শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে এবার ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি মিলেছে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১৬ ভরি ২ আনা রূপা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে গণনা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনার কাজে জেলা প্রশাসক, এডিসি, ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাদের প্রতি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি রুপি ৬০ রুপি, সৌদি রিয়াল ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৮৩ রিঙ্গিত, মার্কিন ডলার ৪ ডলার, নেপালি রুপি ১০০ রুপি, ওমানি মুদ্রা ১০০০ বায়সা ও ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার ২৫০ দিনার, তুর্কি লিরা ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ডং ১০০০ ডং, জাপানি ইয়েন ১০০০ ইয়েন, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০ পাউন্ড, মিশরীয় পাউন্ড ১০ পাউন্ড, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১ ডলার। এর মধ্যে ভারতীয় রুপির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২৪৮ রুপি।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। এসব পশুর অনেকগুলো জবাই করে লঙ্গরখানায় খাওয়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে মাজারের দানের অর্থসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংগৃহীত অর্থ রাতেই ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।

এর আগে নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর দুই দফা টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথমবার স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় গত ২২ জুন দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা। এরপর দ্বিতীয়বার ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। দুই দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৭০২ টাকা। এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।

প্রায় ৩৪ দিন পর এবার দানবাক্স খোলায় আগের দুই দফার তুলনায় অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এবার ডেগ, ছেগ ও দানবাক্সের হিসাব মিলিয়ে পাওয়া অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা পৃথকভাবে হিসাব দিয়েছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে এবার ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি মিলেছে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১৬ ভরি ২ আনা রূপা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে গণনা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনার কাজে জেলা প্রশাসক, এডিসি, ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাদের প্রতি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি রুপি ৬০ রুপি, সৌদি রিয়াল ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৮৩ রিঙ্গিত, মার্কিন ডলার ৪ ডলার, নেপালি রুপি ১০০ রুপি, ওমানি মুদ্রা ১০০০ বায়সা ও ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার ২৫০ দিনার, তুর্কি লিরা ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ডং ১০০০ ডং, জাপানি ইয়েন ১০০০ ইয়েন, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০ পাউন্ড, মিশরীয় পাউন্ড ১০ পাউন্ড, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১ ডলার। এর মধ্যে ভারতীয় রুপির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২৪৮ রুপি।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। এসব পশুর অনেকগুলো জবাই করে লঙ্গরখানায় খাওয়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে মাজারের দানের অর্থসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংগৃহীত অর্থ রাতেই ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।

এর আগে নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর দুই দফা টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথমবার স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় গত ২২ জুন দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা। এরপর দ্বিতীয়বার ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। দুই দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৭০২ টাকা। এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।

প্রায় ৩৪ দিন পর এবার দানবাক্স খোলায় আগের দুই দফার তুলনায় অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এবার ডেগ, ছেগ ও দানবাক্সের হিসাব মিলিয়ে পাওয়া অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা পৃথকভাবে হিসাব দিয়েছেন।