রাজধানীতে ওসি ও এসআইকে কোপাল ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর আদাবরে ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে চাপাতির কোপে আহত হয়েছেন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি করলে রুবেল ও আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবদ্ধ হয়। পরে ওই দুজনসহ কাশেম ও মো. জয় নামে আরো দুজনকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালালে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ওসি মো. জাহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কলটি রিসিভ করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ। তিনি জানান, বেড়িবাঁধ এলাকার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছিল। অভিযান চলাকালে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসি মো. জাহিদুল ইসলামসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। অভিযান এখনো চলমান।

মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আদাবর থানা পুলিশ বেড়িবাঁধ এলাকার একটি কক্ষে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি ও একজন এসআই আহত হয়েছেন। হামলার মুখে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলেন— চোরা রুবেল ও কানা আমির। আটক হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে রুবেল, আমির ছাড়াও আছেন কাশেম ও জয়।

এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে বিকাশের দোকানিকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় কিশোর গ্যাং কবজি কাটা গ্রুপ।

ভুক্তভোগী শফিকুলের স্বজন মো. মুসলিম বলেন, আমার ভাই বাসা থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে দোকানে আসে। সে দোকান খুলে বসা মাত্রই ৪ থেকে ৫ জন চাপাতি হাতে দোকানে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ডান হাতে কোপ দিয়ে টাকা ও বিকাশ ব্যবহার করার মোবাইল নিয়ে যায়।

কবজি কাটা গ্যাংটি আদাবর ১০, ১৭, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং এবং মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান, নবীনগর, চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাজধানীতে ওসি ও এসআইকে কোপাল ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের সদস্যরা

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর আদাবরে ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে চাপাতির কোপে আহত হয়েছেন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি করলে রুবেল ও আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবদ্ধ হয়। পরে ওই দুজনসহ কাশেম ও মো. জয় নামে আরো দুজনকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালালে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ওসি মো. জাহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কলটি রিসিভ করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ। তিনি জানান, বেড়িবাঁধ এলাকার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছিল। অভিযান চলাকালে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসি মো. জাহিদুল ইসলামসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। অভিযান এখনো চলমান।

মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আদাবর থানা পুলিশ বেড়িবাঁধ এলাকার একটি কক্ষে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি ও একজন এসআই আহত হয়েছেন। হামলার মুখে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলেন— চোরা রুবেল ও কানা আমির। আটক হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে রুবেল, আমির ছাড়াও আছেন কাশেম ও জয়।

এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে বিকাশের দোকানিকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় কিশোর গ্যাং কবজি কাটা গ্রুপ।

ভুক্তভোগী শফিকুলের স্বজন মো. মুসলিম বলেন, আমার ভাই বাসা থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে দোকানে আসে। সে দোকান খুলে বসা মাত্রই ৪ থেকে ৫ জন চাপাতি হাতে দোকানে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ডান হাতে কোপ দিয়ে টাকা ও বিকাশ ব্যবহার করার মোবাইল নিয়ে যায়।

কবজি কাটা গ্যাংটি আদাবর ১০, ১৭, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং এবং মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান, নবীনগর, চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।