Dhaka মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘‘উইন-উইন’’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি চাইলেই বাতিল করা যায় না। এই চুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।

সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ চুক্তিতেই রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানাই।

তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।

বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘‘ওভার ক্যাপাসিটি’’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন। আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত-তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।

চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

বরিশালে বাসচাপায় প্রাণ হারালেন দাদি-নাতনি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০১:২১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘‘উইন-উইন’’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি চাইলেই বাতিল করা যায় না। এই চুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।

সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ চুক্তিতেই রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানাই।

তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।

বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘‘ওভার ক্যাপাসিটি’’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন। আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত-তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।

চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।