Dhaka বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকদের ওপর হামলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ

চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা ও বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার প্রতিবাদ এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

বুধবার (২০ মে) রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজার সংলগ্ন একটি স্কুল মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দাবি, রাতের আঁধারে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাঠে পার্কিং করা বাসগুলোর ওপর হঠাৎ চড়াও হয়। তারা একে একে অন্তত ১৫টি বাস ভাঙচুর করে এবং বাধা দিতে গেলে প্রায় ২০ শ্রমিককে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তবে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, আহত অবস্থায় ১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের কোনো বাস টার্মিনাল ছেড়ে যায়নি। আকস্মিক এই বাস ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তবে চাঁদপুর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য রুটের দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. হান্নান (২৮), আকরাম হোসেন (৩০), আমজাদ হোসেন (৩০), ইমান হোসেন (২৩), নাহিদ (২০), রেজাউল করিম (৩৬), আবুল হোসেন (৪১), হৃদয় হোসেন (২৫), মো. সুমন (৪৫), আকাশ (২০), শাহআলম (২৬) ও রিদয় হোসেন (২৪)।

হামলায় আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকরা জানান, স্কুলমাঠে রাতে বাসের ভেতর তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় আচমকা একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। তারা বাসের জানালার কাচ ও বডি ভাঙচুর করার পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের বেধড়ক মারধর করে।

বোগদাদ পরিবহনের সুপারভাইজার ইউসুফ ও ওমর ফারুকসহ কয়েকজন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমাদের এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

হামলার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে বিচার না হওয়া পর্যন্ত কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের সব বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

বলাখাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী বলেন, অন্ধকারের মধ্যে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে যাওয়ায় স্থানীয়রাও হতবাক হয়ে পড়েন।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং রুটে চলাচলের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের কোনো গাড়ি রাস্তায় নামবে না।

প্রসঙ্গত, বলাখাল বাজারে বাস স্টপেজের দাবিতে বোগদাদ ও আইদি পরবিহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শিক্ষাথীরাসহ এলাকাবাসী। বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকে বাকিলা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অনুরোধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বোগদাদ ও আইদি পরবিহনের বাসগুলো আটকে রেখে অন্য সব যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বোগদাদ ও আইদি বাস বলাখাল জে এন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে রাখা হয়। আন্দোলনকারীরাও সড়ক ছেড়ে চলে যায়। সন্ধ্যার পর কে বা কারা অন্ধকারে বাসগুলোতে হামলা চালায়।

আবহাওয়া

শ্রমিকদের ওপর হামলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ

প্রকাশের সময় : ০১:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা ও বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার প্রতিবাদ এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

বুধবার (২০ মে) রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজার সংলগ্ন একটি স্কুল মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দাবি, রাতের আঁধারে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাঠে পার্কিং করা বাসগুলোর ওপর হঠাৎ চড়াও হয়। তারা একে একে অন্তত ১৫টি বাস ভাঙচুর করে এবং বাধা দিতে গেলে প্রায় ২০ শ্রমিককে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তবে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, আহত অবস্থায় ১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের কোনো বাস টার্মিনাল ছেড়ে যায়নি। আকস্মিক এই বাস ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তবে চাঁদপুর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য রুটের দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. হান্নান (২৮), আকরাম হোসেন (৩০), আমজাদ হোসেন (৩০), ইমান হোসেন (২৩), নাহিদ (২০), রেজাউল করিম (৩৬), আবুল হোসেন (৪১), হৃদয় হোসেন (২৫), মো. সুমন (৪৫), আকাশ (২০), শাহআলম (২৬) ও রিদয় হোসেন (২৪)।

হামলায় আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকরা জানান, স্কুলমাঠে রাতে বাসের ভেতর তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় আচমকা একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। তারা বাসের জানালার কাচ ও বডি ভাঙচুর করার পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের বেধড়ক মারধর করে।

বোগদাদ পরিবহনের সুপারভাইজার ইউসুফ ও ওমর ফারুকসহ কয়েকজন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমাদের এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

হামলার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে বিচার না হওয়া পর্যন্ত কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের সব বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

বলাখাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী বলেন, অন্ধকারের মধ্যে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে যাওয়ায় স্থানীয়রাও হতবাক হয়ে পড়েন।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং রুটে চলাচলের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের কোনো গাড়ি রাস্তায় নামবে না।

প্রসঙ্গত, বলাখাল বাজারে বাস স্টপেজের দাবিতে বোগদাদ ও আইদি পরবিহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শিক্ষাথীরাসহ এলাকাবাসী। বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকে বাকিলা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অনুরোধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বোগদাদ ও আইদি পরবিহনের বাসগুলো আটকে রেখে অন্য সব যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বোগদাদ ও আইদি বাস বলাখাল জে এন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে রাখা হয়। আন্দোলনকারীরাও সড়ক ছেড়ে চলে যায়। সন্ধ্যার পর কে বা কারা অন্ধকারে বাসগুলোতে হামলা চালায়।