Dhaka রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংযোগ সড়ক না থাকায় অচল ৩৪ কোটি টাকার সেতু

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্বপ্নের সেতু, তবুও খেয়া নৌকায় পারাপার। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের বাসিন্দা। সংযোগ সড়কের জটিলতায় গত ৪ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। দীর্ঘদিনেও সেতুটি চালু না হওয়ায় সুফল থেকে বঞ্চিত স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে যমুনা সেতুর দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর ২০১৮ সালের দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ৩৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স এবং মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণের কাজ পায়।

প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ ২০২২ সালে সম্পূর্ণ হয়; কিন্তু সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। এই সেতুটি মানিকগঞ্জ থেকে যমুনা সেতুর দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এতে শুধু মানিকগঞ্জ নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এখনো যান চলাচল শুরু হয়নি। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মিত হলে এখনো অবহেলিত রয়েছে ওই এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ আটকে থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে। কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারছেন না।

সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সংসদ সদস্যের স্বজনেরা দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অবৈধ ড্রেজিং ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মণ্ডল বলেন, ব্রিজ নির্মাণের চার বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো সমাধান হয়নি।

সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, সড়কটি চালু হলে মানিকগঞ্জ থেকে যমুনা সেতুর দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম লুৎফর রহমান বলেন, প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বালু ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম লুৎফর রহমান বলেন, সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরুর লক্ষ্যে প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এরইমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বালু ফেলে ভরাট শেষে কার্পেটিং করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলীকে এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা যায়।

আবহাওয়া

স্বামী জামিন পাওয়ায় এজলাসেই বিষপান করলেন স্ত্রী

সংযোগ সড়ক না থাকায় অচল ৩৪ কোটি টাকার সেতু

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্বপ্নের সেতু, তবুও খেয়া নৌকায় পারাপার। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের বাসিন্দা। সংযোগ সড়কের জটিলতায় গত ৪ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। দীর্ঘদিনেও সেতুটি চালু না হওয়ায় সুফল থেকে বঞ্চিত স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে যমুনা সেতুর দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর ২০১৮ সালের দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ৩৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স এবং মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণের কাজ পায়।

প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ ২০২২ সালে সম্পূর্ণ হয়; কিন্তু সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। এই সেতুটি মানিকগঞ্জ থেকে যমুনা সেতুর দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এতে শুধু মানিকগঞ্জ নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এখনো যান চলাচল শুরু হয়নি। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মিত হলে এখনো অবহেলিত রয়েছে ওই এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ আটকে থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে। কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারছেন না।

সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সংসদ সদস্যের স্বজনেরা দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অবৈধ ড্রেজিং ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মণ্ডল বলেন, ব্রিজ নির্মাণের চার বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো সমাধান হয়নি।

সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, সড়কটি চালু হলে মানিকগঞ্জ থেকে যমুনা সেতুর দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম লুৎফর রহমান বলেন, প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বালু ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম লুৎফর রহমান বলেন, সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরুর লক্ষ্যে প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এরইমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বালু ফেলে ভরাট শেষে কার্পেটিং করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলীকে এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা যায়।