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা বা সংসদ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এলে তখন বিষয়টি আলোচনা করা যাবে।

নীলফামারী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ওবায়দুল্লাহ সালাফীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে ১ হাজার ৭৮৩টি কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের আওতায় এসেছে, বলেন তিনি।