Dhaka মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‌্যাব আগের মতো থাকছে না, নামও বদলাতে পারে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

র‌্যাব আগের কাঠামোয় আর থাকছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীটির কার্যক্রম আরো সুনির্দিষ্ট করা হবে, এমনকি নামও বদলে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, এক অর্থে সেইভাবে র‌্যাব থাকছে না। কারণ গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, র‌্যাবের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন হবে।

তিনি বলেন, এতদিন র‌্যাব পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি অপশনের অধীনে কাজ করছিল। নতুন আইনে র‌্যাবের সবকিছু আরো ওয়েল ডিফাইনড থাকবে। সুতরাং এক অর্থে র‌্যাব আর আগের রূপে থাকছে না। নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে অ্যাক্টিভলি কাজ করছেন।

র‌্যাব বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে আগের মতই থাকছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গতকাল র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল এবং ঘটনাচক্রে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। র‌্যাব বিলুপ্তি নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, যে দাবি হয়েছিল, এখনও এক অর্থে র‌্যাব আগের মতো করে থাকছে না। আমি আবারও বলছি, আগের মতো কেন বলছি? কারণ গতকালই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন, আপনারা নিউজ করেছেন, র‌্যাবের জন্য একটা নতুন আইন হবে।

তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত র‌্যাব পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা অপশনের অধীনে কাজ করছিল। সো একটা পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে। যে আইনের মধ্যে র‌্যাবের সবকিছু অনেক বেশি ওয়েল ডিফাইনড থাকবে। সুতরাং র‌্যাব বিলুপ্তির যে দাবি বিএনপি করেছিল, এক অর্থে, আবারও বলছি, এক অর্থে সেইভাবে র‌্যাব থাকছে না এবং নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। সম্ভবত বলছি কারণ এই ধরনের অপশন গতকাল মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। এবং উনি সেটাও জানিয়েছেন যে, এই আইনটা করার জন্য তিনি অ্যাক্টিভলি কাজ করছেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের যে বৈঠক ছিল, সেখানে আমাদের সম্পাদকরা-মানে আমাদের এই সমসাময়িক অনেক ইস্যু এনেছিলেন। এর মধ্যে ব্যাংকের আইনের প্রসঙ্গ এনে খেলাপি ঋণের আলাপ এনেছিলেন। তো তখন আমি সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে এটা বলেছিলাম যে, একটা আইন আসলে কীভাবে প্রযুক্ত হয়, সেটি ডিপেন্ড করে ওই সরকারের চিন্তা কী।

তিনি বলেন, এই সরকার খেলাপি ঋণকে পেট্রোনাইজ করবে না। হাসিনার সময়ে যেভাবে লুট হয়েছে, সেটা শেখ হাসিনার অ্যান্ডোর্সমেন্টে হয়েছে। ঠিক একইভাবে র‌্যাব যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মানবাধিকারদের মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য, সেটা হয়েছিল শেখ হাসিনার কারণে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে হয়নি, কেউ কেউ বলবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তো যেহেতু দলীয় সরকার না, এখন দলীয় সরকার। একই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলেছেন যে, মর্নিং শোজ দ্য ডে, তিন মাসে কী হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা বলছি একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, আবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, সে একটা বাহিনীকে কোনোভাবে ব্যবহার করবে না। তবে একটা রাষ্ট্রে একটা এলিট ফোর্স থাকা দরকার আছে। কারণ র‌্যাবের সমালোচনা যদি সরিয়ে রাখি, আমরা দেখবো র‌্যাব অত্যন্ত ক্যাপাবলভাবে নানা ধরনের সন্ত্রাস তারা মোকাবিলা করতে পেরেছে, অপরাধ মোকাবিলা করতে পেরেছে, যেটা আমাদের কনভেনশনাল পুলিশ বাহিনী পেরে ওঠেনি।

উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে র‌্যাবকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তা হয়নি। এই সরকার খেলাপি ঋণকে পেট্রোনাইজ করবে না, তেমনি কোনো বাহিনীকে দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনও করাবে না। তবে তিনি জানান, রাষ্ট্রের একটি এলিট ফোর্স থাকা দরকার। র‌্যাবের সমালোচনা সরিয়ে রাখলে দেখবো, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় র‌্যাব অত্যন্ত ক্যাপাবল। আমাদের কনভেনশনাল পুলিশ যেটা পারেনি, সেটা তারা পেরেছে। তাদের ইকুইপমেন্ট ও প্রশিক্ষণ ভালো। তাই এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র‌্যাব নামে হোক বা অন্য নামে। ওয়েল ডিফাইনড আইন থাকলে আগের ঝুঁকিগুলো আর থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে খেলাপি ঋণ আইনের বিষয় এসেছিল। একটা আইন কীভাবে প্রযুক্ত হয়, তা নির্ভর করে সরকারের চিন্তার ওপর। এই সরকার খেলাপি ঋণ লুটপাট হতে দেবে না।

