Dhaka শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচিবালয়কে প্লাস্টিক মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে : পরিবেশমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • ২৫২ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশ সচিবালয়কে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের একশ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ১০০ (২৫ জানুয়ারি-৩০ জুন) কর্মদিবসের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনায় নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ, বন, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, সচিবালয়ে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক (একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক) ফ্রি ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হবে।

বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক দূষণ, পাহাড় কাটা ও জলাধার ভরাট রোধসহ পরিবেশ সুশাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কর্মপরিকল্পনা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সদিচ্ছা এবং অঙ্গীকারের প্রতিফলন হবে, যোগ করেন মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা তুলে ধরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব ফারহিনা আহমেদ বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমি রক্ষার্থে সরকারি নির্মাণে ১০০ শতাংশ ব্লক ব্যবহারে সংশোধিত রোডম্যাপ অনুমোদন। বায়ুদূষণের প্রতিটি উৎস থেকে সৃষ্ট দূষণ মোকাবিলায় ন্যূনতম একটি করে কার্যক্রম গ্রহণ। বায়ুদূষণ রোধে দেশব্যাপী ন্যূনতম ৫০০ অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদসহ কর্মকর্তারা।

১০০ কর্মদিবসের অগ্রাধিকার ঘোষণা করেন সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা অগ্রাধিকারগুলো হলো— প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সার্বিকভাবে বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বায়ু দূষণে প্রথম দিকে থাকে। পাশাপাশি পানি, প্লাস্টিক ও শব্দ দূষণ ঘটছে। এর মধ্যে পরিবেশ ও বন আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জলবায়ু আমাদের হাতে নাই। আমরা মানুষের সঙ্গে সৎ হতে চাই, তাই শুরুতেই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে নিচ্ছি। জবাবদিহিতার জায়গা নিশ্চিত করতে চাই, তাই এই কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, জনবল ও প্রশিক্ষণ কাঠামো ঠিক করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়াও যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক কাজ করছেন তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে ইটভাটা ম্যাপিং করা হবে ও দূষণ বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সাবের হোসেন আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার ৯০ ভাগ কমানো হবে। এছাড়াও তিন মাসের মধ্যে ইপিআর ও ইটিপি নির্ধারণ করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইটভাটার কারণে প্রতি বছর ১৩ কোটি মেট্রিক টন কৃষিজমি হারাচ্ছি। বর্তমানে মাটি পুড়িয়ে ২৫০ কোটি ইট তৈরি হচ্ছে আর ৩০০ কোটি টন পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট তৈরি হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি ব্লক ইটে চলে যাব। এর আগে ২০২৪ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ইটভাটা বন্ধ করা হবে যাতে এর মধ্যে ব্লক ইটের উৎপাদন বাড়ে। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে নদী দূষণ বের করা হবে।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কেরাণীগঞ্জে অটোরিকশাচালককে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

সচিবালয়কে প্লাস্টিক মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে : পরিবেশমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশ সচিবালয়কে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের একশ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ১০০ (২৫ জানুয়ারি-৩০ জুন) কর্মদিবসের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনায় নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ, বন, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, সচিবালয়ে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক (একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক) ফ্রি ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হবে।

বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক দূষণ, পাহাড় কাটা ও জলাধার ভরাট রোধসহ পরিবেশ সুশাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কর্মপরিকল্পনা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সদিচ্ছা এবং অঙ্গীকারের প্রতিফলন হবে, যোগ করেন মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা তুলে ধরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব ফারহিনা আহমেদ বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমি রক্ষার্থে সরকারি নির্মাণে ১০০ শতাংশ ব্লক ব্যবহারে সংশোধিত রোডম্যাপ অনুমোদন। বায়ুদূষণের প্রতিটি উৎস থেকে সৃষ্ট দূষণ মোকাবিলায় ন্যূনতম একটি করে কার্যক্রম গ্রহণ। বায়ুদূষণ রোধে দেশব্যাপী ন্যূনতম ৫০০ অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদসহ কর্মকর্তারা।

১০০ কর্মদিবসের অগ্রাধিকার ঘোষণা করেন সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা অগ্রাধিকারগুলো হলো— প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সার্বিকভাবে বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বায়ু দূষণে প্রথম দিকে থাকে। পাশাপাশি পানি, প্লাস্টিক ও শব্দ দূষণ ঘটছে। এর মধ্যে পরিবেশ ও বন আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জলবায়ু আমাদের হাতে নাই। আমরা মানুষের সঙ্গে সৎ হতে চাই, তাই শুরুতেই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে নিচ্ছি। জবাবদিহিতার জায়গা নিশ্চিত করতে চাই, তাই এই কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, জনবল ও প্রশিক্ষণ কাঠামো ঠিক করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়াও যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক কাজ করছেন তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে ইটভাটা ম্যাপিং করা হবে ও দূষণ বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সাবের হোসেন আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার ৯০ ভাগ কমানো হবে। এছাড়াও তিন মাসের মধ্যে ইপিআর ও ইটিপি নির্ধারণ করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইটভাটার কারণে প্রতি বছর ১৩ কোটি মেট্রিক টন কৃষিজমি হারাচ্ছি। বর্তমানে মাটি পুড়িয়ে ২৫০ কোটি ইট তৈরি হচ্ছে আর ৩০০ কোটি টন পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট তৈরি হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি ব্লক ইটে চলে যাব। এর আগে ২০২৪ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ইটভাটা বন্ধ করা হবে যাতে এর মধ্যে ব্লক ইটের উৎপাদন বাড়ে। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে নদী দূষণ বের করা হবে।’