রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতাও চেক করতে পারবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, রেজাল্ট খারাপ করলে ট্যাবুলেশন শিটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতাও চেক করতে পারবে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে যেমন সচেতন আছি, তেমনি খাতা দেখার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানে আছি। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়নে ট্রেনিং দেওয়া হবে। আবার একজন শিক্ষক আগে যেমন অনেক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতেন বা খাতা দেখতেন; সেটা কম দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি।

মন্ত্রী বলেন, আগে খাতা পুনর্মূল্যায়নে শুধু নম্বর গোনা হতো; এখন তা হবে না। প্রকৃতপক্ষেই পুনর্মূল্যায়ন হবে। একজন খাতা দেখে গেলেন, নম্বর দিয়ে গেলেন; আর কেউ দেখলো না, এটা হবে না। পুনর্মূল্যায়ন হবে এবং যা-তা করে খাতা দেখে নম্বর দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল যুগে এখন প্রশ্নপত্র হ্যাকিং হচ্ছে। এবার তো ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। কিন্তু আমাদেরটা হয়নি। আমরা প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে আমাদের যে দুর্বলতা তা কমানোর চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবকিছু পরীক্ষা করেছি, সবকিছু কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা আইন কড়াকড়ি করছি। তিন সেট প্রশ্ন করেছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কিছু হলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা আছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেকোনো বিভ্রান্তিকর নিউজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এহসানুল হক মিলন বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনেক কড়াকড়ি এসেছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। এছাড়াও পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরিবর্তন করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নকলের জন্য খ্যাত ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে। এ পরীক্ষার ২ হাজার ৬৯৭ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে দেশের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্কুল-কলেজগুলোতে ঠিকমতো না পড়ানোয় সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গজিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কোচিংগুলো তখনি হয়, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো পড়ানো হয় না। স্কুল-কলেজের পড়াশোনায় আশানুরূপ রেজাল্ট না পেয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ে ছোটেন। আবার একটা পরীক্ষা হয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীরা বসে থাকে, ভর্তির ক্ষেত্রে দেরি হয়…তখন কিন্তু তাদের কোচিংয়ে পাঠানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে ক্লাসে ভালো পড়ানোর ব্যবস্থা হয়। একটি স্তর থেকে আরেকটি স্তর, কিংবা পরীক্ষাগুলো দ্রুততম সময়ে সাজিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কোচিংবিমুখ করতে চাই। আমরা চাই, রেজাল্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করতে। তাহলেই আর কোচিং ব্যবসা চলবে না। এটা বন্ধ হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতাও চেক করতে পারবে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, রেজাল্ট খারাপ করলে ট্যাবুলেশন শিটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতাও চেক করতে পারবে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে যেমন সচেতন আছি, তেমনি খাতা দেখার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানে আছি। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়নে ট্রেনিং দেওয়া হবে। আবার একজন শিক্ষক আগে যেমন অনেক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতেন বা খাতা দেখতেন; সেটা কম দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি।

মন্ত্রী বলেন, আগে খাতা পুনর্মূল্যায়নে শুধু নম্বর গোনা হতো; এখন তা হবে না। প্রকৃতপক্ষেই পুনর্মূল্যায়ন হবে। একজন খাতা দেখে গেলেন, নম্বর দিয়ে গেলেন; আর কেউ দেখলো না, এটা হবে না। পুনর্মূল্যায়ন হবে এবং যা-তা করে খাতা দেখে নম্বর দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল যুগে এখন প্রশ্নপত্র হ্যাকিং হচ্ছে। এবার তো ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। কিন্তু আমাদেরটা হয়নি। আমরা প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে আমাদের যে দুর্বলতা তা কমানোর চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবকিছু পরীক্ষা করেছি, সবকিছু কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা আইন কড়াকড়ি করছি। তিন সেট প্রশ্ন করেছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কিছু হলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা আছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেকোনো বিভ্রান্তিকর নিউজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এহসানুল হক মিলন বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনেক কড়াকড়ি এসেছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। এছাড়াও পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরিবর্তন করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নকলের জন্য খ্যাত ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে। এ পরীক্ষার ২ হাজার ৬৯৭ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে দেশের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্কুল-কলেজগুলোতে ঠিকমতো না পড়ানোয় সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গজিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কোচিংগুলো তখনি হয়, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো পড়ানো হয় না। স্কুল-কলেজের পড়াশোনায় আশানুরূপ রেজাল্ট না পেয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ে ছোটেন। আবার একটা পরীক্ষা হয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীরা বসে থাকে, ভর্তির ক্ষেত্রে দেরি হয়…তখন কিন্তু তাদের কোচিংয়ে পাঠানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে ক্লাসে ভালো পড়ানোর ব্যবস্থা হয়। একটি স্তর থেকে আরেকটি স্তর, কিংবা পরীক্ষাগুলো দ্রুততম সময়ে সাজিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কোচিংবিমুখ করতে চাই। আমরা চাই, রেজাল্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করতে। তাহলেই আর কোচিং ব্যবসা চলবে না। এটা বন্ধ হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।