আবহাওয়া

মাগুরায় বাড়ির পাশে ডোবায় ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

র‌্যাব আগের মতো থাকছে না, নামও বদলাতে পারে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

র‌্যাব আগের কাঠামোয় আর থাকছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীটির কার্যক্রম আরো সুনির্দিষ্ট করা হবে, এমনকি নামও বদলে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, এক অর্থে সেইভাবে র‌্যাব থাকছে না। কারণ গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, র‌্যাবের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন হবে।

তিনি বলেন, এতদিন র‌্যাব পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি অপশনের অধীনে কাজ করছিল। নতুন আইনে র‌্যাবের সবকিছু আরো ওয়েল ডিফাইনড থাকবে। সুতরাং এক অর্থে র‌্যাব আর আগের রূপে থাকছে না। নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে অ্যাক্টিভলি কাজ করছেন।

র‌্যাব বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে আগের মতই থাকছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গতকাল র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল এবং ঘটনাচক্রে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। র‌্যাব বিলুপ্তি নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, যে দাবি হয়েছিল, এখনও এক অর্থে র‌্যাব আগের মতো করে থাকছে না। আমি আবারও বলছি, আগের মতো কেন বলছি? কারণ গতকালই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন, আপনারা নিউজ করেছেন, র‌্যাবের জন্য একটা নতুন আইন হবে।

তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত র‌্যাব পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা অপশনের অধীনে কাজ করছিল। সো একটা পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে। যে আইনের মধ্যে র‌্যাবের সবকিছু অনেক বেশি ওয়েল ডিফাইনড থাকবে। সুতরাং র‌্যাব বিলুপ্তির যে দাবি বিএনপি করেছিল, এক অর্থে, আবারও বলছি, এক অর্থে সেইভাবে র‌্যাব থাকছে না এবং নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। সম্ভবত বলছি কারণ এই ধরনের অপশন গতকাল মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। এবং উনি সেটাও জানিয়েছেন যে, এই আইনটা করার জন্য তিনি অ্যাক্টিভলি কাজ করছেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের যে বৈঠক ছিল, সেখানে আমাদের সম্পাদকরা-মানে আমাদের এই সমসাময়িক অনেক ইস্যু এনেছিলেন। এর মধ্যে ব্যাংকের আইনের প্রসঙ্গ এনে খেলাপি ঋণের আলাপ এনেছিলেন। তো তখন আমি সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে এটা বলেছিলাম যে, একটা আইন আসলে কীভাবে প্রযুক্ত হয়, সেটি ডিপেন্ড করে ওই সরকারের চিন্তা কী।

তিনি বলেন, এই সরকার খেলাপি ঋণকে পেট্রোনাইজ করবে না। হাসিনার সময়ে যেভাবে লুট হয়েছে, সেটা শেখ হাসিনার অ্যান্ডোর্সমেন্টে হয়েছে। ঠিক একইভাবে র‌্যাব যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মানবাধিকারদের মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য, সেটা হয়েছিল শেখ হাসিনার কারণে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে হয়নি, কেউ কেউ বলবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তো যেহেতু দলীয় সরকার না, এখন দলীয় সরকার। একই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলেছেন যে, মর্নিং শোজ দ্য ডে, তিন মাসে কী হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা বলছি একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, আবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, সে একটা বাহিনীকে কোনোভাবে ব্যবহার করবে না। তবে একটা রাষ্ট্রে একটা এলিট ফোর্স থাকা দরকার আছে। কারণ র‌্যাবের সমালোচনা যদি সরিয়ে রাখি, আমরা দেখবো র‌্যাব অত্যন্ত ক্যাপাবলভাবে নানা ধরনের সন্ত্রাস তারা মোকাবিলা করতে পেরেছে, অপরাধ মোকাবিলা করতে পেরেছে, যেটা আমাদের কনভেনশনাল পুলিশ বাহিনী পেরে ওঠেনি।

উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে র‌্যাবকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তা হয়নি। এই সরকার খেলাপি ঋণকে পেট্রোনাইজ করবে না, তেমনি কোনো বাহিনীকে দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনও করাবে না। তবে তিনি জানান, রাষ্ট্রের একটি এলিট ফোর্স থাকা দরকার। র‌্যাবের সমালোচনা সরিয়ে রাখলে দেখবো, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় র‌্যাব অত্যন্ত ক্যাপাবল। আমাদের কনভেনশনাল পুলিশ যেটা পারেনি, সেটা তারা পেরেছে। তাদের ইকুইপমেন্ট ও প্রশিক্ষণ ভালো। তাই এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র‌্যাব নামে হোক বা অন্য নামে। ওয়েল ডিফাইনড আইন থাকলে আগের ঝুঁকিগুলো আর থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে খেলাপি ঋণ আইনের বিষয় এসেছিল। একটা আইন কীভাবে প্রযুক্ত হয়, তা নির্ভর করে সরকারের চিন্তার ওপর। এই সরকার খেলাপি ঋণ লুটপাট হতে দেবে না।